মুর্শিদাবাদের বেলডাঙার অশান্তির ঘটনার তদন্ত জাতীয় তদন্তকারী সংস্থার (এনআইএ) হাত ‘খুলে’ দিল শুভেন্দু অধিকারীর সরকার। সেই ঘটনায় এনআইএ তদন্ত নিয়ে আপত্তি ছিল পূর্বতন তৃণমূল সরকার। বেলডাঙার অশান্তির ঘটনায় ইউপিএ ধারা প্রয়োগ নিয়ে আপত্তি করেছিল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকারের। বিষয়টি সুপ্রিম কোর্টে গড়ায়। শুধু তা-ই নয়, এনআইএ তদন্ত নিয়েও আপত্তি জানিয়ে আদালতে আবেদন করা হয়েছিল। তবে পশ্চিমবঙ্গের বর্তমান সরকার সেই আবেদন প্রত্যাহার করে নিল।
বেলডাঙার হিংসার ঘটনা নিয়ে কলকাতা হাই কোর্টে জনস্বার্থ মামলা দায়ের হয়েছিল। মামলা করেছিলেন পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার তৎকালীন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দুও। সেই মামলায় রাজ্যের উচ্চ আদালতের প্রধান বিচারপতি সুজয় পাল এবং বিচারপতি পার্থসারথি সেনের ডিভিশন বেঞ্চ জানিয়েছিল, কেন্দ্রীয় সরকার যদি চায় তবে এনআইএ-কে দিয়ে তদন্ত করাতে পারে। একই সঙ্গে রাজ্যকে বলেছিল, প্রয়োজনে কেন্দ্রের কাছ থেকে আরও কেন্দ্রীয় বাহিনী চাইতে পারে তারা। হাই কোর্টের সেই নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করে শীর্ষ আদালতে যায় রাজ্য।
তবে সুপ্রিম কোর্ট এনআইএ তদন্তের নির্দেশে হস্তক্ষেপ করেনি। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশের পরেও বেলডাঙার ঘটনার কেস ডায়েরি এবং ধৃত অভিযুক্তদের হস্তান্তর নিয়ে রাজ্য পুলিশ এবং এনআইএর মধ্যে টানাপড়েন চলে। নিম্ন আদালত থেকে সেই বিষয় সুপ্রিম কোর্টে যায়। শেষপর্যন্ত আদালতের নির্দেশে মামলার কেস ডায়েরি এবং ধৃতদের এনআইএর হাতে তুলে দেয় পুলিশ।
ঝাড়খণ্ডে পরিযায়ী শ্রমিকের মৃত্যুকে কেন্দ্র করে বিধানসভা ভোটের আগে অশান্ত হয়ে উঠেছিল বেলডাঙা। দফায় দফায় উত্তেজনা ছড়ায়। ভাঙচুর, রেল অবরোধ, জাতীয় সড়কে বিক্ষোভ, সাংবাদিকদের মারধরের ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে লাঠিচার্জ করতে হয় পুলিশকে। ঘটনার পর পরই তদন্ত শুরু করে পুলিশ। সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখে অশান্তির ঘটনায় যুক্ত অভিযুক্তদের গ্রেফতারও করা হয়। পরে এই মামলায় তদন্ত শুরু করে এনআইএ।