Advertisement
E-Paper

‘হামলার প্রত্যুত্তর জনগণ দেবে’, পৌনে চার ঘণ্টা পরে প্রতীকের সল্টলেকের দফতর থেকে বেরিয়ে বললেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা

মমতা আইপ্যাকের দফতরের বাইরে দাঁড়িয়ে জানিয়ে দেন, বিরুদ্ধে বৃহস্পতিবার বিকেলে রাজ্য জুড়ে সব ব্লকে মিছিল, ওয়ার্ডে প্রতিবাদ মিছিল হবে ‘লুটের বিরুদ্ধে’।

আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ০৮ জানুয়ারি ২০২৬ ১৩:৪৩
সল্টলেকে আইপ্যাকের দফতরের সামনে সাংবাদিকদের মুখোমুখি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

সল্টলেকে আইপ্যাকের দফতরের সামনে সাংবাদিকদের মুখোমুখি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ছবি: সংগৃহীত।

ইডির তল্লাশির মাঝে আইপ্যাক সংস্থার কর্ণধার প্রতীক জৈনের বাড়ির পরে বৃহস্পতিবার সংস্থার সল্টলেকের দফতরেও পৌঁছে যান মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেখান থেকে প্রায় পৌনে এক ঘণ্টা পরে বেরিয়ে এসে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন মমতা। তিনি জানান, তাঁর দলের নির্বাচনী কৌশলের তথ্য ‘ট্রান্সফার’ করেছে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা ইডি। তাই তাঁর মতে ইডির এই হানা ‘অপরাধ’। তিনি আঙুল তোলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের দিকে, যাঁর দফতরের অধীনে রয়েছে ইডি। তাঁকে ‘নিয়ন্ত্রণ’ করার কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে। তার পরেই মমতা আবার ঢুকে যান আইপ্যাকের দফতরে। তার আগে বলেন, ‘‘যত ক্ষণ প্রতীক না-আসছেন, যত ক্ষণ প্রতীক এসে অফিসে সেটল না-করছেন, তত ক্ষণ আমি এখানে অপেক্ষা করব।’’ বৃহস্পতিবার বিকেল নাগাদ আইপ্যাকের দফতরে প্রতীক পৌঁছোলে প্রায় পৌনে চার ঘণ্টা পর সেখান থেকে বেরিয়ে যান মমতা। তিনি জানান, এই ‘হামলার প্রত্যুত্তর’ জনগণ দেবে।

সল্টলেকে আইপ্যাকের দফতরে বৃহস্পতিবার দুপুরে তখনও ইডির তল্লাশি চলছে। সংস্থার কর্ণধার প্রতীক জৈনের বাড়ির মতোই আইপ্যাকের অফিস থেকেও ফাইলের গোছা নিয়ে বেরিয়ে যান পুলিশকর্মীরা। সল্টলেকে আইপ্যাকের দফতর যে ভবনে রয়েছে, তার বেসমেন্টে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন মমতা। মুখ্যমন্ত্রী তথা তৃণমূলের সর্বোচ্চ নেত্রী মমতা বলেন, ‘‘ভোটের স্ট্র্যাটেজি ছিনতাই করেছে। এসআইআরের কাজ চলছে। আমার দল মানুষকে সাহায্য করছে। ফরেন্সিক দলের মাধ্যমে আমাদের কাগজ, তথ্য সব ট্রান্সফার করেছে। ভোটের কাজ চলছে। ওরা সব তথ্য ট্রান্সফার করেছে। আমি মনে করি এটা অপরাধ।’’ তিনি জানান, আইপ্যাক শুধু বেসরকারি সংস্থা নয়, সর্বভারতীয় তৃণমূলের ‘অথরাইজ়ড টিম’। তাঁর কথায়, ‘‘দফতর থেকে সব কাগজ নেওয়ার চেষ্টা করেছে। সব টেবিল ফাঁকা। সেই নথি আবার তৈরি করার প্রয়োজন পড়লে অনেক সময় লাগত। তত দিনে ভোট পেরিয়ে যেত। এই কাজ কি ঠিক হল?’’ এর পরেই তিনি আঙুল তোলেন বিজেপির দিকে। তাঁর কথায়, ‘‘বিজেপির মতো এত বড় ডাকাত দেখিনি।’’ আঙুল তুলেছেন ইডির দিকেও। তিনি বলেন, ‘‘আমরা নথিভুক্ত রাজনৈতিক দল। আমরা কর দিই। অডিট হয়। প্রয়োজন থাকলে ইডি আয়কর দফতর থেকে কাগজ নিতে পারত। বিজেপি সবচেয়ে বড় অপরাধী। চোরেদের দল। ওরা বিজেপি-কে নোটিস পাঠায় না। ভোট এলে আয়কর দফতর আমাদের নোটিস পাঠায়।’’

এখানেই থামেননি মমতা। তিনি বলেন, ‘‘ভোর থেকে অপারেশন চালু করেছে। সকাল ৬টার সময়ে এখানে (আইপ্যাকের দফতর) শুরু হয়েছে, যখন অফিসে প্রায় কেউ ছিলেন না। আমাদের সঙ্গে চিটিং করলে, জুয়া খেললে মেনে নেব না।’’ তিনি বিজেপির বিরুদ্ধে সুর চড়িয়ে এর পরে বলেন, ‘‘আমি যদি বিজেপির পার্টি অফিসে হানা দেওয়াই? সেটা ঠিক হবে?’’ তিনি বিজেপি-কে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ‘‘একতরফা কিছু হয় না। এখনও চুপ রয়েছি। এত জ্বলার পরেও সহ্য করছি। এত প্রাণ যাওয়ার পরেও বিচারের অপেক্ষায় রয়েছি। সীমা লঙ্ঘন করেই চলেছে। তোমরা আমাদের তথ্যপ্রযুক্তি দফতরে ঢুকে তথ্য চুরি করেছ। আইপ্যাক আমাদের অথরাইজ করা। আমরা বিজেপির মতো বেআইনি কিছু করি না।’’ তিনি জানান, এটা আসলে তথ্যপ্রযুক্তি ক্ষেত্রকে অপমান। তাঁর প্রশ্ন, ‘‘এটা কি স্বাধীনতার খুন নয়?’’ আইপ্যাকের কর্ণধার এবং তাঁদের দফতরে ইডি অভিযান নিয়ে প্রতিবাদ কর্মসূচির কথাও ঘোষণা করেছেন মমতা। তিনি বলেন, ‘‘বৃহস্পতিবার বিকেলে রাজ্য জুড়ে সব ব্লকে মিছিল, ওয়ার্ডে প্রতিবাদ মিছিল হবে লুটের বিরুদ্ধে।’’

আইপ্যাকের কর্ণধারের সঙ্গে কি কথা হয়েছে মমতার? প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘‘দলের বিভিন্ন বিষয়ে প্রতীককে মাঝেমধ্যে ফোন করি। বিষয়টি জানতাম না প্রথমে। যখন ওকে ফোন করি, ও ধরেনি। পরে খোঁজ নিয়ে জানতে পারি, ওর কাছে ওর ফোন নেই। ইডি ওর ফোন নিয়ে নিয়েছে। তখন মনে হয়, ওরা আমাদের কৌশল নিয়ে নিয়েছে। তার পরেই সেখানে চলে যাই। যখন আমার কেউ বিপদে পড়েন, আমার দায়িত্ব তাঁর পাশে দাঁড়ানো।’’

মুখ্যমন্ত্রী এর পরেই আঙুল তোলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের দিকে। তিনি বলেন, ‘‘এজেন্সি লাগিয়ে আমাদের কাগজ লুট করছে। কৌশল লুট করছে। ডেটা, ভোটার, বাংলা লুট করছে। ভাষা লুট করে। শূন্যতে আসবে (বিজেপি)। প্রধানমন্ত্রী, আপনার উচিত কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে নিয়ন্ত্রণ করা। ওরা আমাদের অর্থনৈতিক কাগজ, হার্ডডিস্ক, কৌশল চুরি করেছে।’’ এর পরে পদক্ষেপ করার হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন মমতা। তিনি বলেন, ‘‘আমি সৌজন্য দেখাই। সহ্য করি। এটা দুর্বলতা নয়। সব লুট করলে, ছিনতাই করলে হজম করব না। আগে সব ডিটেল পাই। তার পর কী পদক্ষেপ করব, জানাব।’’ আই প্যাকের দফতর থেকে ফাইল নিয়ে যাওয়া প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘‘ফাইলগুলি আমাদের। আমরা রেখেছি। আমাদের কাগজ। ছড়িয়েছিটিয়ে পড়েছিল। আমার দলের কাগজ। ফরেন্সিক দল এনে অনেক ট্রান্সফার করেছে। এফআইআর হবে। বহু পরামর্শ আসে আমাদের। সেগুলো জমিয়ে রাখি। ভোটের আগে কাজে লাগাই। অপরাধ করে ওরা নিয়ে নিয়েছে। ওরা ভোটের আগে আমাদের বিপাকে ফেলতে চাইছে, কিন্তু নিশ্চিত করছি, ওরাই বিপদে পড়বে।’’

