ত্বকের যত্নের তাগিদে বর্তমানে দোল উৎসবে ভেষজ আবিরের চাহিদা বেড়েছে। রাসায়নিক ছাড়া নানা ফুল থেকে তৈরি আবির বাজারে জায়গা করে নিয়েছে বিগত বছরগুলিতে। এর আগে বলরামপুরের ইচাডি গ্রামের স্বনির্ভর গোষ্ঠীর মহিলারা পলাশ ফুলের আবির তৈরি করে তাক লাগিয়ে দিয়েছিলেন। তবে এ বছর এখনও পলাশ ফুল সে ভাবে ফোটেনি। তা-ই বিকল্প হিসেবে পালং শাক, বিট ও নিমের আবির তৈরি করছেন তাঁরা।
বেলা অঞ্চলের ইচাডি গ্রামের এই আদিবাসী স্বনির্ভর গোষ্ঠীর সদস্যেরা প্রশিক্ষণ নিয়ে গত কয়েক বছর ধরে আবির তৈরির কাজে যুক্ত হয়েছেন। তাঁদের সহযোগিতায় এগিয়ে এসেছে জেলা খাদি ও গ্রামীণ শিল্প পর্ষদ। গোষ্ঠীর সদস্য মামনি মুর্মু, জুলিকা টুডু, উর্মিলা টুডুরা জানান, “এ বছর পলাশ ফুল তেমন না ফোটায় নিম, বিট ও পালংশাক দিয়ে আবির তৈরি করা হচ্ছে। পরে পলাশ ফুটলে তা দিয়েও আবির তৈরি হবে। ইতিমধ্যেই প্রায় ১০ কেজি পালং শাকের আবির কলকাতার একটি বেসরকারি সংস্থার হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে।”
জেলা খাদি ও গ্রামীণ শিল্প পর্ষদের জেলা আধিকারিক পাপ্পু মুখোপাধ্যায় বলেন, “দোল উপলক্ষে পর্যটকদের জন্য আবিরের প্যাকেট বিক্রির পরিকল্পনাও রয়েছে। পালং শাক, নিম ও বিটের আবিরের দাম প্রায় ৫০০ টাকা প্রতি কেজি। পলাশের আবির ৩৫০ টাকা প্রতি কেজি। পালং শাকের আবির তুলনামূলক দামি হওয়ায় উৎপাদন কম হচ্ছে। আগামী দিনে সারা বছর এই কাজের সঙ্গে মহিলাদের যুক্ত রেখে উৎপাদন বাড়াতে সহযোগিতা করবে দফতর।”
এ বছর সব মিলিয়ে অন্তত দুই কুইন্টাল আবির তৈরি করবেন বলে ঠিক করেছেন ওই মহিলারা। সেই লক্ষ্য পূরণে দিনরাত জোরকদমে চলছে কাজ চলছে। তাঁদের তৈরি আবির রাজ্য সরকারের বিশ্ববাংলা বিক্রয় কেন্দ্র-সহ বিভিন্ন সরকারি দফতরেও সরবরাহ করা হয়।
মহিলারা বলেন, “আমাদের উপার্জনের পথ এটাই। হাতে টাকা এলে সব ক্লান্তি মুছে যায়।”
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)