সিবিএসই-র অনস্ক্রিন মার্কিং (ওএসএম) নিয়ে বিতর্কের শেষ নেই। বহু পড়ুয়াই অভিযোগ করেছেন তাঁদের খাতা সঠিক মূল্যায়ন হয়নি। ফলে লক্ষ লক্ষ পড়ুয়ার ভবিষ্যৎ নিয়ে উঠেছে প্রশ্ন। অথচ, সেই ওএসএম পদ্ধতিই ভবিষ্যৎ গড়ে দিচ্ছে এক বাঙালি তরুণের!
দ্বাদশের গণ্ডি পেরোনোর পরই চাকরি পাওয়া সহজ নয়। সেই অসাধ্য সাধন করলেন ১৯ বছরের নিসর্গ অধিকারী। ২০২৬-এ সিবিএসই-র দ্বাদশের পরীক্ষায় পাশ করার পরই আইআইটি কানপুরে চাকরি পেয়েছেন। নেপথ্যে রয়েছে সিবিএসই-র অন স্ক্রিন মার্কিং (ওএসএম) পদ্ধতির গলদ খুঁজে বের করার সাফল্য।
সাইবার সুরক্ষা নিয়ে কাজ করতে আগ্রহী নিসর্গ দ্বাদশের পরীক্ষায় প্রাপ্ত নম্বর নিয়ে সংশয়ে ছিলেন। তিনি জানতে চেয়েছিলেন ঠিক কী ভাবে সিবিএসই-র পোর্টালের মাধ্যমে মূল্যায়ন করা হয়েছিল? এ প্রশ্নের উত্তর পেতেই সেই পোর্টাল হ্যাক করার চেষ্টা করেন তিনি। আর সেখানেই ধরা পড়ে পোর্টালের সুরক্ষা ব্যবস্থায় কী কী গলদ রয়েছে। এ বিষয়ে নিজের ব্লগে বিস্তারিত জানান নিসর্গ। এর পর তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সিবিএসই এবং লোকসভার স্ট্যান্ডিং কমিটির বৈঠকে ডেকে পাঠানো হয়।
আইআইটি কানপুরে নিসর্গকে সাইবার সুরক্ষা বিভাগের ওপেন সোর্স ইন্টালিজেন্স অ্যান্ড থ্রেট ইন্টালিজেন্স ইঞ্জিনিয়ার পদে নিয়োগ করা হয়েছে। প্রতিষ্ঠানের অধিকর্তা মণীন্দ্র অগরওয়াল বলেন, “আমরা তরুণদের ইঞ্জিনিয়ার হিসাবে কাজের সুযোগ আগেও দিয়েছি। তবে, এই প্রথম ১৯ বছর বয়সি কোনও পড়ুয়াকে নিয়োগ করা হল। নিসর্গ অধিকারী যথেষ্ট প্রতিভাবান, তাঁকে আরও দক্ষতা অর্জন করতে হবে। সেই সুযোগ আইআইটি কানপুর থেকে পাওয়া সম্ভব।” মণীন্দ্র আশাবাদী, বুদ্ধিমত্তা আর পরিশ্রমের সাহায্যে নিসর্গ আরও এগিয়ে যাবে।
নিসর্গের সঙ্গে আইআইটি অধিকর্তার আলাপ সিবিএসই-র দফতরেই। দু’সপ্তাহ আগে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রীর নির্দেশে সিবিএসই পোর্টালে প্রযুক্তিগত সমস্যার সমাধানে আইআইটি কানপুর এবং আইআইটি মাদ্রাজের বিশেষজ্ঞেরা এগিয়ে এসেছিলেন। সেই সময়ই ১৯ বছরের নিসর্গের থেকে সাইবার সুরক্ষা সংক্রান্ত বিষয়ে বিশদে জেনেছিলেন মণীন্দ্র অগ্রবাল। এর পরই সিদ্ধান্ত হয়, প্রতিষ্ঠানের সাইবার সুরক্ষা বিভাগে তাঁকে চুক্তির ভিত্তিতে নিয়োগ করা হবে।
সাইবার সুরক্ষা নিয়ে ছোটবেলা থেকেই আগ্রহী নিসর্গ। সংবাদমাধ্যমকে তিনি জানিয়েছেন, ছ’বছর বয়সে সাধারণ অঙ্ক করতে করতেই কোডিং শেখা শুরু হয়েছিল তাঁর। ষষ্ঠ শ্রেণি থেকে সাইবার সুরক্ষা নিয়ে পড়াশোনা শুরু করেন। স্কুলের পঠনপাঠনের সঙ্গে ওই বিষয় নিয়েও পুরোদমে চর্চা চলে তাঁর। পাশাপাশি, বিভিন্ন সাইবার সুরক্ষা বিষয়ক প্রতিযোগিতায় যোগদান করে অভিজ্ঞতা অর্জন করতে থাকেন।
নিসর্গ ইতিমধ্যেই ফ্রিল্যান্সার এবং চুক্তিভিত্তিক কিছু প্রকল্পে সফট্অয়্যার ইঞ্জিনিয়ার এবং সাইবার সুরক্ষা বিশেষজ্ঞ হিসাবে কাজ করেছেন। এর আগে তিনি আমেরিকার এক সংস্থায় কাজ করে অর্থ উপার্জনও করেছেন। সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে নিসর্গ জানিয়েছেন, আইআইটি বেতনের পরিমাণ সেই তুলনায় অনেকটাই কম। তবে এ সুযোগ তিনি হাতছাড়া করবেন না। উচ্চশিক্ষার পরিবর্তে তিনি পেশাগত দিকে উন্নতির কথাই ভাবছেন। ভবিষ্যতে উদ্যোগপতি হিসাবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে চান।
পড়াশোনা ছাড়াও নিসর্গের ভালবাসা জাপানি কার্টুন (অ্যানিম)। তাঁর নিজস্ব ব্লগের ওয়েবসাইট কিংবা লিঙ্কডইন-এর প্রোফাইল— সবেতেই অ্যানিম দুনিয়ার জনপ্রিয় চরিত্রের ছবি রয়েছে।