Advertisement
E-Paper

পড়াশোনা করলেই চাকরি, শিক্ষায় আস্থা ফিরবে! আশাবাদী স্কুল শিক্ষা মন্ত্রী এড়ালেন এসএসসি নিয়োগ প্রসঙ্গ

বৃহস্পতিবার স্কুল শিক্ষা দফতরের মন্ত্রী হিসাবে দায়িত্ব নিয়ে বিকাশ ভবনে আসেন দীপক। সেখানেই সাংবাদিকদের মুখোমুখি জানান, শিক্ষাব্যবস্থার প্রতি বিশ্বাসটাই নষ্ট হয়ে গিয়েছে। তা ফিরিয়ে আনাই তাঁদের ‘চ্যালেঞ্জ’।

আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ১১ জুন ২০২৬ ১৪:৩৯
বিকাশ ভবনে দীপক বর্মন।

বিকাশ ভবনে দীপক বর্মন। নিজস্ব চিত্র।

পড়ুয়াদের আত্মবিশ্বাস ফিরিয়ে আনতে চাইছে নতুন সরকার— বৃহস্পতিবার রাজ্য স্কুল শিক্ষা দফতরের দায়িত্ব নিয়ে এ কথাই শোনালেন ফালাকাটার বিজেপি বিধায়ক দীপক বর্মন।

বৃহস্পতিবার স্কুল শিক্ষা দফতরের মন্ত্রী হিসাবে দায়িত্ব নিয়ে বিকাশ ভবনে আসেন দীপক। সেখানেই সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে বলেন, “পড়াশোনা করলে যে চাকরি হয় এবং শিক্ষকেরা যে সততার সঙ্গে পড়াতে পারেন এই বিশ্বাসটাই নষ্ট হয়ে গিয়েছে। তা ফিরিয়ে আনাই হবে ‘চ্যালেঞ্জ’।” কার্যত স্বীকার করেন স্কুলে স্কুলে শিক্ষক নিয়োগ আশু প্রয়োজন। কিন্তু এসএসসি-র নিয়োগ সংক্রান্ত বিষয়ে মুখ খুলতে নারাজ দীপক।

২০২৫-এর এপ্রিলে সুপ্রিম কোর্টের রায়ে চাকরি গিয়েছে ২৬০০০ শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মীর। ২০১৬ স্কুল সার্ভিস কমিশনের গোটা প্যানেল বাতিলের পর গত বছর থেকেই নতুন করে শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু করেছে এসএসসি। সুপ্রিম কোর্টের রায় অনুযায়ী আগামী ৩১ অগস্টের মধ্যে শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে। নইলে বিপদে পড়বেন ২০১৬ প্যানেলে থাকা যোগ্য চাকরিহারা শিক্ষকেরা। সেই প্রক্রিয়া অনেকখানি এগিয়েছে। একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়ায় বহু প্রার্থীই সুপারিশপত্র পেয়েছেন বিধানসভা নির্বাচনের আগে। কিন্তু তার পর থমকে গিয়েছে সব কাজ। এখনও নিয়োগপত্র হাতে পাননি। ফলে কাজে যোগ দিতে পারছেন না তাঁরা।

যোগ্য চাকরিহারাদের অনেকেই নতুন করে পরীক্ষা দিয়ে ফের নিজেদের যোগ্যতা প্রমাণ করেছেন। কিন্তু আগামী দিনে কী ঘটতে চলেছে, কবে তাঁরা কাজে যোগ দিতে পারবেন তা নিয়ে অনিশ্চয়তা কাজ করছে। এরই মধ্যে নতুন করে আশঙ্কার কালো মেঘ ঘনাচ্ছে ওবিসি সংরক্ষণ নিয়ে। নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পরই ২০১০-পরবর্তী ওবিসি বিধি রদ করার কথা জানিয়েছে। সে ক্ষেত্রে বহু প্রার্থীপদ বাতিলের আশঙ্কা রয়েছে।

এসএসসি নিয়োগ সংক্রান্ত বিষয়ে বৃহস্পতিবার প্রশ্ন করা হয় দীপক বর্মনকে। তবে তিনি সে প্রশ্নের উত্তর দিতে রাজি হননি। বলেন, “এসএসসি নিয়ে এত মামলা হয়ে রয়েছে, সবটা না দেখে নিয়ে এ বিষয়ে কোনও মন্তব্য করব না। আগে বিষয়টা বুঝে নিতে দিন। একটু সময় লাগবে। এত তাড়াতাড়ি পরিস্থিতি বদলাবে না।”

গত ৯ মে রাজ্যে বিজেপি সরকার শপথ নিয়েছে। তার পরই পূর্বতন সরকার মনোনীত সব পদাধিকারিকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। তারই ফলে এই মুহূর্তে স্কুল সার্ভিস কমিশনের চেয়ারম্যান এবং মধ্যশিক্ষা পর্ষদের সভাপতি পদও শূন্য। থমকে নিয়োগ প্রক্রিয়া। সম্প্রতি ডিআই-দের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হিসাবে নিয়োগ করে পরিস্থিতির সামাল দেওয়ার চেষ্টা হচ্ছে। এসএসসি-র কেন্দ্রীয় অফিসে স্থায়ী দায়িত্ব সামলাচ্ছেন ভারপ্রাপ্ত হিসাবে। এই পরিস্থিতি থেকে খুব শীঘ্রই যে বেরিয়ে আসা যাবে না, তারই ইঙ্গিত যেন দিয়ে রাখলেন স্কুল শিক্ষা মন্ত্রী।

দীপক বর্মন অবশ্য স্বীকার করেন, সারা রাজ্যে সরকারি ও সরকার পোষিত স্কুলগুলি ধুঁকছে। কোথাও শিক্ষকের ঘাটতি, আবার কোথাও শিক্ষকেরা এসে স্কুলে বসে থাকেন, আসে না পড়ুয়া। এ বিষয়ে দীপক বলেন, “সকলকে এক ছাতার তলায় নিয়ে আসা হবে। স্কুলশিক্ষার প্রতি আস্থা ফেরাতে সরকার তৎপর হবে সরকার।”

School Eductaion
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy