Book Controversy

বই লিখলে আগাম অনুমতি, নয়া বিধি সমরবাহিনীর জন্য

প্রতিরক্ষা মন্ত্রক এখন নতুন নিয়ম আনতে চাইছে, যার আওতায় এ বার থেকে বই লেখার আগে সরকারের থেকে আগাম অনুমতি নিতে হবে বর্তমান বা প্রাক্তন সামরিক কর্মীদের। তবে মন্ত্রক বা সামরিক বাহিনীর তরফে এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক ভাবে কোনও ঘোষণা এখনও হয়নি।

সংবাদ সংস্থা

শেষ আপডেট: ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ০৯:৩৮
Share:

—প্রতিনিধিত্বমূলক চিত্র।

অসির চেয়ে মসির জোর কি সত্যিই বেশি? প্রাক্তন সেনাপ্রধান জেনারেল এম এম নরবণের ‘অপ্রকাশিত’ স্মৃতিকথা ঘিরে বিতর্কের আবহে কর্মরত ও অবসরপ্রাপ্ত সামরিক কর্মীদের বই লেখার নিয়মকানুনই পাল্টে যেতে চলেছে। সূত্রের খবর— প্রতিরক্ষা মন্ত্রক এখন নতুন নিয়ম আনতে চাইছে, যার আওতায় এ বার থেকে বই লেখার আগে সরকারের থেকে আগাম অনুমতি নিতে হবে বর্তমান বা প্রাক্তন সামরিক কর্মীদের। তবে মন্ত্রক বা সামরিক বাহিনীর তরফে এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক ভাবে কোনও ঘোষণা এখনও হয়নি। যদিও জানা গিয়েছে, নতুন এই নিয়ম শীঘ্রই কার্যকর হতে পারে।

আরও জানা যাচ্ছে যে, নিয়মটি বিশেষ ভাবে অবসরপ্রাপ্ত সেনা-অফিসারদের কথা মাথায় রেখেই তৈরি হচ্ছে। কারণ তাঁদের অনেকেই অবসর নেওয়ার পর নিজেদের অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে বই লেখেন। বর্তমানে অবসরপ্রাপ্ত সামরিক অফিসারদের বই লেখার নিয়ে কোনও একক বা নির্দিষ্ট আইন নেই। বিষয়বস্তুর প্রকৃতি অনুযায়ী বিভিন্ন আইন ও সার্ভিস রুল প্রযোজ্য হয়। যেমন সরকারি গোপনীয়তা আইন বা অফিশিয়াল সিক্রেটস অ্যাক্ট অবসর নেওয়ার পরেও প্রযোজ্য থাকে।

সামরিক সূত্রের দাবি, এই গোপনীয়তা আইন সব সরকারি কর্মচারীর ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য। তার মধ্যে সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যরাও পড়েন এবং অবসরের পরেও তা মানতে হয়। সরকারের যে কোনও উচ্চ পদে থাকার সময় একজন অফিসারের কাছে বিপুল পরিমাণ তথ্য থাকে। পরে যদি তিনি চাকরিজীবন নিয়ে কিছু লেখেন, তবে প্রয়োজনীয় ছাড়পত্র নিতে হয়। তেমনই যদি কোনও বইয়ে সামরিক অভিযান, সংবেদনশীল তথ্য বা গোপন বিষয় থাকে, তবে তা প্রথমে প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের অনুমোদনের জন্য জমা দিতে হয়। সংশ্লিষ্ট দফতরের মাধ্যমে তা খতিয়ে দেখে তবেই অনুমতি দেওয়া হয়। কর্মরত সেনাদের ক্ষেত্রে নিয়ম আরও কঠোর। তাঁদের যে কোনও বই, প্রবন্ধ বা অনুরূপ কাজের জন্য লিখিত অনুমতি নিতে হয়। গোপন তথ্য, সামরিক অভিযানের বিবরণ, অস্ত্রশস্ত্রের ক্ষমতা, গোয়েন্দা তথ্য বা জাতীয় নিরাপত্তা ও বিদেশনীতিকে প্রভাবিত করতে পারে এমন কোনও তথ্য প্রকাশ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।

প্রশ্ন উঠেছে যে, এই গোপনীয়তা আইন বলবৎ থাকার পরেও নতুন নিয়ম তৈরি করতে হচ্ছে কেন? সূত্রের খবর, সামরিক বিষয়ে বই লেখা ও প্রকাশের আগে আলাদা করে কী কী প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে হবে, কার অনুমতি লাগবে এবং নিয়ম না মানলে কী ব্যবস্থা নেওয়া হবে— এ সবই আরও বেশি নির্দিষ্ট করে নতুন বিধি তৈরির কাজ চলছে। সূত্রের মতে, নতুন কাঠামোয় বিদ্যমান সার্ভিস রুল এবং গোপনীয়তা আইনের কিছু বিধান অন্তর্ভুক্ত করার বিষয়েও আলোচনা হয়েছে। জাতীয় নিরাপত্তা সংক্রান্ত গোপন তথ্য সুরক্ষাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। প্রস্তাবিত আইন অনুযায়ী, কর্মরত ও অবসরপ্রাপ্ত উভয় প্রকার সেনাকর্মীকেই এখন থেকে বই লেখার আগে মন্ত্রকের অনুমতি নিতে হবে।

এমনিতে নরবণের ‘অপ্রকাশিত’ বইয়ের পিডিএফ সংস্করণ কী ভাবে অনলাইনে ছড়িয়ে পড়ল, তা নিয়ে তদন্ত করছে দিল্লি পুলিশের স্পেশাল সেল। এ ব্যাপারে তারা প্রকাশনা সংস্থা পেঙ্গুইন র‍্যান্ডম হাউস ইন্ডিয়া-কেও নোটিস পাঠিয়েছে। এখন নতুন আইনের উদ্যোগ দেখে রাজনৈতিক শিবিরের ধারণা, সরকার শুধু নরবণের বই-বিতর্ককেই গুরুত্ব দিচ্ছে এমন নয়। বরং এমন বিতর্ক ভবিষ্যতে তৈরি হওয়ার পথও বন্ধ করতে চাইছে।

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন

এটি একটি প্রিমিয়াম খবর…

  • প্রতিদিন ২০০’রও বেশি এমন প্রিমিয়াম খবর

  • সঙ্গে আনন্দবাজার পত্রিকার ই -পেপার পড়ার সুযোগ

  • সময়মতো পড়ুন, ‘সেভ আর্টিকল-এ ক্লিক করে

সাবস্ক্রাইব করুন