Advertisement
E-Paper

মুক্তির ৩০ বছর পরে কেন কোপ পড়ল আনন্দ পটবর্ধনের ‘ফাদার, সন অ্যান্ড হোলি ওয়র’ ছবিতে?

আনন্দের অন্য অনেক বিতর্কিত ও স্পর্শকাতর ছবি রয়েছে ইউটিউবে। কিন্তু হঠাৎই যেন কোপ পড়ল আনন্দের ১৯৯৫ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত ছবি ‘ফাদার, সন অ্যান্ড হোলি ওয়র’-এর উপর।

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ১২ জুন ২০২৬ ১৯:১২
আনন্দ পটবর্ধনের ছবিতে আপত্তি?

আনন্দ পটবর্ধনের ছবিতে আপত্তি? ছবি: সংগৃহীত।

১৯৯২ সালে তথ্যচিত্র নির্মাতা আনন্দ পটবর্ধন তৈরি করেছিলেন ‘রাম কে নাম’ ছবিটি। মুম্বই থেকে অযোধ্যা— বিতর্কিত রাম জন্মভূমি ও বাবরি মসজিদ প্রসঙ্গ এবং তার পরবর্তী পরিস্থিতি উঠে এসেছিল আনন্দের নির্মাণে। এই ছবি এক সময় গোটা দেশে নিষিদ্ধ হয়। তবে সে সব অতীত। এই ছবি এখন বিনা বাধায় দেখা যায় ইউটিউবে। শুধু এটিই নয়, আনন্দের একাধিক বিতর্কিত ও স্পর্শকাতর ছবি রয়েছে ইউটিউব-এই। কিন্তু, হঠাৎই যেন কোপ পড়ল আনন্দের ১৯৯৫ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত ‘ফাদার, সন অ্যান্ড হোলি ওয়র’ ছবির উপর।

এই ছবি মুক্তির পরে কেটে গিয়েছে প্রায় ৩১ বছর। হঠাৎ তিন দশক পরে এই ছবির উপর কোপ কেন? ছবিটি যখন মুক্তি পায়, তখন দেশে কংগ্রেস সরকার। পিভি নরসিংহ রাও ছিলেন প্রধানমন্ত্রী। সেই সময়ে সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে এই ছবি দূরদর্শনের ‘প্রাইম টাইম’-এ জনগণের স্বার্থে সম্প্রচারিত হয়েছিল। ছবিটি ‘ইউ/এ’ শংসাপত্র নিয়ে মুক্তি পায়। দু’টি জাতীয় পুরস্কারও পেয়েছিল এই ছবি। তবে এত বছর পরে ইউটিউব-এর দাবি, এই ছবির বিষয়বস্তুতে হিংসা, মারামারি রয়েছে। আর তাতেই আপত্তি ইউটিউব কর্তৃপক্ষের।

এই ঘটনার পরে নিজের ক্ষোভ উগরে দিয়ে সমাজমাধ্যমে আনন্দ বলেন, ‘‘এটি একটি তথ্যচিত্র, যা ধর্মীয় গোঁড়ামি এবং ক্ষমতার জন্য প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারী রাজনীতিবিদদের দ্বারা সৃষ্ট হিংসার কথা তুলে ধরেছে। এই ছবি কোনও ভাবে হিংসাকে সমর্থন করছে না। ইউটিউব-এর লজ্জা হওয়া উচিত! সেন্সর তুলে দেওয়া হোক। এটা কোনও কাজের কথা নয়।”

আনন্দ তাঁর বক্তব্যে সংযোজন করে লেখেন, ‘‘আমার ছবিটি বিনোদনের জন্য তৈরি নয়, যেখানে যৌনতা ও হিংসা দেখিয়ে দর্শককে প্রভাবিত করা হবে। আমরা বাস্তবজীবনকে ক্যামেরাবন্দি করেছি। যদি মনে হয়, এখানে হিংসায় উস্কানি দেওয়া হয়েছে, তা হলে আমি বলব সেই সময়ের নেতাদের প্রশ্ন করা উচিত, যাঁরা ঘৃণার উদ্রেককারী ভাষণ দিয়েছেন। এই ছবি মানুষকে সচেতন করার উদ্দেশ্যে বানানো একটি অহিংস ছবি।’’ আনন্দের এই পোস্টের পরেই বিভিন্ন গোষ্ঠী তাঁর পাশে দাঁড়ায়। প্রতিবাদের মুখে আবার ইউটিউব ফিরিয়ে আনে ছবিটিকে।

কিন্তু কী এমন আছে এই ছবিতে? এই ছবিতে ১৯৮৭ সাল থেকে ১৯৯৩ সাল পর্যন্ত ভারতের বিভিন্ন রাজ্যের রাজনৈতিক নেতাদের পেশিশক্তি, ক্ষমতা প্রদর্শনের চলমান চিত্র তুলে ধরা হয়েছে। গেরুয়া শিবিরের একটা বড় অংশের নেতানেত্রীদের বিভিন্ন পথসভা, জনসভার ভাষণ রয়েছে। ১৯৯৫ সালে মহারাষ্ট্রে শিবসেনা সরকার গঠন করে। তার আগে মহারাষ্ট্রের বিভিন্ন জায়গায় বালাসাহেব ঠাকরের ভাষণ-সহ ভরতীয় রাজনীতির একাধিক চিত্র, এই সমাজের বদলে যাওয়া ছবিকে তুলে ধরেছিলেন পরিচালক। ছবিটিকে পুনরায় সংরক্ষণ করা হয়েছে। আনন্দ এটিকে ছোট্ট একটা জয় হিসাবেই দেখেছেন। কৃতজ্ঞতাও প্রকাশ করেছেন পরিচালক।

Anand Patwardhan Documentary
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy