হরমুজ প্রণালীর অদূরে তেলবাহী জাহাজ। ছবি: রয়টার্স।
পশ্চিম এশিয়ায় সঙ্কটের প্রভাব পড়েছে বিশ্ব জুড়ে। ইরানের সঙ্গে আমেরিকা-ইজ়রায়েলের সামরিক সংঘাতের ২০তম দিনে নয়াদিল্লি বলেছে, ‘‘পশ্চিম এশিয়ার পরিস্থিতি আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপটে নতুন চ্যালেঞ্জ সৃষ্টি করেছে।’’
যুদ্ধ পরিস্থিতিতে হরমুজ় প্রণালীতে তেহরানের অবরোধের জেরে ভারতের জ্বালানি নিরাপত্তা প্রশ্নের মুখে পড়েছে বলে বৃহস্পতিবার জানিয়েছেন বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল। আন্তঃমন্ত্রক সাংবাদিক বৈঠকে তিনি বলেন, ‘‘আমরা সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ বজায় রেখেছি যাতে আমাদের জ্বালানি নিরাপত্তার প্রয়োজনগুলি পূরণ করা যায়।’’
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের উপর ইজ়রায়েল এবং আমেরিকার হামলার পরে কেন্দ্রীয় সরকার জানিয়েছিল, দেশে তেল এবং গ্যাসের পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে। কিন্তু বৃহস্পতিবার বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র স্পষ্ট করেছেন, পরিস্থিতি মোকাবিলায় নিরন্তর কূটনৈতিক তৎপরতা চালাচ্ছে নয়াদিল্লি। তিনি বলেন, ‘‘প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী বিভিন্ন রাষ্ট্রনেতার সঙ্গে কথা বলছেন। আপনারা কয়েক দিন আগে দেখেছেন যে কূটনৈতিক যোগাযোগ কাজে লাগিয়ে আমরা সফল হয়েছিল। বিভিন্ন পক্ষের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে, আমরা আমাদের দু’টি এলপিজিবাহী জাহাজকে হরমুজ় প্রণালী দিয়ে পার করাতে পেরেছি।’’
উপসাগরীয় অঞ্চলে যুদ্ধ পরিস্থিতিতে সেখানে বসবাসকারী বিপুল সংখ্যায় ভারতীয় নাগরিক ও প্রবাসীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিষয়টিও নয়াদিল্লির অগ্রাধিকারের তালিকায় রয়েছে বলে বৃহস্পতিবার জানিয়েছেন রণধীর। তিনি বলেন, ‘‘আমাদের কূটনৈতিক প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে, এবং আমরা আমাদের স্বার্থ রক্ষায় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।’’ প্রধানমন্ত্রী মোদী বৃহস্পতিবার কুয়েতের যুবরাজের সঙ্গে পশ্চিম এশিয়ার পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করেছেন বলেও জানান তিনি। প্রসঙ্গত, বৃহস্পতিবারই প্রধানমন্ত্রী মোদী সমাজমাধ্যমে জানিয়েছেন, পশ্চিম এশিয়ার পরিস্থিতি নিয়ে ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাক্রোঁ, মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম এবং ওমানের সুলতান হাইথাম বিন তারিকের সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলেছেন।