সে এক সময় ছিল যখন রোদে তেতেপুড়ে বাড়িতে এলে কুঁজো বা জালা থেকে জল গড়িয়ে নিয়ে মুখের সামনে ধরতেন মায়েরা। জালা থেকে জল বের করার জন্য আলাদা এক রকমের বাসনও ছিল। ছোট্ট ধাতব ঘটির গায়ে লম্বা লাঠির মতো ধাতব একটি হ্যান্ডেল লাগানো থাকত। যাতে জল নিতে গ্লাস সমেত হাত জালার ভিতরে ঢোকাতে না হয়। ফ্রিজের ঠান্ডা জলের থেকে সেই জলে আরাম ছিল বেশি!
আসলে কুঁজো বা জালার জলে ঠান্ডা ভাবের সঙ্গে খানিক মিষ্টি নরম ভাবও থাকত। দাঁত কনকনানো কিংবা সূচ বেঁধানো ঠান্ডা নয়, জালা বা কুঁজোয় রাখা জল ঠিক ততটাই ঠান্ডা হত, যতটা শরীরকে আরাম দিতে প্রয়োজন। কোনও কোনও বাড়িতে আবার কুঁজো বা জালার জলে ছড়িয়ে দেওয়া হত খাওয়ার কর্পূর। তাতে ঠান্ডাবোধ বাড়ত আরও বিধ্বস্ত শরীরে অমৃতসমান লাগত সে জল। ঘরে ঘরে রেফ্রিজারেটর আসায় গরমে বাঙালিবাড়ির সেই চেনা দৃশ্য উধাও হল। আজও জালা-কুঁজো পাওয়া যায়। শহরে, মফস্বলে তার ব্যবহার তেমন চোখে না পড়লেও শহরে মাটির জলের বোতল এখন অনেকেই কিনছেন। গরমে ফ্রিজের জলের থেকে অনেক বেশি উপকারী মাটির জালা, কুঁজো বা মাটির পাত্রে রাখা জল।
কেন মাটির পাত্রে রাখা জল খাবেন?
১। জালা বা কুঁজোয় রাখা জল খুব গরমও নয় আবার খুব বেশি ঠান্ডাও নয়। যা অন্ত্রের স্বাস্থ্যের জন্য ভাল। ফ্রিজের অতিরিক্ত ঠান্ডা জল পেটের স্বাস্থ্যের ক্ষতি করতে পারে।
২। গরমে এমনিতেই হজমের নানা রকম সমস্যায় ভোগেন মানুষ। মাটির পাত্রে রাখা জল হজমের জন্যও উপকারী। মাটির পাত্রে সংরক্ষিত জলের তাপমাত্রা পাকস্থলীর জন্য খুবই আরামদায়ক।
৩। অনেকেই ঠাট্টা করে বলেন, ‘‘জল খেলেও অ্যাসিডিটি হয়!’’ কথাটি পুরোপুরি ভুলও নয়। জলে অম্ল উপাদান থাকে। মাটির পাত্রে যে সব খনিজ থাকে, তা জলের প্রাকৃতিক অম্ন ভাব দূর করে শরীরের পিএইচ ভারসাম্য ঠিক রাখে।
৪। খুব সামান্য হলেও মাটির পাত্রে জল রাখলে তাতে কিছু কিছু খনিজ পদার্থ মেশে। যেমন ক্যালশিয়াম, ম্যাগনেশিয়াম, আয়রন ইত্যাদি। যা প্লাস্টিকের বোতলে রাখা জলের থেকে অনেক বেশি উপকারী।
৫। প্লাস্টিকের বোতল থেকে তাপের হেরফেরে বিষাক্ত রাসায়নিক নিঃসরণ হয়। যা জলে মেশে। মাটির জালা, কুঁজো বা বোতলে সেই ঝুঁকি নেই।