E-Paper

বিধায়ক-সভাপতি বিরোধ, হাঁসনের প্রার্থী নিয়ে জল্পনা

দেড় বছরের বেশি সময় পেরিয়েছে। বিধায়ক সঙ্গে একই কর্মসূচিতে ব্লক সভাপতি উপস্থিত আছেন— এমন ঘটনা এলাকার তৃণমূল কর্মীরা মনে করতে পারছেন না।

অপূর্ব চট্টোপাধ্যায় 

শেষ আপডেট: ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১০:৪৫
—প্রতিনিধিত্বমূলক ছবি।

—প্রতিনিধিত্বমূলক ছবি।

আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে বীরভূমের যে কয়েকটি আসনের সম্ভাব্য প্রার্থী ঘিরে চর্চা ও জল্পনা রয়েছে তৃণমূলের অন্দরে, হাঁসন আসনটি সেগুলির অন্যতম। এই চর্চার মূল কারণ, দলের বিধায়ক অশোক চট্টোপাধ্যায় ও রামপুরহাট ২ ব্লক তৃণমূলের সভাপতি সুকুমার মুখোপাধ্যায়ের মধ্যে মতবিরোধ ও দ্বন্দ্ব।

দেড় বছরের বেশি সময় পেরিয়েছে। বিধায়ক সঙ্গে একই কর্মসূচিতে ব্লক সভাপতি উপস্থিত আছেন— এমন ঘটনা এলাকার তৃণমূল কর্মীরা মনে করতে পারছেন না। গত বছর এপ্রিলে তারাপীঠে পুজো দিতে এসে জেলা তৃণমূলের কোর কমিটির আহ্বায়ক অনুব্রত মণ্ডল ব্লক সভাপতি সুকুমার মুখোপাধ্যায়কে বিধায়ক অশোক চট্টোপাধ্যায়ের সঙ্গে বিরোধ মিটিয়ে নেওয়ার বার্তা দেন। তারাপীঠ এলাকায় দলীয় কর্মসূচিতে বিধায়ককে ডাকার পরামর্শও দিয়েছিলেন। সেদিন অবশ্য বিধায়ক উপস্থিত ছিলেন না।

তৃণমূল সূত্রে জানা যাচ্ছে, অনুব্রতের বার্তারও পরেও বিধায়ক-সভাপতি বিরোধ মেটেনি। এমনকি, ২০২৫ সালের ২৮ জুলাই ইলামবাজার থেকে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ৫১ পীঠের আদলে মন্দির নির্মাণের ভার্চুয়াল শিলান্যাস করার সময় তারাপীঠের অনুষ্ঠান মঞ্চে ছিলেন না বিধায়ক অশোক চট্টোপাধ্যায়। দলের কর্মীদের একাংশের দাবি, দলীয় বিধায়কের সঙ্গে ব্লক সভাপতির বিরোধ এতটাই যে, কেউ সামনাসামনিও হতে চান না। এই পরিস্থিতিই হাঁসন কেন্দ্রের সম্ভাব্য প্রার্থী নিয়ে জল্পনা আরও উস্কে দিচ্ছে।

ঘটনা হল, ২০২৪ সালের ২৩ ডিসেম্বর পেশায় চিকিৎসক অশোকের নার্সিং হোমে মৃত্যু হয় রামপুরহাট ২ ব্লকের সাহাপুর পঞ্চায়েতের সদস্য তথা তারাপীঠ মন্দির কমিটির সভাপতি তারাময় মুখোপাধ্যায়ের স্ত্রী সুজাতা মুখোপাধ্যায়ের। চিকিৎসার গাফিলতির অভিযোগে তারাপীঠ, রামপুরহাটে আন্দোলন হয়। তারাময় তৃণমূলের ব্লক সভাপতি সুকুমারের নিকটাত্মীয়। তৃণমূল সূত্রের খবর, ওই ঘটনার পরে অশোকের সঙ্গে সুকুমারের বিরোধ আরও বাড়ে। বিবাদের সূত্রে এলাকায় বিধায়ককে বয়কটের ডাকও দেন তারাপীঠের তৃণমূল কর্মীদের একাংশ। অশোক সে সময় বার বার বলেছিলেন, ‘‘অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় নার্সিংহোমে আনা হয়েছিল সুজাতাকে। চিকিৎসকদের সব চেষ্টা ব্যর্থ হয়।’

জেলার রাজনীতিতে অশোক পরিচিত অনুব্রতের ঘনিষ্ঠ হিসাবে। অনুব্রত নিজে বিরোধ মেটানোর চেষ্টা করলেও তা সফল হয়নি। তার প্রভাব পড়েছে দলের অন্দরে বলে জানাচ্ছেন কর্মীরাই। সুকুমারের দাবি, ‘‘এক জন বিধায়ক পাঁচ বছর ধরে এলাকার মানুষের সঙ্গে থাকেননি, তাঁদের খোঁজ নেননি। তিনিই এখন নিজেই জনবিচ্ছিন্ন।’’ জবাবে অশোক বলেন, ‘‘ভুল কথা। আমার সঙ্গে কারও বিরোধ নেই। আমাকে যখন যে কর্মসূচিতে ডাকা হয়েছে, সেখানে উপস্থিত থেকেছি।’’

এই অবস্থায় হাঁসনে কে হবেন তৃণমূল প্রার্থী, পুরনো অশোকে আস্থা রাখবেন নেতৃত্ব নাকি নতুন প্রার্থী দেওয়া হবে, তা নিয়ে চর্চা শুরু হয়েছে এলাকায়। যদিও জেলা তৃণমূলের চেয়ারপার্সন আশিস বন্দ্যোপাধ্যায়ের বক্তব্য, ‘‘প্রার্থী রাজ্য নেতৃত্ব ঠিক করবেন। দল যাঁকে প্রার্থী করবে, কর্মীরা তাঁকেই সমর্থন করবেন।’’ বিধায়ক ও ব্লক সভাপতির দ্বন্দ্ব নিয়ে বিজেপির বীরভূম সাংগঠনিক জেলার সভাপতি উদয়শঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ‘‘হাঁসনে বিজেপি গতবার দ্বিতীয় স্থানে ছিল। এ বার জয়ী হবে।’’

(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)

West Bengal Assembly Election 2026 margram

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy