নিট ইউজি নিয়ে বিতর্কের শেষ নেই। এ বার সেই কাটা ঘায়ে কি নুনের ছিটে দিতে চাইলেন ভারতে চিনা দূতাবাসের মুখপাত্র ইউ জিং? তাঁর সমাজমাধ্যমের পোস্ট ঘিরে ছড়িয়েছে তেমনই জল্পনা। যদিও সরাসরি নিট প্রশ্নফাঁস প্রসঙ্গের উল্লেখ করেননি জিং। জানিয়েছেন, চিনে কত সুষ্ঠু ভাবে প্রায় ১ কোটি ৩০ লক্ষ পরীক্ষার্থীর জন্য ‘গাওকাও’-এর ব্যবস্থা করা হয়েছে।
সম্প্রতি শেষ হয়েছে চিনের ‘গাওকাও’। দু’দিন ধরে চলা ওই পরীক্ষা আসলে সে দেশে চিকিৎসাবিদ্যা, ইঞ্জিনিয়ারিং-সহ অন্য ক্ষেত্রে উচ্চ শিক্ষার প্রবেশিকা। ভারতে নিট বা জেইই-র সমতুল্য। ইউ জিং-এর এক্স হ্যান্ডলে করা পোস্টের সারমর্ম, পর্যাপ্ত গণ-পরিবহণ পরিষেবা থেকে শুরু সুষ্ঠ ভাবে পরীক্ষার আয়োজন— সবেতেই এগিয়ে চিন সরকার। তিনি লেখেন, “চিনের গাওকাও বিশ্বের বৃহৎ পরীক্ষা, যা ভারতে নিট, জেইই-র সমতুল। দু’দিন ধরে চলা ওই পরীক্ষা সুষ্ঠ ভাবে দিতে পেরেছেন ১.৩ কোটি পড়ুয়া। এ জন্য সমস্ত কারখানার কাজ বন্ধ রাখা হয়েছিল, রাস্তাঘাটও যানজট মুক্ত। পরীক্ষার্থীদের স্বার্থে গোটা দেশের মানুষ ঐক্যবদ্ধ হয়েছিলেন।”
আরও পড়ুন:
চিনের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির প্রবেশিকা হল গাওকাও। চিনে মেডিক্যাল, ইঞ্জিনিয়ারিং-এর জন্য আলাদা করে কোনও প্রবেশিকা নেওয়া হয় না। গাওকাও পাশ করতে পারলেই পড়ুয়ারা উচ্চশিক্ষার সুযোগ পেয়ে থাকেন। ওই পরীক্ষার দিনগুলিতে যাতে উচ্চমাত্রায় কোনও শব্দ পরীক্ষার্থীদের মনোযোগে বাধা না হয়, সে জন্য কারখানার কাজ বন্ধ থাকে। যানবাহনও চলে না পরীক্ষাকেন্দ্রের আশেপাশে। সরকারি নির্দেশ মেনেই এই ব্যবস্থা।
চিনা মুখপাত্রের ওই পোস্টে এ দেশের অনেক নেটাগরিক মন্তব্য করেছেন। তাঁদের একাংশের দাবি, এ দেশের পরীক্ষাকেন্দ্রে শব্দের তীব্রতা কমাতে তেমন কিছুই করা হয় না। আবার অনেকেই চিনের পরীক্ষার ব্যবস্থাপনার প্রশংসাও করেছেন।
চলতি বছরে জেইই নিয়ে তেমন কোনও সমস্যা না হলেও, নিট-এর প্রশ্নপত্র ফের ফাঁস হয়ে যাওয়া পরীক্ষার ব্যবস্থাপনা নিয়ে কার্যত মুখ পুড়েছে ন্যাশনাল টেস্টিং এজেন্সি-র।