জীবনযাত্রায় অনিয়ম, অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস, শরীচর্চায় দিকে খেয়াল না রাখা, অতিরিক্ত মদ্যপান— এগুলিই যদি আধুনিক জীবনের সঙ্গী হয়ে থাকে, তা হলে তার ফল অবশ্যই ফ্যাটি লিভার বা লিভার সিরোসিসের মতো মারণরোগ। বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই নিজেদের কিছু বদভ্যাস ও ভুলের কারণেই শরীরে বাসা বাঁধে লিভারের অসুখ। শিশুদের ক্ষেত্রেও তাদের বাবা-মায়েরা যদি প্রথম থেকেই সচেতন হন, তা হলে জীবনশৈলীর উপর ছোটবেলা থেকেই নিয়ন্ত্রণ তৈরি হবে। বড়দেরও উচিত লিভার ভাল রাখার উপায়গুলি আয়ত্তে আনা। ঘুম থেকে ওঠার মুহূর্ত থেকেই লিভার বিরামহীন ভাবে কাজ করে চলে, শরীরের অভ্যন্তরে জমা হওয়া বিষাক্ত পদার্থগুলি ছেঁকে ফেলা, রক্তে শর্করার ভারসাম্য বজায় রাখা এবং হজমে সাহায্য করা— লিভারে কাজ অনেক। সকালে উঠে মোবাইল নিয়ে ঘাঁটাঘাঁটি করে অনেকটা সময় কেটে যায় অজান্তেই। তার বদলে ৫টি কাজ করলেই কিন্তু লিভারের স্বাস্থ্য ভাল রাখা সম্ভব।
১) দিনের শুরুটা হোক গরম জল খেয়ে
লিভার ভাল রাখতে দিনের শুরুটা এক গ্লাস গরম জল খেয়ে করুন। দীর্ঘ সময় না খেয়ে থাকার পর ঘুম থেকে উঠেই জল খেয়ে নিলে শরীরের আর্দ্রতা বজায় থাকে এবং পরিপাকতন্ত্রের কাজকর্ম সুষ্ঠু ভাবে শুরু হয়, লিভারের উপর খুব বেশি চাপ পড়ে না।
২) লেবু-জলে না
লিভার ডিটক্স পানীয় হিসাবে লেবু-জল বা অ্যাপ্ল সাইডার ভিনিগার খান অনেকেই। তবে পুষ্টিবিদেরা কিন্তু বারে বারে এই বিষয় সতর্ক করছেন। কারও কারও ক্ষেত্রে এগুলি কাজ করলেও, অনেকেরই এই অভ্যাসের কারণে বুক জ্বালা, অ্যাসিড বা পেট ফাঁপার মতো সমস্যা হয়। এই পানীয় খেলেই লিভার চাঙ্গা থাকবে, এমন নয়। শুধু গরম জল খেলেই কাজ হবে।
৩) প্রাতরাশ ভুললে চলবে না
ব্যস্ত দিনে অনেকেই প্রাতরাশ না করেই বাড়ি থেকে বেরিয়ে যান। অনেকে বেলা করে খাওয়াকে রীতিমতো অভ্যাসে পরিণত করে তুলেছেন কেউ কেউ। তবে লিভার ভাল রাখতে চাইলে সবার আগে এই অভ্যাস বদলাতে হবে। ঘুম থেকে উঠে দু’ থেকে তিন ঘণ্টার মধ্যে প্রাতরাশ সেরে ফেলুন। বেশি ক্ষণ খালি পেটে থাকলে রক্তের শর্করার মাত্রা বেড়ে যায়। সুগার নিয়ন্ত্রণে আনতে সে ক্ষেত্রে লিভারকে বেশি কাজ করতে হয়, তার উপর বেশি চাপ পড়ে।
৪) খালি পেটে চা-কফি নয়
ঘুম থেকে উঠেই চা-কফি খান অনেকেই। খালি পেটে এই সব পানীয় খেলে হজমপ্রক্রিয়া ব্যহত হয়। পেট ফাঁপা, গ্যাস, অম্বলের সমস্যা বাড়ে। এই সমস্যাগুলি পরোক্ষ ভাবে লিভারেরও ক্ষতি করে। ঘুম থেকে উঠে গরম জল খাওয়ার পর হালকা কিছু খেয়ে তার পরে চা-কফি খাওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন পুষ্টিবিদেরা।
৫) সকালে উঠে মন শান্ত রাখতে হবে
মানসিক চাপ বেশি থাকলেও প্রভাব পড়তে পারে লিভারের উপর। তাড়াহুড়ো করে কাজ করা বা ঘুম থেকে উঠেই ফোনে নজর রাখলে শরীরে স্ট্রেস হরমোনের মাত্রা বেড়ে যায়, যা লিভারের কার্যকারিতায় নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। দিনের শুরুতে কিছু শ্বাসের ব্যায়াম, যোগাসন করলে মানসিক চাপ খানিকটা হলেও নিয়ন্ত্রণে থাকে।