১২ জুন মুক্তি পাচ্ছে অশোক ধানুকা প্রযোজিত ‘আবার হাওয়া বদল’। ছবির মুখ্য আকর্ষণ পরমব্রত চট্টোপাধ্যায়, রুদ্রনীল ঘোষ। অথচ তাঁরা আগের মতো একসঙ্গে প্রচারে নেই। গুঞ্জন, টেকনিশিয়ান স্টুডিয়োয় বিধায়ক-অভিনেতা রুদ্রনীলের একটি বৈঠকে পরিচালক ও প্রযোজক গিল্ডের পক্ষ থেকে উপস্থিত ছিলেন পরমব্রত। সেখানে তাঁদের বন্ধুত্বের ‘সমীকরণ’, পরমব্রতের বক্তব্য নাকি ছায়া ফেলেছিল বৈঠকে। যার জেরে নাকি বিজেপি বিধায়ক-অভিনেতা রাজনীতির আঙিনায় কিছুটা হলেও সমস্যায়!
সেই জন্যই নাকি, উভয়কে ছবির প্রচারে একসঙ্গে দেখা যাচ্ছে না। এমনও শোনা গিয়েছে, তাঁরা নাকি আপাতত দূরত্ব বজায় রেখেই চলবেন! এই কারণেই নাকি আলাদা দিনে, পৃথক ভাবে নিজেদের মতো করে ছবির প্রচারে ব্যস্ত পরমব্রত এবং রুদ্রনীল। অথচ ছবির ট্রেলার বলছে, ছবি জুড়ে দুই নায়কের বন্ধুত্ব ম’ম করছে!
রটনা কি তা হলে
সত্যি? শনিবার
আনন্দবাজার ডট কম যোগাযোগ করেছিল পরমব্রত এবং রুদ্রনীলের সঙ্গে। অবশ্যই আলাদা
ভাবে। ছবির প্রচারে এসে পরমব্রত জানান, টেকনিশিয়ান স্টুডিয়োয় ডাকা ওই বৈঠকের কারণে
রুদ্রনীলের রাজনৈতিক জীবনে কোনও সমস্যা তৈরি হয়েছে কি না, সেটা অভিনেতা-বিধায়ক
বলতে পারবেন। এই প্রসঙ্গে তাঁর কোনও বক্তব্য নেই। বলেন, “ওই বৈঠকে আমার কিছু
বক্তব্য ছিল। সেই বক্তব্যের কিছুর অংশ ভুল ভাবে পরিবেশিত হয়েছে। এর বেশি কিছু বলার
নেই।”
আরও পড়ুন:
রুদ্রনীল এ দিন সকাল থেকে বিধানসভার বৈঠকে। বৈঠকশেষে তিনি বলেন, “পরমব্রতের কারণে আমার কোনও সমস্যা তৈরি হলে, অনীক দত্তের শেষযাত্রার দায়িত্ব রাজ্য সরকার বিধায়ক ইন্দ্রনীল খানের সঙ্গে আমাকেও দিত না।” একই ভাবে বিধায়ক পাপিয়া অধিকারীর বক্তব্যের পর কলাকুশলীদের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি হয়েছিল। প্রতিবাদী জনসভায় ডিম ছোঁড়া হয়েছিল বিক্ষুব্ধ কলাকুশলীদের উপরে। ইটবৃষ্টিও হয়েছিল। পরে সেই কলাকুশলীরা মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে দেখা করার আবেদন জানিয়ে চিঠি জমা দেন তথ্য-সংস্কৃতি দফতরের সচিবের কাছে। সে দিন নন্দনে তাঁদের পাশে দেখা গিয়েছিল রুদ্রনীলকে। সেই উদাহরণ দিয়ে তিনি বলেন, “ওই দিনও তা হলে আপনারা আমায় দেখতে পেতেন না।”
রুদ্রনীলের কথায়, “এক, ছবিটি মুক্তি পাওয়ার কথা ছিল গত বছর। আগের সরকার এবং স্বরূপ বিশ্বাস মিলে সেটা হতে দেয়নি। ছবিমুক্তি পিছিয়ে যায় চলতি বছরের জুন মাসে। কেউই তখন জানতেন না, রাজ্য-রাজনীতিতে বদল আসছে। আমি বিধায়ক হব এবং ব্যস্ত হয়ে পড়ব। দুই, আমার রাজনৈতিক ব্যস্ততাই সবার সঙ্গে ছবির প্রচারে যোগদান করতে না পারার কারণ।” তবে তিনি যে ছবির প্রচার করছেন, সে কথাও জানান। বলেন, “পর্দায় আমার বিপরীতে দেখা যাবে অনুষা বিশ্বনাথনকে। বৃহস্পতিবার মাত্র এক ঘণ্টা সময় ছবির প্রচারের জন্য পেয়েছিলাম। অনুষার সঙ্গে আমি কিন্তু প্রচার সেরেছি।”
‘আবার হাওয়া বদল’ ছবির মতোই কি পরমব্রত-রুদ্রনীল মিলবেন? ছবি: সংগৃহীত।
এর আগেও পরমব্রত-রুদ্রনীলের মধ্যে রাজনৈতিক আদর্শ নিয়ে মতবিরোধ তৈরি হয়েছে। বেড়েছে দূরত্ব। বন্ধুর সঙ্গে সেই মতপার্থক্যের কথা এ দিন পরমব্রত অস্বীকার করেননি। তাঁর সাফ জবাব, “আমাদের ২৫ বছরের বন্ধুত্ব। বয়সের পার্থক্য কোনও দিন আমাদের বন্ধুত্বের বাধা হয়ে দাঁড়ায়নি। রাজনীতি হোক বা ছবি, দৃষ্টিভঙ্গির পার্থক্য থাকবেই। তাই নিয়ে ঝগড়া হয়েছে। হয়তো আগামী দিনেও হবে। কিন্তু পেশাজীবনে তার প্রভাব পড়বে না।”
রুদ্রনীলও কি তা হলে ভবিষ্যতে ব্যক্তিজীবনকে সরিয়ে পেশাজীবনে ‘পেশাদার’ হবেন? কাজ করবেন পরমব্রতের সঙ্গে?
এই প্রশ্নের জবাবে রুদ্রনীল সরাসরি ‘হ্যাঁ’ বা ‘না’ কিছুই বলেননি। তাঁর কথায়, “টেকনিশিয়ান স্টুডিয়োয় ডাকা বৈঠকে বা তারও আগে একাধিক সংবাদমাধ্যমে পরমব্রত এমন কিছু বার্তা দিয়েছিলেন, যা রাজ্যবাসীর মনে আঘাত করেছে। দুঃখ পেয়েছেন তাঁরা। আগামী দিনে পরমব্রত সে দিকে যত্নবান হলে ভাল হয়। তা হলে তাঁকেও আর বারে বারে বক্তব্য বদলাতে হয় না। কিংবা নিজের বক্তব্যের সপক্ষে যুক্তি খাড়া করতে হয় না।”
অর্থাৎ, ‘বন্ধু’র বক্তব্য পশ্চিমবঙ্গবাসীর মতো রুদ্রনীলকেও আঘাত করেছে? অভিনেতা-বিধায়কের স্পষ্ট জবাব, “আমিও তো পশ্চিমবঙ্গের বাসিন্দাদেরই একজন!”