প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। —ফাইল চিত্র।
দিল্লি থেকে টাকা আসছে না বলে কাজ আটকে রয়েছে— এমন নালিশের সুযোগ রাজ্যগুলিকে আর দিতে চাইছে না মোদী সরকার।
প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনা বা গ্রাম সড়ক যোজনার মতো কেন্দ্রীয় অর্থ সাহায্যে চলা প্রকল্পে কেন্দ্র ও রাজ্য, দুই সরকারই টাকা খরচ করে। কিন্তু অর্থ বছরের গোড়ায় কেন্দ্রীয় সরকারের টাকা যেতে দেরি হওয়ায় কাজ আটকে থাকে বলে বরাবরের অভিযোগ। কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন সম্প্রতি বাজেট পেশ করার পরে দেখা গিয়েছে, কেন্দ্রীয় অর্থ সাহায্যে চলা প্রকল্পে চলতি অর্থ বছরে প্রায় ৫ লক্ষ ৪১ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ হয়েছিল। কিন্তু এর মধ্যে ১ লক্ষ কোটি টাকার বেশি অর্থ খরচই করা যাচ্ছে না। সংশোধিত হিসেবে বরাদ্দ কমিয়ে ৪ লক্ষ ২০ হাজার কোটি টাকা করা হয়েছে। অর্থ মন্ত্রক তাই এ বার কেন্দ্রীয় সহায়তায় চলা প্রকল্পের টাকা ‘জাস্ট-ইন-টাইম’ জোগাতে হবে বলে সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
অর্থ মন্ত্রক কেন্দ্রীয় সরকারের সমস্ত মন্ত্রককে নির্দেশ জারি করেছে, আগামী ১ এপ্রিল থেকে শুরু অর্থ বছরের প্রথম মাসে যাতে কেন্দ্রীয় সাহায্যে চলা প্রকল্পে টাকার অভাব না হয়, তার জন্য আগেভাগেই অর্থ বরাদ্দ করে দিতে হবে। অর্থ মন্ত্রকের ব্যয় বিভাগের নির্দেশ, ২৬ মার্চের মধ্যে অর্থ বছরের প্রথম মাসের টাকা জোগানের জন্য ছাড়পত্র দিতে হবে। যাতে নতুন অর্থ বছরের প্রথম মাসে রাজ্যগুলির হাতে অর্থের অভাব না হয়, কেন্দ্রীয় সহায়তায় চলা প্রকল্পের কাজ মসৃণ ভাবে রূপায়ণ হয়। বৃহস্পতিবারই অর্থ মন্ত্রকের ব্যয় বিভাগ এই নির্দেশিকা জারি করেছে।
অর্থ মন্ত্রক সূত্রের খবর, প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনা, গ্রাম সড়ক যোজনা, সমগ্র শিক্ষার মতো এখন ৪৫টি কেন্দ্রীয় সহায়তাপ্রাপ্ত প্রকল্প রয়েছে। এই সব প্রকল্পের ৬০ শতাংশ অর্থ কেন্দ্রীয় সরকার জোগায়। বাকি ৪০ শতাংশ দেয় রাজ্য সরকার। উত্তর-পূর্ব ও পার্বত্য রাজ্যগুলির ক্ষেত্রে ৯০ শতাংশ অর্থ কেন্দ্র দেয়। কিন্তু অর্থ বছরের গোড়ায় কেন্দ্রীয় অর্থ যেতে দেরি হওয়ায় কাজ আটকে থাকছে বলে অভিযোগ আসে।
সংসদে বাজেট নিয়ে আলোচনায় প্রাক্তন অর্থমন্ত্রী, কংগ্রেস নেতা পি চিদম্বরম-সহ একাধিক বিরোধী নেতা অভিযোগ তুলেছিলেন, অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন চলতি অর্থ বছর বা ২০২৫-২৬-এ বিপুল পরিমাণে খরচ ছাঁটাই করে রাজকোষ ঘাটতি সামলেছেন। তৃণমূলের অভিযোগ ছিল, বিভিন্ন প্রকল্পে রাজ্যের প্রায় ১.৯৬ লক্ষ কোটি টাকা বকেয়া রয়েছে। সীতারামনের পাল্টা যুক্তি ছিল, রাজ্যগুলির জন্য প্রথম দফায় মঞ্জুর হওয়া টাকার ৭৫ শতাংশ খরচের শংসাপত্র ঠিক সময়ে মেলে না বলেই কেন্দ্রীয় সরকার পরবর্তী দফায় অর্থ মঞ্জুর করতে পারে না। সেই জন্যই পুরো বরাদ্দ অর্থ খরচ হয়নি।
অর্থ মন্ত্রকের শীর্ষ সূত্রের বক্তব্য, আগে কেন্দ্রীয় অর্থসাহায্যে চলা প্রকল্পে কোথায়, কবে, কত অর্থ মঞ্জুর হচ্ছে, তা নির্ধারণ করা কঠিন ছিল। প্রকল্প রূপায়ণের দায়িত্বপ্রাপ্ত সংস্থার কাছে যে অর্থ গিয়েছে, তা রাজ্যের না কেন্দ্রের, তা-ও বোঝা কঠিন ছিল। এখন প্রতিটি প্রকল্পের জন্য একটি নির্দিষ্ট সংস্থা (সিঙ্গল নোডাল এজেন্সি) চিহ্নিত করা হয়েছে। ওই সংস্থাকে প্রকল্পের জন্য আলাদা ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট খুলতে হয়। কেন্দ্রের থেকে পাওয়া টাকা ও তার সঙ্গে রাজ্যের ভাগ ওই সংস্থার ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে চলে যায়। ফলে এক প্রকল্পের টাকা অন্য প্রকল্পে খরচ করা যায় না। এ বার একেবারে নিচু স্তরে যাতে কেন্দ্র ও রাজ্যের টাকা ঠিক সময়ে পৌঁছতে দেরি না হয়, তার চেষ্টা করা হচ্ছে।
প্রতিদিন ২০০’রও বেশি এমন প্রিমিয়াম খবর
সঙ্গে আনন্দবাজার পত্রিকার ই -পেপার পড়ার সুযোগ
সময়মতো পড়ুন, ‘সেভ আর্টিকল-এ ক্লিক করে