এসআইআর নিয়েও মমতা কটাক্ষ করেন কেন্দ্রীয় সরকারকে। তিনি জানিয়েছেন, ‘লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সি’ দেখিয়ে ৫৪ লক্ষ ভোটারের নাম কাটা হয়েছে। নোবেলজয়ী অমর্ত্য সেন, অভিনেতা দেব, কবি জয় গোস্বামীকেও নোটিস পাঠানো হয়েছে। বৃহস্পতিবার বিকেলে আইপ্যাকের দফতর থেকে বেরিয়ে যাওয়ার সময় মমতা বলেন, ‘‘হামলার প্রত্যুত্তর জনগণ দেবে। গদি মিডিয়াকে কাজে লাগিয়েছে। গদি মিডিয়ার উপরেও নজর রাখছি। যাঁরা অসত্য কথা বলেছেন, তাঁদের বিরুদ্ধে মানহানির মামলা করার দায়িত্ব আমার।’’

আইপ্যাক-এর দফতরে তল্লাশি চালানোর সময়ে বহুতলটির প্রবেশ এবং বাইরে বেরোনোর গেট সিল করে দেয় কেন্দ্রীয় বাহিনী। মমতা যখন সেখানে পৌঁছোন, দেখা যায়, দু’টি দরজাই বন্ধ। কেন্দ্রীয় বাহিনীর সঙ্গে কথা না বাড়িয়ে বেসমেন্ট দিয়ে লিফ্‌টের দিকে চলে যান মুখ্যমন্ত্রী। তার পরে যান ১১ তলায় আইপ্যাক-এর দফতরে।

ইডি-র দল আইপ্যাক-এর দফতরে যখন থেকে তল্লাশি শুরু করে তখন থেকেই কেন্দ্রীয় বাহিনী ঘিরে রেখেছিল। তার পরেই সেখানে বাহিনী বাড়াতে শুরু করে বিধাননগর পুলিশ কমিশনারেটও। মমতা যাওয়ার পরে কেন্দ্রীয় বাহিনীর সংখ্যা আরও বাড়ে। পাল্লা দিয়ে বাহিনী বাড়ায় বিধাননগর পুলিশও।

বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই প্রতীকের বাড়ি এবং আইপ্যাক-এর দফতরে তল্লাশি অভিযান চালাচ্ছে ইডি। সেই খবর ছড়িয়ে পড়তেই লাউডন স্ট্রিটে প্রতীকের বাড়িতে পৌঁছে যান মমতা। গাড়ি থেকে নেমে তিনি ঢুকে যান প্রতীকের বাড়িতে। কয়েক মিনিট পরে একটি সবুজ রঙের ফাইল হাতে প্রতীকের বাড়ি থেকে বেরিয়ে আসেন তিনি। আইপ্যাক কর্ণধারের বাড়ি থেকে বেরোনোর পরে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “ওরা আমার দলের সমস্ত নথিপত্র বাজেয়াপ্ত করছিল! আমি সেগুলো নিয়ে এসেছি।”

প্রতীকের বাড়ির সামনে থেকেই কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকে নিশানা করে মমতা বলেন, “উনি দেশকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারেন না! আমার দলের নথিপত্র বাজেয়াপ্ত করাচ্ছেন! আমি প্রতীককে ফোন করেছিলাম। ও আমার দলের ইনচার্জ। ওরা হার্ড ডিস্ক, ফোন সব নিয়ে নিচ্ছিল।’’

Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy