E-Paper

বিধায়ককেই জেতাতে বলে বিতর্কে দিলীপ

বুধবার দিলীপও রাজ্য সরকারের সমালোচনায় সুর চড়ান। বাঁকুড়া শহরের লালবাজারে ছোট সভা থেকে তিনি বলেন, ‘‘চাষিরা ফসলের দাম পাচ্ছেন না।

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১০:৪৯
বুধবার বাঁকুড়ার গোলপার্ক মার্কেটে জনসংযোগে দিলীপ ঘোষ। পিছনে বিধায়ক নীলাদ্রিশেখর দানা।

বুধবার বাঁকুড়ার গোলপার্ক মার্কেটে জনসংযোগে দিলীপ ঘোষ। পিছনে বিধায়ক নীলাদ্রিশেখর দানা। বুধবার। নিজস্ব চিত্র

দল এখনও প্রার্থী তালিকা ঘোষণা করেনি। তার আগেই ফের বাঁকুড়ার বিধায়ক নীলাদ্রিশেখর দানাকে ‘বেশি ভোটে’ জেতানোর আহ্বান জানিয়ে বিতর্কে জড়ালেন বিজেপির প্রাক্তন রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ।

দু’দিনের দলীয় ‘গৃহ সম্পর্ক অভিযান’ কর্মসূচিতে এসে মঙ্গলবার রাতে বাঁকুড়ার ধলডাঙা দলীয় বৈঠকে দিলীপ বলেন, “রাজ্যে বিজেপি সরকার গড়তে হলে বাঁকুড়ায় এ বার আরও বেশি ভোটে নীলাদ্রিকে জেতাতে হবে।” বিতর্ক হওয়ায় দিলীপের যুক্তি, “নীলাদ্রি জয়ী প্রার্থী। খুব প্রয়োজন ছাড়া দল জয়ী প্রার্থীদের সরায় না। নীলাদ্রি এখানকার নেতা। তাই বলেছি।”

ঘটনা হল, বাঁকুড়া কেন্দ্রের জন্য বিজেপির প্রার্থী হতে এখন দলের অনেকেই সক্রিয় হয়েছেন। আগে দলের কর্মসূচিতে যাঁদের দেখা যেত না, তাঁরাও ইদানীং সক্রিয় হয়েছেন। দিলীপের ওই মন্তব্যে তাঁরা হতোদ্যম হয়েছেন। তবে নীলাদ্রি বলছেন, ‘‘আমাদের দলে দলগত সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত। তাই দিলীপদার মন্তব্য নিয়ে আমার কিছু বলার নেই।”

বাঁকুড়ার তৃণমূল সাংসদ অরূপ চক্রবর্তীর কটাক্ষ, “টিকিটের আশায় যদিও কিছু লোকজন বিজেপির কর্মসূচিতে যাচ্ছিলেন, এ বার তাঁরাও যাবেন না।” বিজেপির বাঁকুড়া সাংগঠনিক জেলা সভাপতি প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়ের দাবি, “অরূপবাবু ভুলে যাচ্ছেন বিজেপির কর্মীরা আদর্শকে সামনে রেখে রাজনীতি করেন। তৃণমূলের মতো ব্যক্তিগত চাহিদা পূরণের জন্য নয়।”

বুধবার দিলীপও রাজ্য সরকারের সমালোচনায় সুর চড়ান। বাঁকুড়া শহরের লালবাজারে ছোট সভা থেকে তিনি বলেন, ‘‘চাষিরা ফসলের দাম পাচ্ছেন না। আলু পচে গেলেও মুখ্যমন্ত্রী ভিন্‌ রাজ্যে বিক্রি করতে দিচ্ছেন না। হাসপাতালে ডাক্তার নেই, শিশুদের কুকুরে টেনে নিয়ে যাচ্ছে।”

এই রাজ্যে উগ্রপন্থীদের আশ্রয় দেওয়া হচ্ছে বলেও অভিযোগ তোলেন দিলীপ। এসআইআর নিয়ে দিলীপ বলেন, “এক কোটি ভুয়ো ভোটারের নাম বাদ গেলেই দিদিমণির দোকান বন্ধ হয়ে যাবে। ফিরহাদ হাকিম, শশী পাঁজারা যে ভুয়ো ভোটে জেতার আশায় থাকতেন, তা আর হবে না।” তৃণমূল সাংসদ অরূপের কটাক্ষ, ‘‘বিজেপি নেতারা কেন্দ্রীয় সরকারকে উস্কে বিভিন্ন প্রকল্পে রাজ্যের টাকা আটকে দিয়েছেন। এখন ভোটের আগে মিথ্যাচার করছেন।”

সদ্য ইন্দাসের একটি স্কুলে শিক্ষকের সঙ্গে বচসায় জড়িয়ে বির্তকের মুখে পড়েছেন বিজেপি বিধায়ক নির্মল ধাড়া। পরে বিধায়ক অনুমতি ছাড়া ক্লাসে ঝোকার জন্য ক্ষমা চান। এ বার ধলডাঙায় দিলীপের একটি মন্তব্য নিয়ে ফের শিক্ষা মহলে চর্চা শুরু হয়েছে। দিলীপ বলেন, “কেন্দ্র গরিব ছাত্রছাত্রীদের জন্য মিডডে মিল দিচ্ছে। স্কুলের মাস্টার আর তৃণমূল নেতারা সে খাবারের অর্ধেক চুরি করে খাচ্ছে।’’ বাঁকুড়ায় মিডডে মিলের দুর্নীতির অভিযোগ নতুন নয়। স্কুলের তহবিলে বা মিডডে মিলে বেনিয়মের অভিযোগে কিছু শিক্ষকের বিরুদ্ধে স্কুলশিক্ষা দফতর ব্যবস্থাও নিয়েছে। তবে এবিটিএ-র রাজ্য কমিটির সদস্য অস্মিতা দাশগুপ্ত বলেন, “উনি (দিলীপ) জানেন না অনেক স্কুলে শিক্ষকেরা নিজেদের পকেট থেকে টাকা দিয়েও মিডডেমিল চালান।” পশ্চিমবঙ্গ তৃণমূল মাধ্যমিক শিক্ষক সমিতির বাঁকুড়া সাংগঠনিক জেলা সভাপতি গোরাচাঁদ কান্ত বলেন, “শিক্ষক সমাজকে বার বার অপমান করছে বিজেপি।”

(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)

West Bengal Assembly Election 2026 Dilip Ghosh bankura

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy