দেবেন্দ্র ফডণবীস। —ফাইল চিত্র।
সরকারি চাকরি এবং শিক্ষায় মুসলমানদের সংরক্ষণ সংক্রান্ত অধ্যাদেশ খারিজ করে দিল মহারাষ্ট্র সরকার। বিষয়টি নিয়ে মহারাষ্ট্রে রাজনৈতিক চাপানউতর শুরু হয়েছে। মহারাষ্ট্রের বিজেপি, শিবসেনা এবং এনসিপি-র জোট সরকারের এই সিদ্ধান্তের সমালোচনা করেছে কংগ্রেস-সহ অন্য বিরোধী দলগুলি।
২০১৪ সালে এনসিপি-কংগ্রেসের জোট সরকার মহারাষ্ট্রের বিধানসভা ভোটের ঠিক আগে একটি অধ্যাদেশ জারি করেছিল। ওই অধ্যাদেশে বলা হয়, সরকারি চাকরি এবং শিক্ষায় মুসলমানরা ৫ শতাংশ সংরক্ষণের আওতায় থাকবেন। তবে এই সংক্রান্ত কোনও আইন পাশ করানো হয়নি। কারণ ওই নির্বাচনে এনসিপি-কংগ্রেসকে হারিয়ে মহারাষ্ট্রে ক্ষমতায় আসে বিজেপি-শিবসেনার জোট সরকার।
ওই অধ্যাদেশে মুসলমানদের জন্য ৫ শতাংশ সংরক্ষণের পাশাপাশি মরাঠাদের জন্য ২১ শতাংশ সংরক্ষণের কথাও বলা হয়েছিল। তবে এই অধ্যাদেশ সুপ্রিম কোর্ট সংরক্ষণের যে সর্বোচ্চ সীমা (৫০ শতাংশ) নির্ধারণ করে দিয়েছে, তা লঙ্ঘন করছিল। বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন তোলে বম্বে হাই কোর্টও। উচ্চ আদালত অধ্যাদেশটির রূপায়ণে স্থগিতাদেশ জারি করে। মঙ্গলবার মহারাষ্ট্রের দেবেন্দ্র ফডণবীসের সরকার ওই অধ্যাদেশ অকার্যকর করে দেওয়ার ঘোষণা করে।
এই প্রসঙ্গে মহারাষ্ট্রের কংগ্রেস সাংসদ বর্ষা গায়কোয়াড় বলেন, “আমরা এর নিন্দা জানাচ্ছি। ২০১৪ সালে ঘোষিত হওয়া ৫ শতাংশ সংরক্ষণের বিষয়ে ইতিবাচক পদক্ষেপ করার বদলে সরকার পুরনো পদ্ধতি খারিজ করে দিল।” মহারাষ্ট্র সরকারের সিদ্ধান্ত মুসলিম সমাজের অধিকারকে খর্ব করবে বলে জানান তিনি।