হাতে পেলেন না ফলাফল, জানতে পারলেন পরবর্তী শুনানির দিন। পশ্চিম এশিয়ার সিবিএসই পরীক্ষার্থী প্রাংশু জিগরকুমার জানতে পারলেন না দ্বাদশ শ্রেণির ফলাফল কবে পাবেন। বরং পেলেন সমস্যা সমাধানের জন্য নির্দিষ্ট নীতি তৈরি করার আশ্বাস।
পশ্চিম এশিয়ায় (বাহরাইন, ইরান, কুয়েত, ওমান, কাতার, সৌদি আরব এবং সংযুক্ত আরব আমিরশাহি) যুদ্ধ পরিস্থিতিতে সিবিএসই দ্বাদশ শ্রেণির বেশ কয়েকটি পরীক্ষা বাতিল করেছিল গত মার্চে। সৌদি আরবের আল জুবাইল শহরের ‘ইন্টারন্যাশনাল ইন্ডিয়ান স্কুল’ থেকে প্রাংশু জিগরকুমার প্যাটেল নামে এক প্রবাসী ছাত্র চলতি বছর ‘প্রাইভেট ক্যান্ডিডেট’ হিসাবে দ্বাদশের পরীক্ষা দিয়েছিলেন। গত বছর পাশ করার পর এ বার পদার্থবিদ্যা, রসায়ন, গণিত, ইংরেজি ও কম্পিউটার সায়েন্স-এ ‘ইম্প্রুভমেন্ট’ পরীক্ষা দিচ্ছিলেন তিনি। কিন্তু যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে তিনি কেবল পদার্থবিদ্যা ও রসায়ন পরীক্ষা দিতে পারেন, বাকি তিনটি পরীক্ষা বাতিল হয়ে যায়। গত ১৩ মে ফলপ্রকাশ করলেও বোর্ডের তরফে প্রাংশুর ফলাফল পরে জানানো হবে বলে লিখে দেওয়া হয়। বোর্ড প্রবাসীদের জন্য একটি ‘বিশেষ মূল্যায়ন নীতি’ তৈরি করে জানিয়েছিল, স্কুলের ত্রৈমাসিক, অর্ধবার্ষিক ও প্রি-বোর্ড পরীক্ষার ফলের ওপর ভিত্তি করে চূড়ান্ত নম্বর দেওয়া হবে।
কিন্তু প্রাংশুর অভিযোগ ছিল, যে হেতু তিনি একজন ‘প্রাইভেট ক্যান্ডিডেট’, তাই বোর্ড তাঁর রেজাল্ট আটকে রেখেছে। প্রায় এক মাস পরও ফল হাতে পাননি প্রাংশু। এই দিকে ধীরুভাই অম্বানি ইউনিভার্সিটিতে তাঁর বিটেক (কম্পিউটার সায়েন্স ও এআই) কোর্সে ভর্তির শেষ সময়সীমাও পেরিয়ে যাচ্ছে। তাই প্রথমে দিল্লি হাইকোর্টে দ্বারস্থ হয়েছিলেন। কিন্তু তাতে কোনও সুরাহা মেলেনি। তাই পরে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিলেন প্রাংশু।
গত ৮ জুন সুপ্রিম কোর্টে বিচারপতি মনমোহন এবং বিচারপতি বিজয় বিশ্নোইকে নিয়ে গঠিত অবকাশকালীন বেঞ্চের সামনে সিবিএসই-এর আইনজীবী আবেদন জানিয়েছেন, বোর্ড নানা সমস্যায় জর্জরিত, তাই আরও একটু সময় দেওয়া হোক। প্রত্যুত্তরে বিচারপতি মনমোহন নির্দেশ দেন, একজন শিক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ জড়িত। প্রয়োজনে মাঝরাত পর্যন্ত জেগে কাজ শেষ করতে হবে। আগামী শুক্রবারের মধ্যে এ বিষয়ে সিবিএসই-কে চূড়ান্ত জবাবদিহি করতে হবে।
তবে, শুক্রবার সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি এজি মসীহ এবং বিচারপতি বিজয় বিশ্নোইয়ের সমন্বয়ে গঠিত অবকাশকালীন বেঞ্চের সামনে, সরকারের পক্ষে সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা জানান, এটি একটি বড় বিষয়। সরকার এই ধরনের পরিস্থিতিতে পড়া সমস্ত শিক্ষার্থীদের জন্য একটি নির্দিষ্ট নীতি তৈরির কথা বিবেচনা করছে। যে হেতু সরকার বিষয়টি খতিয়ে দেখছে এবং একটি বড় সিদ্ধান্ত নিতে চলেছে, তাই সলিসিটর জেনারেলের অনুরোধে সুপ্রিম কোর্ট মামলাটির শুনানি স্থগিত করেছে। আগামী ২২ জুন এই মামলার পরবর্তী শুনানির দিন ঘোষণা করা হয়েছে।