ঘুম থেকে উঠে গরম চায়ে চুমুক না দিলে অনেকের সকাল শুরু হতে চায় না। পাড়ার ঠেকে বন্ধুদের সঙ্গে জমাটি আড্ডায় হোক কিংবা সন্ধ্যাবেলায় অফিস থেকে বাড়ি ফিরে শরীর ও মন দুই-ই চনমনে রাখতে, চা কিন্তু চাই-ই-চাই। অনেক রাঁধুনিই আছেন যাঁরা রান্নাটা ভাল জানেন, কিন্তু চা বানাতে গেলেই বিপাকে পড়েন।
অনেকেই মনে করেন চা বানানোর মতো সহজ কাজ পৃথিবীতে নেই। এ ধারণা একেবারেই ভুল। যেমন-তেমন করে চা বানালে চায়ের স্বাদ মোটেই ভাল হয় না। চা বানাতে হবে নিয়ম মেনে। গরম জলে চা পাতা ঠিক কত ক্ষণ ধরে ভিজিয়ে রাখবেন, কত ক্ষণ ধরে ফোটাবেন তার উপর অনেকাংশে নির্ভর করছে চায়ের স্বাদ ও গন্ধ।
কোনও ক্যাফেতে গিয়ে হয়তো ভাল দার্জিলিং চা খেয়েছেন। স্বাদ এতটাই ভাল লেগেছে যে চড়া দামে বাড়ির জন্য সেখান থেকে চা পাতা কিনেও এনেছেন। কিন্তু বাড়িতে চা বানিয়ে সেই ক্যাফের মতো স্বাদ মেলেনি। চা বানানোর ক্ষেত্রে ভুলটা কোথায় হচ্ছে জানেন?
বাজারে বিভিন্ন ধরনের পাতা-চা পাওয়া যায়। তবে সিঙ্গল লিফ ফার্স্ট ফ্লাশ-এর কদর সবচেয়ে বেশি। দামও আকাশছোঁয়া। শীতের মরসুমে যে প্রথম সবুজ রঙের কচি কচি পাতা ওঠে, তা স্বাদে এবং গন্ধে মরসুমের যে কোনও সময়কে পিছনে ফেলে দেয়। সাহেবরা যে পাতার নাম রেখেছিলেন ‘ফার্স্ট ফ্লাশ’। আর ফার্স্ট ফ্লাশের এক গুচ্ছ পাতার মাঝে যে পাতাগুলি একক থাকে তার স্বাদ আরও বেশি। দার্জিলিং চায়ের ফার্স্ট ফ্লাশের দাম আকাশছোঁয়া। তবে এই চায়ে ফুটন্ত জল দিলে স্বাদ বিগড়ে যায়। এই চা বানানোর সময়ে গ্যাস বন্ধ করে মিনিটখানেক অপেক্ষা করে তার উপর চা পাতা মিনিট চার-পাঁচেক ভিজিয়ে রাখুন। তার পর ছেঁকে পরিবেশন করলেই এর আসল স্বাদ উপভোগ করতে পারবেন। এই চা ফুটিয়ে খেলে বা বেশি ক্ষণ ভিজিয়ে রাখলে স্বাদ একেবারেই বিগড়ে যাবে।