উত্তরপ্রদেশে ঝাঁপাচ্ছে কংগ্রেস, দলিত ক্ষতে উন্নয়নের মলম প্রধানমন্ত্রীর

হিন্দু ভোট ভাগাভাগি হতে না দিয়ে দলিত ও উচ্চবর্ণকে এক ঝুলিতে পোরার অঙ্ক কষেছিলেন অমিত শাহ। কিন্তু নিজ দলেরই এক নেতা তাতে চোনা ঢেলেছেন দলিত নেত্রী মায়াবতী সম্পর্কে কুকথা বলে।

Advertisement

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ২৩ জুলাই ২০১৬ ০৩:৪৭
Share:

গোরক্ষপুরে মোদী। ছবি: পিটিআই।

হিন্দু ভোট ভাগাভাগি হতে না দিয়ে দলিত ও উচ্চবর্ণকে এক ঝুলিতে পোরার অঙ্ক কষেছিলেন অমিত শাহ। কিন্তু নিজ দলেরই এক নেতা তাতে চোনা ঢেলেছেন দলিত নেত্রী মায়াবতী সম্পর্কে কুকথা বলে। আজ তাই উন্নয়নের প্রলেপ দিয়েই দলিত মনে ক্ষত মেরামতের চেষ্টায় নামলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। আর এরই মধ্যে দলিত বিতর্ক টাটকা থাকতে থাকতে বিজেপিকে কোণঠাসা করার লক্ষ্যে সর্বশক্তিতে ঝাঁপিয়ে পড়ার কৌশল নিলেন সনিয়া ও রাহুল গাঁধী। গোবলয়ের সব থেকে বড় রাজ্যে কাল থেকেই তাঁরা জনা তিরিশ বড় নেতাকে নামাচ্ছেন ‘কার্পেট বম্বিং’-এ।

Advertisement

প্রধানমন্ত্রী করবেন উন্নয়ন, বলবেন উন্নয়নের কথা। আর অমিত শাহ চালিয়ে যাবেন নরম হিন্দুত্ব। এমনই দ্বিমুখী কৌশল নিয়ে উত্তরপ্রদেশের ঘুঁটি সাজিয়েছে মোদী-শাহ জুটি। যাতে কট্টর ও নরমপন্থী হিন্দুর ভোট শুধু নয়, উন্নয়নের সুফল পেতে আগ্রহী দলিত ও অন্যদের ভোটও বিজেপির ঝুলিতে আসে। কিন্তু মায়াবতী সম্পর্কে বিজেপি নেতা দয়াশঙ্কর সিংহের অপশব্দের ধাক্কায় সেই হিন্দু ভোটে ফাটল ধরার আশঙ্কা দেখা গিয়েছে। দয়াশঙ্করকে দল থেকে তাড়িয়েও ক্ষতি মেরামত হচ্ছে না। মায়াবতীও ঘুরে দাঁড়ানোর মঞ্চ পেয়ে গিয়েছেন।

এই অবস্থায় উত্তরপ্রদেশের পূর্বাংশে গোরক্ষপুরে মোদীর পূর্বনির্ধারিত সভাটি আজ বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। মোদীর মুখে উন্নয়নের বুলি নতুন নয়। কিন্তু গোরক্ষপুরে গিয়ে ২৬ বছর আগের বন্ধ সার কারখানার শিলান্যাস, এইমস, রেল-সড়ক যোগাযোগের কথা বলে কার্যত দলিত দুর্গে চিড় ঢাকারই চেষ্টা চালালেন তিনি। দলের বিপদের সময় মুখ খুললেন জাতপাতের বিরোধিতায়। সভায় সারা ক্ষণ উন্নয়ন-উন্নয়ন করেও শেষ পর্যন্ত তাঁকে বলতে হল, ‘‘ঢের হয়েছে জাতিবাদের রাজনীতি। জাতিবাদের বিষ কারও ভাল করে না। উন্নয়নের রাজনীতিই সকলের ভাল করবে।’’

