বিভিন্ন দাবি আদায়ে দীর্ঘ দিন ধরে কর্মবিরতি চালিয়েছিলেন রাজ্যের আশাকর্মীরা। পরে কিছু দাবি আদায় হওয়ায় ফের তাঁরা কাজে যোগ দেন। তাঁদের দাবি, কর্মবিরতি শুরুর আগে তো বটেই, কর্মবিরতি চলাকালীনও জরুরি পরিষেবা দিয়েছেন। অথচ ভাতা প্রদানের সময়ে ওই সমস্ত কাজের নিরিখে যে টাকা প্রাপ্য, তা প্রদানের ক্ষেত্রে বৈষম্য করা হচ্ছে বলে এ বার অভিযোগ তুলল পশ্চিমবঙ্গ আশাকর্মী সংগঠন। এর প্রতিবাদে শুক্রবার স্বাস্থ্য ভবন অভিযান করেন কয়েকশো আশাকর্মী।
এ দিন স্বাস্থ্য ভবনের কয়েকশো মিটার দূরে ব্যারিকেড করে আশাকর্মীদের মিছিল আটকে দেয় পুলিশ। বাধা পেয়ে ব্যারিকেডের উপরে উঠে কয়েক জন আশাকর্মী বিক্ষোভ দেখাতে থাকেন। তাঁদের নামাতে গেলে পুলিশের সঙ্গে ধস্তাধস্তি শুরু হয়। তাতে এক পুলিশকর্মী ও এক আশাকর্মী জখম হন।
আশাকর্মীদের দাবি, আর্থিক বঞ্চনার প্রতিবাদে ও উৎসাহ ভাতা বৃদ্ধির দাবিতে জরুরি পরিষেবা চালু রেখে গত ২৩ ডিসেম্বর থেকে রাজ্য জুড়ে টানা কর্মবিরতি শুরু করেছিলেন তাঁরা। স্বাস্থ্যকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকের পরে ৬ ফেব্রুয়ারি সেই কর্মবিরতি প্রত্যাহার করা হয়। আশাকর্মী সংগঠনের সম্পাদক
ইসমত আরা খাতুন জানাচ্ছেন, অনেক কর্মী ওই দিন থেকেই কাজ শুরু করেন। বাকিরা পরের দিন থেকে কাজ শুরু করে বকেয়া কাজও করে দিয়েছেন। ইসমত বলেন, ‘‘আমরা কর্মবিরতি শুরুর আগে এবং কর্মবিরতি চলাকালীন কিছু আপৎকালীন পরিষেবা দিয়েছি। অথচ জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারিতে উৎসাহ ভাতা দেওয়ার সময়ে কিছু ক্ষেত্রে সরকারি নিয়মে কড়াকড়ি করা হচ্ছে।’’ তাঁর আরও অভিযোগ, কেন উৎসাহ ভাতা খাতে টাকা বাকি রাখা হচ্ছে, তা জানতে গিয়ে বিভিন্ন জেলায় আশাকর্মীদের প্রশাসনিক হয়রানির মুখে পড়তে হচ্ছে।
এ দিন প্রথমে আশাকর্মীদের মিছিলে পুলিশ বাধা দিলেও পরে তাঁদের কয়েক জন প্রতিনিধি স্বাস্থ্যকর্তাদের সঙ্গে দীর্ঘ বৈঠক করেন। বাইরে এসে ইসমত জানান, জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারির বকেয়া মার্চে মিটিয়ে দেওয়া হবে বলে আশ্বাস দিয়েছেন স্বাস্থ্যকর্তারা। উৎসাহ ভাতায় বৈষম্যের বিষয়টি ইমেল করে জানাতে বলা হয়েছে। সব কিছু খতিয়ে দেখে উপযুক্ত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্য দফতর।
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)