Advertisement
E-Paper

২৬/১১-র রাত, কসাবের মুখোমুখি! সেই নার্সের চরিত্রে কঙ্গনা, বাস্তবে কেমন অভিজ্ঞতা হয়েছিল অঞ্জলি কুলঠের?

২০০৮ সালের ২৬ নভেম্বর। নাইট শিফ্‌ট ছিল অঞ্জলি কুলঠের। তাঁর তত্ত্বাবধানে ছিলেন ২০ জন অন্তঃসত্ত্বা মহিলা। সব কিছু স্বাভাবিকই চলছিল। কিন্তু, হঠাৎ জানলা দিয়ে বাইরে তাকিয়ে তিনি দেখেছিলেন, দুই জঙ্গি হাসপাতাল চত্বরে ঢুকে নিরাপত্তারক্ষীদের উপর গুলি চালাচ্ছে।

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ১২ জুন ২০২৬ ১৪:৩২
পর্দায় কঙ্গনা, বাস্তবে কে এই অঞ্জলি?

পর্দায় কঙ্গনা, বাস্তবে কে এই অঞ্জলি? ছবি: সংগৃহীত।

প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পেয়েছে কঙ্গনা রনৌতের ছবি ‘ভারত ভাগ্য বিধাতা’। ২৬/১১-র প্রেক্ষাপটে তৈরি এই ছবি। একজন নার্সের চরিত্রে অভিনয় করেছেন কঙ্গনা। বাস্তবেও জঙ্গি হামলার মধ্যে নিজের প্রাণের ঝুঁকি নিয়ে হাসপাতালের রোগীদের রক্ষা করেছিলেন একজন নার্স। সেই নার্সের চরিত্রেই অভিনয় করেছেন কঙ্গনা। ইতিমধ্যেই সাড়া ফেলেছে ছবিটি। কে এই নার্স?

বাস্তবে ২৬/১১-র সেই রাতে যে নার্স রোগীদের রক্ষা করেছিলেন তাঁর নাম অঞ্জি কুলঠে। মৃত্যুভয় উপেক্ষা করে সামনের সারিতে দাঁড়িয়ে নিজের দায়িত্ব পালন করেছিলেন তিনি।

২০০৮ সালের ২৬ নভেম্বর। সে দিন হাসপাতালে নাইট শিফ্‌ট ছিল অঞ্জলির। তাঁর তত্ত্বাবধানে ছিলেন ২০ জন অন্তঃসত্ত্বা মহিলা। সব কিছু স্বাভাবিকই চলছিল। কিন্তু হঠাৎ জানলা দিয়ে বাইরে তাকিয়ে তিনি দেখেছিলেন, দুই জঙ্গি হাসপাতাল চত্বরে ঢুকে নিরাপত্তারক্ষীদের উপর গুলি চালাচ্ছে। মুহূর্তের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছিল সেই রাতে। শিউরে উঠেছিলেন সকলে। হাসপাতালের করিডরে গুলি ও বিস্ফোরণের শব্দ শুনেই অঞ্জলি দ্রুত তাঁর ওয়ার্ডের দরজা বন্ধ করে দিয়েছিলেন এবং রোগীদের নিরাপদ জায়গায় সরিয়ে নিয়ে যেতে শুরু করেছিলেন। নিজের প্রাণের ঝুঁকি নিয়েই তিনি সবটা করেছিলেন সেই রাতে।

এই ভয়ঙ্কর পরিস্থিতির মধ্যেই একজন অন্তঃসত্ত্বা মহিলার প্রসববেদনা শুরু হয়। জঙ্গি হামলা, বিস্ফোরণ — এই সবের মাঝেই সন্তানের জন্ম দিয়েছিলেন সেই মহিলা। সেই রাতের অভিজ্ঞতা নিয়ে একাধিক সাক্ষাৎকারে কথা বলেছিলেন অঞ্জলি। এক জায়গায় তিনি বলেছিলেন, “আমার একটাই চিন্তা ছিল, মা ও সন্তান যেন নিরাপদে থাকে।” সেই রাতে অঞ্জলির তত্ত্বাবধানে থাকা সমস্ত মহিলাই নিরাপদে ছিলেন শেষপর্যন্ত। এক সাক্ষাৎকারে সেই নার্স বলেছিলেন, “আমার মধ্যে একটা জেদ ছিল। মানুষের সাহায্য না করে আমি মরতে চাইনি। ইউনিফর্মের শক্তিই আমাকে এই কাজ করতে সাহস দিয়েছিল। আমি জানতাম, গুলি আমারও লাগতে পারে। কিন্তু রোগীদের যেন কিছু না হয়।”

নার্সের চরিত্রে কঙ্গনা।

নার্সের চরিত্রে কঙ্গনা। ছবি: সংগৃহীত

অঞ্জলি জানিয়েছিলেন, নিজের বাবাকে দেখে এমন সাহস সঞ্চয় করেছেন তিনি। তাঁর বাবা সান্তাক্রুজ় বিমানবন্দরে কাজ করতেন। ১৯৭৯ সালে সেখানে আগুন লাগলে নিজের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে মানুষের রক্ষা করেছিলেন তিনিও। এই ঘটনা অনুপ্রেরণা জুগিয়েছিল অঞ্জলিকে। তাই ২৬/১১-র রাতে একটুও ভয় না পেয়ে ল়ড়াই করে গিয়েছিলেন তিনি।

কী ভাবে সবটা সামাল দিয়েছিলেন তিনি? এক সাক্ষাৎকারে অঞ্জলি বলেন, “আমি প্রথমে রোগীদের মোবাইল ফোন বন্ধ করতে বলি, যাতে মোবাইলের শব্দ জঙ্গিরা না পায়।” সেই রাতের কয়েক সপ্তাহ পরেও গুরুদায়িত্ব এসে পড়েছিল অঞ্জলির উপর। জীবিত ধরা পড়া একমাত্র জঙ্গি আজমল কসাবকে শনাক্ত করতে বলা হয়েছিল তাঁকে। কসাবের সামনে দাঁড়িয়ে তিনি তাকে শনাক্ত করেছিলেন। অঞ্জলির কথায়, “সে হেসে বলেছিল, ‘ম্যাডাম, আপনি ঠিকই চিনেছেন। আমিই আজমল কসাব।’” কিন্তু, কসাবের মধ্যে অনুশোচনার অভাব দেখে অবাক হয়েছিলেন অঞ্জলি। এই অঞ্জলির চরিত্রই পর্দায় ফুটিয়ে তুলেছেন কঙ্গনা।

Kangana Ranaut
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy