রাজ্যের ৫১টি সরকারি আইটিআই-তে বেসরকারি সহায়তায় কর্মসংস্থানের চেষ্টা করবে রাজ্য সরকার। শুক্রবার মিলনমেলায় এক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে ‘প্রধানমন্ত্রী স্কিল অ্যান্ড এমপ্লয়িবিলিটি ট্রান্সফর্মেশন থ্রু আপগ্রেডেড আইটিআই’ বা ‘পিএমসেতু’ প্রকল্পের প্রথম কর্মশালা শুরু হয়।
রাজ্যের উচ্চ, কারিগরি শিক্ষা প্রশিক্ষণ ও দক্ষতা উন্নয়ন মন্ত্রী জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায় এ দিন সাংবাদিকদের জানান, বিভিন্ন শিল্প সংস্থা, বিশ্বব্যাঙ্কের প্রতিনিধি, উপদেষ্টা সংস্থা এবং দফতরের আধিকারিকদের নিয়ে প্রথম কর্মশালা হয়েছে। তিনি বলেন, ‘‘পরিযায়ী শ্রমিকের রাজ্যকে নতুন কর্মসংস্থানের রাজ্যে পরিণত করব। ২০২৪ সালে কেন্দ্রীয় সরকার এই প্রকল্প শুরু করলেও পিএম নাম যুক্ত থাকার জন্য বিগত তৃণমূল সরকার এই প্রকল্পে অন্তর্ভুক্ত হয়নি। এ বার সব রকম উন্নতি হবে।”
আরও পড়ুন:
এ দিন তিনি দাবি করেন, বিগত সরকারের আমলেই বিভিন্ন সরকারি আইটিআই-এর জমি-বাড়ি বেসরকারি সংস্থাকে দিয়ে দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু সেখানেও বালি সিমেন্টের সিন্ডিকেট চলেছে। নতুন সরকারের আমলে চিত্রের বদল হবে। মন্ত্রী বলেন, ‘‘এ রাজ্যে ৫১টি আইটিআইকে বেচতে আমি আর আমাদের পুরো দল পথে নামব। শিল্প সংস্থাগুলির কাছে আমাদের আবেদনটাই ভিন্ন হবে। আমরা পায়ে ধরে বলব, আসুন একটা আইটিআই নিন। আমাদের সঙ্গে যুক্ত হোন। কোনও সংস্থাকে আমাদের কাছে আসতে হবে না। আমরা তাদের কাছে যাব।’’
এই প্রকল্পে কী হবে?
কোনও শিল্প সংস্থা যে পণ্য উৎপাদন করে, সেগুলি তৈরির প্রশিক্ষণই দেবে কোনও আইটিআই-এ। পড়ুয়ারা প্রশিক্ষণ নিয়ে তাঁদের দক্ষতা বৃদ্ধি করে ওই সংস্থায় কাজ করবে। এই গোটা প্রক্রিয়াটিতে সাহায্য করবে সরকার। রাজ্য-কেন্দ্র সরকারের সহযোগিতায় কর্মসংস্থানের এই প্রকল্পই হচ্ছে পিএম সেতু প্রকল্প। এই প্রকল্পের কেন্দ্র, রাজ্য এবং বিভিন্ন শিল্প সংস্থা একসঙ্গে কাজ করবে। ২০২৪ সালে কেন্দ্রীয় সরকার এই প্রকল্প শুরু করে। দেশের ১ হাজার আইটিআই-কে এই প্রকল্পের আওতায় নিয়ে আসার জন্য প্রকল্পের মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ৬০ হাজার কোটি টাকা। যেখানে কেন্দ্র-রাজ্য এবং শিল্প সংস্থা নির্দিষ্ট শতাংশে ব্যয় করবে।
আরও পড়ুন:
বিগত তৃণমূল সরকার এই প্রকল্পে যুক্ত না হলেও পালা বদলের পরে ২৪ মে পশ্চিমবঙ্গ এই প্রকল্পে যুক্ত হয়। এর ফলে রাজ্যে কর্মসংস্থানের সম্ভাবনা অনেক বৃদ্ধি পাবে বলে দাবি করেন মন্ত্রী।