Advertisement
E-Paper

সরকারি কর্মীদের বাড়িতে বসাতেই হবে স্মার্টমিটার! নবান্নের নির্দেশিকা ঘিরে প্রতিক্রিয়া শিক্ষামহলে

গত ৩ জুন নবান্নের তরফ থেকে জানানো হয়েছিল সব সরকারি অফিসে এই মিটার বসাতে হবে। এ বার অফিসের সীমানা অতিক্রম করে সেই নির্দেশ চলে এসেছে সরকারি কর্মীদের বসত বাড়িতেও। আর সেখানেই অনেকে প্রশ্ন তুলছেন, এর পরের ধাপে কি সাধারণ মানুষকেও স্মার্ট মিটার বসাতে বাধ্য করা হবে?

আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ১২ জুন ২০২৬ ১৪:৩২

— প্রতিনিধিত্বমূলক চিত্র।

রাজ্যের সব শিক্ষক, অধ্যাপক ও শিক্ষাকর্মীদের বাড়িতে বসাতে হবে স্মার্ট ইলেকট্রিক মিটার। সম্প্রতি নবান্নের তরফে যে নির্দেশিকা প্রকাশ হয়েছে, তাতে তীব্র প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে শিক্ষামহলে। শিক্ষকদের প্রশ্ন, কোনও ব্যক্তি কী ভাবে বিদ্যুৎ ব্যবহার করবেন, কী জাতীয় মিটার বসাবেন, তা কি সরকার স্থির করে দিতে পারে?

গত ৩ জুন নবান্নের তরফ থেকে জানানো হয়েছিল সব সরকারি অফিসে এই মিটার বসাতে হবে। এ বার অফিসের সীমানা অতিক্রম করে সেই নির্দেশ চলে এসেছে সরকারি কর্মীদের বসত বাড়িতেও। আর সেখানেই অনেকে প্রশ্ন তুলছেন, এর পরের ধাপে কি সাধারণ মানুষকেও স্মার্ট মিটার বসাতে বাধ্য করা হবে?

নবান্ন থেকে জারি করা বিজ্ঞপ্তিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে সব বিভাগের প্রধান, পুলিশের ডিজি, ডিভিশনাল কমিশনার, পুলিশ কমিশনার এবং জেলাশাসককে। তাঁরা সকল সরকারি কর্মীর কাছে এই বার্তা পৌঁছে দেবেন। কেন্দ্র সরকারের ‘রিভ্যাম্পড ডিস্ট্রিবিউশন সেক্টর স্কিম’ অনুযায়ী বিদ্যুৎ সংযোগ নিতে হবে। যাঁরা রাজ্যের তহবিল বেতন, সাম্মানিক বা পারিশ্রমিক পান— সকলকেই তাঁদের বাড়িতে এই মিটার বসাতে হবে। এরপরেই তীব্র প্রতিক্রিয়া শুরু হয়েছে শিক্ষা মহলে।

নামপ্রকাশে অনিচ্ছুক স্কুলের এক প্রধানশিক্ষক বলেন, ‘‘স্মার্ট মিটার বিষয়ে আমাদের কোনও অভিজ্ঞতা নেই। বাড়ি আমাদের ব্যক্তিগত জায়গা। সেখানে সরকারের হস্তক্ষেপের কোনও জায়গা নেই। আমাদের বাড়িতে কী বসাবো আর না বসাবো সেই বিষয়ে কি সরকারের নির্দেশ মেনে চলতে হবে?” বঙ্গীয় শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মী সমিতির সাধদারণ সম্পাদক স্বপন মণ্ডল বলেন, ‘‘ডাবল ইঞ্জিন সরকারের ‘আচ্ছে দিন’ শুরু হয়ে গিয়েছে। নির্বাচনের আগে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলো ইউনিট প্রতি বিদ্যুতের দাম কমাবে। কিন্তু তা না করে উল্টো চাপ দিচ্ছে। সরকারি অফিসের পর এ বার শিক্ষক শিক্ষাকর্মী ও সরকারি কর্মচারীদের বাড়িতে বাধ্যতামূলক স্মার্ট মিটার লাগাতে বলছে।”

শিক্ষানুরাগী ঐক্যমঞ্চের সাধারণ সম্পাদক কিংকর অধিকারী জানান, এই সব মিটারের ফলে অনেক বেশি মূল্য দিতে হয়, বহু ক্ষেত্রে সমস্যা দেখা দেয়। এমন অভিযোগ ওঠে। এই মিটার মূলত ‘প্রিপেড’। অর্থাৎ, আগে টাকা দিয়ে রাখতে হয়, সেই অনুযায়ী বিদ্যুৎ ব্যবহার করা যায়। সে ক্ষেত্রেও মাসের মাঝামাঝি সময়ে সমস্যা হতে পারে বলে মনে করছেন অনেকেই। তবে বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, ‘পোস্টপেড’ পদ্ধতিতেও এই মিটার ব্যবহার করা যেতে পারে।

কিংকরের কথায়, ‘‘আমাদের বাড়িতে আমরা কী ব্যবহার করব সেটা এ ভাবে সরকার নির্দেশ পারে না।’’

কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক সাগরময় ঘোষ অবশ্য জানান যে ব্যক্তিগত ভাবে স্মার্ট মিটারে তাঁর সুবিধা। কিন্তু তাই বলে কোনও ভাবেই কাউকে বাধ্য করা যায় না বলেও জানান তিনি। তবে এই স্মার্ট মিটারে বেশ কিছু অসুবিধাও রয়েছে। তিনি বলেন, “এই বিজ্ঞপ্তিতে স্পষ্ট করে উল্লেখ নেই কোন এলাকায় এই মিটারগুলি কী ভাবে কাজ করবে। পশ্চিমবঙ্গ বিদ্যুৎ উন্নয়ন নিগম লিমিটেড এবং বেসরকারি বিদ্যুৎবণ্টন সংস্থার মূল্য সম্পূর্ণ আলাদা। এর আগেও রাজ্য সরকার এক বার এ বিষয়ে উদ্যোগী হয়েছিল। কিন্তু দেখা গিয়েছে, ব্যবহার করা বিদ্যুতের হিসাব পাওয়া মুশকিল হয়, দামও বেশি পড়ে। এটা বাধ্যতামূলক হওয়াটাও ঠিক নয়।’’

Prepaid Electric Meter smart West Bengal Govt Nabanna
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy