ফাঁস হয়েছে প্রশ্ন, দেশের অন্দরে মুখ পুড়েছে পরীক্ষা নিয়ামক সংস্থা ন্যাশনাল টেস্টিং এজেন্সির (এনটিএ)। দাবি উঠেছে কেন্দ্রীয় শিক্ষা মন্ত্রীর পদত্যাগের। নিট ইউজি-র বাতিল হওয়া পরীক্ষা ফের নেওয়া হবে ২১ জুন। এ বার আর কোনও ফাঁক রাখতে চাইছে না কেন্দ্র।
চিকিৎসাবিদ্যা বিষয়ে স্নাতক পড়ার যোগ্যতা নির্ণায়ক পরীক্ষা নিট ইউজি। প্রবেশিকা আয়োজনে সেনাবাহিনীকে কাজে লাগাচ্ছে কেন্দ্র। প্রতিরক্ষা মন্ত্রক আগেই ঘোষণা করেছে, বায়ুসেনার তত্ত্বাবধানে প্রশ্নপত্র তৈরি হওয়ার পর তা পরীক্ষাকেন্দ্রে পৌঁছে দেওয়ার হবে। এ বার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের সূত্রে জানানো হয়েছে, পুনঃপরীক্ষার দিন সার্বিক সুরক্ষার দায়িত্বে থাকবে আধাসেনা।
সূত্রের খবর, সেন্ট্রাল রিসার্ভ পুলিশ ফোর্স (সিআরপিএফ) এবং সেন্ট্রাল ইন্ডাস্ট্রিয়াল সিকিউরিটি ফোর্স (সিআইএসএফ) প্রশ্নপত্র এবং উত্তরপত্র সুরক্ষিত ভাবে নিরাপদ কেন্দ্রে পৌঁছে দেবে। হায়দরাবাদ এবং অহমদাবাদের কেন্দ্র থেকে সাড়ে ৫০০-র বেশি ‘হাব’-এ প্রশ্নপত্র, উত্তরপত্র পাঠানো হবে। গোটা প্রক্রিয়ায় নজরদারি চালাবে আধাসেনা।
সূত্রের খবর, দ্বিস্তর নিরাপত্তা বলয়ের মাধ্যমে সশস্ত্র আধিকারিকদের উপস্থিতিতে এই কাজ দ্রুত সম্পূর্ণ করা হবে। যাতে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সব কেন্দ্রে প্রশ্নপত্র পাঠানো সম্ভব হয়। এ জন্য নির্দিষ্ট বিমানবন্দর, হেলিপ্যাড এবং অন্য সব রকম গণপরিবহণ ব্যবহার করবেন নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা আধিকারিকেরা।
কোন কোন শহরের কোন কেন্দ্র থেকে প্রশ্নপত্র বিতরণ করা হবে, তা নির্ধারণ করবে ভারতীয় বায়ুসেনা। এ জন্য প্রয়োজনীয় অনুমোদন দেওয়া হয়েছে প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের তরফে। এ ছাড়াও ইতিমধ্যেই কোন আধিকারিক কোথায় কী ভাবে কাজ করবেন, সেই সম্পর্কিত তথ্য এনটিএ এবং ডাক বিভাগকেও জানিয়ে দেওয়া হয়েছে। জানা গিয়েছে, ১১ জুন থেকে ১৯ জুনের মধ্যে পরীক্ষা সংক্রান্ত সব নথি নির্দিষ্ট কেন্দ্রে পৌঁছানোর কাজ সম্পূর্ণ হতে চলেছে।
৩ মে দেশজুড়ে লক্ষাধিক পড়ুয়া মেডিক্যালের স্নাতকের প্রবেশিকায় বসেছিলেন। কিন্তু তার পরই ওঠে প্রশ্নফাঁসের অভিযোগ। গত ১২ মে ন্যাশনাল টেস্টিং এজেন্সি (এনটিএ) ওই পরীক্ষা বাতিল ঘোষণা করে। স্থির হয় ২১ জুন নতুন করে নিট ইউজি পরীক্ষা নেওয়া হবে।
তদন্তে জানা গিয়েছে, ৩ মে পরীক্ষার প্রশ্নফাঁস কাণ্ডে অভিযুক্তদের অনেকেই প্রশ্ন তৈরি করেছিলেন। তাই এ বার পরীক্ষা শেষ না হওয়া পর্যন্ত, প্রশ্নকর্তা এবং অনুবাদকদের নজরবন্দি করে রাখার নিদান দেওয়া হয়েছে। ২১ জুন পর্যন্ত তাঁরা মোবাইল কিংবা ইন্টারনেট ব্যবহার করতে পারবেন না।
৩ মে-এর পরীক্ষায় প্রশ্নফাঁসের পরও যে অনিয়ম থেকে থেকেছে তা নয়। নতুন করে পরীক্ষার আয়োজনের কথা ঘোষণা করার পরই ফের চড়া দামে প্রশ্ন বিক্রির ছক কষা হয়েছে বলে অভিযোগ। যদিও এনটিএ-রএর তরফে দাবি করা হয়েছে, এমন কোনও ঘটনাই ঘটেনি। তবে, অভিযোগ যাচাই করে তদন্ত প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে, যাতে সমাজমাধ্যমের সাহায্যে এমন কোনও চক্র সক্রিয় হতে না পারে।
এ ছাড়াও দেশের বিভিন্ন পরীক্ষাকেন্দ্রে ৫ লক্ষেরও বেশি নিরাপত্তা কর্মীদের পরীক্ষার জন্য মোতায়েন করা হতে চলেছে। পরীক্ষাকেন্দ্র বায়োমেট্রিক ভেরিফিকেশন, ফেশিয়াল রেকগনিশন-এর মতো উন্নত প্রযুক্তির সাহায্যে পরীক্ষার্থীদের পরিচয় যাচাই করা হবে।