Advertisement

সনিয়া-রাহুলরা চান পড়ে পাওয়া নতুন এই দলিত বিতর্ক পুরো দস্তুর কাজে লাগাতে। সদ্য গত কাল গুজরাতে নিগৃহীত দলিতদের সঙ্গে দেখা করে এসেছেন রাহুল। কাল দিল্লিতে ২৪ আকবর রোড থেকে লখনউ পর্যন্ত সনিয়া ও রাহুল তিন দিনের বাসযাত্রার সূচনা করবেন। সামনের সপ্তাহে কংগ্রেস সহ-সভাপতি নিজেও যাচ্ছেন লখনউয়ে। ‘২৭ সাল, ইউপি বেহাল’ নামে এই বাসযাত্রায় থাকবেন উত্তরপ্রদেশে কংগ্রেসের মুখ শীলা দীক্ষিত, সভাপতি রাজ বব্বর, সলমন খুরশিদ-সহ তাবড় নেতারা। এর পরে সনিয়া নিজেও অগস্টের ২ তারিখ মোদীর নির্বাচনী কেন্দ্র বারাণসীতে গিয়ে সভা করতে পারেন।

কংগ্রেসের এক নেতার কথায়, ‘‘এক সময় ওয়াই এস আর রেড্ডি যে ভাবে রোড-শো-এর মাধ্যমে অন্ধ্রপ্রদেশ দখল করেছিলেন, এ বারেও উত্তরপ্রদেশে হারানো জমি ফিরে পেতে একই পথ নিচ্ছে দল। যাতে কংগ্রেসের নেতারা ভোটের আগে রাজ্যের সব কোণে পৌঁছে যেতে পারেন।

মায়াবতী সম্পর্কে দলের নেতার কুমন্তব্যের জেরে বিজেপি এখন হিমশিম খাচ্ছে। ঘুরে দাঁড়াতে চাইছেন মায়াবতী। এটাই মোক্ষম সময় উত্তরপ্রদেশের জমি দখলের। আর অখিলেশ যাদবের সরকারের ব্যর্থতাও তুলে ধরা হবে প্রচারে।’’

বিজেপি প্রকাশ্যে অন্তত কংগ্রেসের এই তৎপরতাকে আমল দিতে নারাজ। দলের এক শীর্ষ নেতা বলেন, ‘‘যুদ্ধক্ষেত্রে প্রতিপক্ষ সর্বশক্তি নিয়ে আসরে নামবে, সেটাই স্বাভাবিক। কংগ্রেস এর পরে প্রিয়ঙ্কাকেও ব্যবহার করবে। তার জন্যও বিজেপি প্রস্তুত রয়েছে।’’

কিন্তু দলকে ভাবাচ্ছে দয়াশঙ্করের আত্মঘাতী ‘হামলা’। শুধু প্রধানমন্ত্রীর উন্নয়নের স্লোগানেই যে তা সামাল দেওয়া যাবে না সেটাও বুঝছে দল। তাই পাল্টা আক্রমণের জমিও তৈরি রাখছে বিজেপি। দয়াশঙ্করকে দল থেকে বার করে দিলেও তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ ছিন্ন করেনি বিজেপি। গত কাল মায়াবতীর দলের নেতারা যে প্রতিবাদ মিছিল করেছেন, সেখানে দয়াশঙ্করের স্ত্রী ও মেয়ের বিরুদ্ধেও কুমন্তব্য করা হয়। এর প্রতিবাদে দয়াশঙ্করের স্ত্রী পাল্টা এফআইআর করেছেন মায়াবতী ও তাঁর দলের নেতাদের বিরুদ্ধে। যাঁকে নিয়ে এত গোল, সেই দয়াশঙ্করের হদিসই পাচ্ছে না পুলিশ। তাঁর ভাই ধর্মেন্দ্রকে আটক করে জেরা করা হচ্ছে।

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement