Advertisement
E-Paper

বাংলা, গণিত থেকে রসায়ন, স্নাতকে ভর্তির আবেদনসংখ্যা বৃদ্ধি! যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় দেখছে আশার আলো

বিজ্ঞান বিষয়ের প্রতি পড়ুয়াদের আগ্রহ কমছে বলে কপালে ভাঁজ পড়েছিল শিক্ষামহলের। কিন্তু ২০২৬-এ যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে স্নাতকে ভর্তির আবেদন সন্তোষজনক বলেই জানাচ্ছেন কর্তৃপক্ষ। গত বছরের নিরিখে প্রায় সব বিষয়েই আবেদনসংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে।

আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ১২ জুন ২০২৬ ১৮:১৭
যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়।

যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়। ছবি: সংগৃহীত।

স্নাতকে ভর্তির সংখ্যা কমছে বলে আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল গত দু’বছরে। সেই খরা অনেকাংশেই কাটি উঠল যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়। সূত্রের খবর এমনই।

স্নাতকে, বিশেষত বিজ্ঞান বিষয়ের প্রতি পড়ুয়াদের আগ্রহ কমছে বলে কপালে ভাঁজ পড়েছিল শিক্ষামহলের। কিন্তু ২০২৬-এ যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে স্নাতকে ভর্তির আবেদন সন্তোষজনক বলেই জানাচ্ছেন কর্তৃপক্ষ। গত বছরের নিরিখে প্রায় সব বিষয়েই আবেদনসংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে।

যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রের খবর, আবেদনের সংখ্যা বেড়েছে পদার্থবিদ্যা, রসায়ন, গণিত, তুলনামূলক সাহিত্য এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্যে। তবে ভূ-বিজ্ঞান, দর্শন, এবং সমাজবিজ্ঞান বিভাগে গত বছরের থেকে আবেদন কমেছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের এক কর্তা জানান, সার্বিক ভাবে এই প্রবণতা তাৎপর্যপূর্ণ। কারণ প্রথাগত শিক্ষার প্রতি পড়ুয়াদের একাংশের অনীহা দুশ্চিন্তা তৈরি করছিল। গত বছরে স্নাতকে ভর্তি হতে চাওয়া ছাত্রছাত্রীর আবেদন সে দিকেই ইঙ্গিত করছিল। সেখানে ২০২৬-এর চিত্র বেশ আলাদা।

হঠাৎ কেন স্নাতকে ভর্তির আবেদন বৃদ্ধি পেল?

শিক্ষামহলের একাংশের দাবি, সংরক্ষণ জটিলতায় গত বছর অনেক কম পড়ুয়া ভর্তি হয়েছিল। যে কোনও বিষয়ের ক্ষেত্রেই এই তত্ত্ব সত্য। এ বার ভাষা-সাহিত্যেও আবেদন সন্তোষজনক। হিসাব বলছে ২০২৫-এ ইংরেজিতে আবেদন করেছিলেন ১৭৫৬ জন, এ বার তা বৃদ্ধি পেয়ে হয়েছে ২১৯২। তুলনামূলক সাহিত্যে ২৯৫ থেকে বেড়ে হয়েছে ৩৪৫। পদার্থবিদ্যায় ১১০৫ থেকে ১৫৫৭, রসায়নে ৯৬৫ থেকে ১১৮১, গণিতে ৯৯৮ থেকে ১৪৪২ হয়েছে বলে খবর।

বিশ্ববিদ্যালয়ের এক আধিকারিক জানান, ২০২৫ সালে ওবিসি সংরক্ষণ ১৭ শতাংশ হবে, না কি ৭ শতাংশ— তা নিয়ে অনেক পড়ুয়াই ধন্দে ছিলেন। সে কারণে বহু পড়ুয়াই সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের বদলে বেসরকারি প্রতিষ্ঠান বেছে নিয়েছিলেন। কিন্তু গত মে মাসে রাজ্যে পালাবদলের পর সংরক্ষণ সংক্রান্ত জটিলতায় কার্যত যবনিকা পড়ে। ফলে ৭ শতাংশ ওবিসি সংরক্ষণের হিসাব অনুযায়ী সকলে আবেদন করেছেন।

যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সংগঠন জুটার সাধারণ সম্পাদক পার্থপ্রতিম রায় বলেন, “আর্থিক ও পরিকাঠামোগত প্রতিকূলতার মধ্যেও যে ভাবে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও পড়ুয়ারা উৎকর্ষ ধরে রাখতে পারছেন, সেটা সব থেকে বড় কথা। তাই মেধাবীরা এখানে ভর্তি হতে চাইবেন, এর মধ্যে অস্বাভাবিক কিছু নেই।”

এ প্রসঙ্গে ফের উঠে আসে গবেষণার জন্য পর্যাপ্ত জায়গার অভাবের প্রসঙ্গ। এই সমস্যা অবশ্য মেনে নিয়েছেন কর্তৃপক্ষও। তা সত্ত্বেও বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতি পড়ুয়াদের আস্থা বাড়তি ভরসা জোগাচ্ছে বলেও মত তাঁদের।

বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার (ভারপ্রাপ্ত) সেলিমবক্স মণ্ডল বলেন, ‘‘গত বছরে সংরক্ষণ নিয়ে পড়ুয়াদের মধ্যে একটা বিভ্রান্তি ছিল। এ বার সেই বিভ্রান্তি দূর হয়েছে, তারই প্রভাবে ভর্তির আবেদন বৃদ্ধি পেয়েছে।’’

JU Undergraduate Admission
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy