নামেই কি তবে আসে-যায়?
কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভা সম্প্রতি কেরলের নাম পরিবর্তনের প্রস্তাবে অনুমোদন দিয়েছে। তার পরে পশ্চিমবঙ্গের নাম বদল নিয়ে ফের দাবি জানিয়েছেন তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এ বারে মমতার সেই দাবিকে সমর্থন করলেন জম্মু ও কাশ্মীরের মুখ্যমন্ত্রী ওমর আবদুল্লা। এরই মধ্যে আবার দিল্লির নাম বদলে ইন্দ্রপ্রস্থ রাখার দাবিতে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকে চিঠি লিখলেন বিজেপির দিল্লির চাঁদনি চকের সাংসদ প্রবীণ খান্ডেলওয়াল।
পশ্চিমবঙ্গের নাম পরিবর্তনে যে দাবি জানিয়েছেন মমতা, তাতে আজ ওমর আবদুল্লাকে পাশে পেয়েছেন তিনি। বুধবার শ্রীনগরে এক অনুষ্ঠানের ফাঁকে সাংবাদিকদের ওমর বলেন, ‘‘যদি পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা রাজ্যের নাম পরিবর্তনের প্রস্তাব পাঠিয়ে থাকে, তবে কেন্দ্রের উচিত সেই দাবি মেনে নেওয়া।’’ ওমরের বক্তব্য, এক রাজ্যের ক্ষেত্রে অনুমোদন দেওয়া হলে অন্য রাজ্যের ক্ষেত্রেও একই নীতি প্রযোজ্য হওয়া উচিত।
আরজেডি সাংসদ মনোজ ঝা-ও পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রীর দাবিকে সমর্থন জানিয়ে আজ বলেন, “মালয়ালাম ভাষা ও কেরলের সাধারণ কথাবার্তার মধ্যে কেরলম নামটি দীর্ঘদিন ধরেই প্রচলিত এবং এই নাম বদলের দাবি খুব পুরনো। এত দিনে সেই দাবিতে মান্যতা দেওয়ার জন্য অবশ্যই ধন্যবাদ প্রাপ্য। কিন্তু আমার সাংসদ জীবনের সাত বছর ধরে দেখছি, বাংলার শাসকদলের সাংসদদের দাবি, পশ্চিমবঙ্গের নাম বদলে বাংলা করা হোক। তাঁদের দাবিতে সম্মতি দিতে বাধা কোথায়? অন্তত আমি তো রাজনৈতিক, সাংস্কৃতিক বা শৈল্পিক ক্ষেত্র থেকে বাধা দেখি না।’’ যদিও একটি মহলের দাবি, এই বদল পশ্চিমবঙ্গে এত সহজ নয়।এখানে বিষয়টি কেরল-কেরলমের মতো নয়।
এরই মধ্যে দিল্লি শহরের নাম ইন্দ্রপ্রস্থ রাখার দাবি নতুন করে উস্কে দিয়েছেন খান্ডেলওয়াল। তাঁর যুক্তি, ‘‘দিল্লি নামটি ইতিহাসের খুব সামান্য সময়কালকে তুলে ধরে। তুলনায় ইন্দ্রপ্রস্থ নামের পিছনে কয়েক হাজার বছরের ইতিহাস রয়েছে। মহাভারতের সময়ে পান্ডবেরা ইন্দ্রপ্রস্থ নগরীর স্থাপন করেছিলেন।’’
সেই সঙ্গে তিনি দাবি করেন, ‘পুরানা কেল্লা’ এলাকায় প্রত্নতাত্ত্বিক খননের ফলে যে সব প্রত্নসামগ্রী পাওয়া গিয়েছে, তা খ্রিষ্টপূর্ব এক হাজার বছর সময়কালের। যা প্রমাণ করে এই শহর কত প্রাচীন। তিনি একই সঙ্গে পুরনো দিল্লি স্টেশন ও ইন্দিরা গান্ধী বিমানবন্দরের নামও ইন্দ্রপ্রস্থের নামে রাখা এবং শহরের গুরুত্বপূর্ণ স্থানে পঞ্চ পান্ডবের মূর্তি বসানোরও দাবি করেছেন।
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)