আসন এক। দাবিদার অনেক। ফলে আসন্ন রাজ্যসভা নির্বাচনে পশ্চিমবঙ্গের পাঁচটি আসনের মধ্যে যে একটি আসন বিজেপির পাওয়া নিশ্চিত তা নিয়ে রীতিমতো মিউজ়িক্যাল চেয়ার প্রতিযোগিতার দশা শুরু হয়েছে দলের অভ্যন্তরে।সূত্রের মতে, রাজ্যসভার দৌড়ে একেবারে প্রথম সারিতে রয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর আর্থিক উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য সঞ্জীব সান্যাল। দলের কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের পছন্দের পাত্র তিনি। এখন দেখার তাঁকে রাজ্যসভায় আনা হবে, না কি ভবিষ্যতে আরও বড় দায়িত্ব দেওয়ার কথা মাথায় রেখে আপাতত সরিয়ে রাখা হবে। রাজ্য নেতৃত্বের অন্যতম পছন্দের প্রার্থী হলেন প্রাক্তন রাজ্য সভাপতি রাহুল সিংহ। দীর্ঘ দিনের ওই বিজেপি কর্মীকে এ যাত্রায় রাজ্যসভায় পাঠানোর বিষয়ে ভাবছে দল। সূত্রের মতে, রাহুলের প্রশ্নে আপত্তি নেই রাজ্য নেতৃত্বেরও।
দৌড়ে রয়েছেন প্রাক্তন সাংসদ লকেট চট্টোপাধ্যায়। নরেন্দ্র মোদী সরকারের দ্বিতীয় পর্বে সাংসদ হিসেবে দলে বেশ জনপ্রিয় ছিলেন লকেট। বর্তমানে রাজ্য থেকে বিজেপির কোনও মহিলা সাংসদও নেই। তাই লকেট এলে কিছুটা ভারসাম্য রক্ষা হতে পারে বলে তাঁর নাম নিয়েও চর্চা রয়েছে বঙ্গ রাজনীতিতে। দৌড়ে নাম রয়েছে প্রাক্তন দুই কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রীর। এক জন বাঁকুড়ার সুভাষ সরকার ও দ্বিতীয় জন কোচবিহারের নিশীথ প্রামাণিক। দু’জনেই এ বারের লোকসভা ভোটে হেরে গিয়েছেন। জল্পনা ছড়িয়েছে মিঠুন চক্রবর্তী ও দিল্লিস্থিত বিজেপি নেতা অনির্বাণ গঙ্গোপাধ্যায়েরনাম নিয়েও।
পশ্চিমবঙ্গ থেকে রাজ্যসভায় প্রথম বিজেপি সাংসদ হিসেবে বেছে নেওয়া হয়েছিল অনন্ত মহারাজকে। গোড়া থেকেই দলকে অস্বস্তিতে রেখেছিলেন তিনি। সম্প্রতি রাজ্য সরকার তাঁকে বঙ্গ বিভূষণ সম্মান দেওয়ায় ভোটের আগে সেই অস্বস্তি আরও বেড়েছে দলের। এই পরিস্থিতিতে তাই প্রার্থী বাছাইয়ে মেপে পা ফেলার পক্ষপাতী রাজ্য নেতৃত্ব। রাজ্য বিজেপির এক নেতার কথায়, ‘‘প্রার্থী বাছাইয়ের ক্ষমতা যদি রাজ্য নেতৃত্বের হাতে থাকে তাহলে একনিষ্ঠ ও দীর্ঘ দিন ধরে দল করছেন এবং আরএসএসের কাছে গ্রহণযোগ্যতা রয়েছে এমন ব্যক্তিকেই বেছে নেওয়া হবে।’’
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)