ভাবমূর্তি রক্ষায় মোদীর অস্ত্র কৃষি বিমা

কংগ্রেসের নেতৃত্বে বিরোধীরা নরেন্দ্র মোদীর বিরুদ্ধে এক দিকে যেমন ‘স্যুট-বুটের সরকার’ চালানোর অভিযোগ তুলেছেন, অন্য দিকে জমি অধিগ্রহণ বিলকে অস্ত্র করে সরকারের ‘কৃষক-বিরোধী’ ভাবমূর্তি তুলে ধরার কৌশল নিয়েছে।

Advertisement

প্রেমাংশু চৌধুরী

শেষ আপডেট: ১৪ অগস্ট ২০১৫ ০৩:৩৪
Share:

কংগ্রেসের নেতৃত্বে বিরোধীরা নরেন্দ্র মোদীর বিরুদ্ধে এক দিকে যেমন ‘স্যুট-বুটের সরকার’ চালানোর অভিযোগ তুলেছেন, অন্য দিকে জমি অধিগ্রহণ বিলকে অস্ত্র করে সরকারের ‘কৃষক-বিরোধী’ ভাবমূর্তি তুলে ধরার কৌশল নিয়েছে।

Advertisement

বিহার নির্বাচনের আগে এই যাবতীয় সমালোচনার জবাব দিতে ঢাক ঢোল বাজিয়ে একটি নতুন কৃষি বিমা যোজনা চালু করতে চলেছে নরেন্দ্র মোদী সরকার। সরকারের শীর্ষ সূত্রের খবর, ১৫ অগস্ট লাল কেল্লা থেকেই এই নতুন কৃষি বিমা যোজনার কথা ঘোষণা করতে পারেন প্রধানমন্ত্রী। অর্থ মন্ত্রকের প্রাথমিক খসড়া অনুযায়ী, এই প্রকল্পের নাম হতে চলেছে ‘ভারতীয় কৃষি বিমা যোজনা’। এই প্রকল্পে কৃষকদের যাবতীয় প্রয়োজনকে একটি বিমার আওতায় আনার চেষ্টা করা হয়েছে। অর্থ মন্ত্রক সূত্রের খবর, ফসলের বিমার পাশাপাশি গবাদি পশু, চাষের কাজের জন্য ব্যবহৃত ট্রাক্টর ও পাম্পও এই বিমার আওতায় থাকবে। আবার কোনও কৃষকের দুর্ঘটনায় মৃত্যু হলে বা অথর্ব হয়ে পড়লে তাদের জন্য দুর্ঘটনা বা জীবন বিমা, হাসপাতালে চিকিৎসার খরচ, সন্তানদের পড়াশোনার খরচও এই বিমার আওতায় আসবে। চাষের ক্ষেত্রে খারিফ ও রবি— দু’রকম ফসলের জন্যই বিমার বন্দোবস্ত করা হবে।

কেন এই বিমার পরিকল্পনা?

Advertisement

বিজেপি নেতৃত্ব মনে করছেন, মোদী সরকার সম্পর্কে আমজনতা, বিশেষ করে কৃষকদের মধ্যে ভুল বার্তা যাচ্ছে। আজ দিল্লিতে বিজেপির কিষাণ মোর্চার বৈঠকেও এ বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। বিজেপি নেতৃত্ব মনে করছেন, দিনে এক টাকার বিনিময়ে ২ লক্ষ টাকার জীবন বিমা, মাসে এক টাকার বিনিময়ে ২ লক্ষ টাকার দুর্ঘটনা বিমা— এই সব প্রকল্প গরিব মানুষের কথা ভেবেই করা হয়েছে। আজ বিজেপির সঙ্গে আরএসএস-এর সমন্বয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতা রামলাল কিষাণ মোর্চার নেতাদের নির্দেশ দিয়েছেন, সরকারের বিমা প্রকল্পগুলির কথা কৃষকদের কাছে প্রচার করতে হবে। কৃষকদের সমস্যার কথা শুনতে হবে। বিরোধীদের বিরূপ প্রচারের সামনে রুখে দাঁড়িয়ে পাল্টা প্রচারে যেতে হবে। কৃষি বিমা যোজনা চালু হলে বিরোধীদের প্রচারের জবাব আরও সহজে দেওয়া যাবে বলেই মনে করছেন বিজেপি নেতৃত্ব।

প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব নেওয়ার পর লাল কেল্লায় তাঁর প্রথম বক্তৃতায় সকলের জন্য ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট বা জন ধন যোজনার কথা ঘোষণা করেছিলেন নরেন্দ্র মোদী। সরকারের দাবি, সেই লক্ষ্য কার্যত পূরণ হয়ে গিয়েছে। কিন্তু সে ক্ষেত্রেও বিরোধীরা প্রশ্ন তুলেছেন, মোদী সরকার তো অ্যাকাউন্ট খুলেই খালাস। কিন্তু অধিকাংশ ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টেই টাকা নেই। অর্থ মন্ত্রকের পাল্টা দাবি, টাকাশূন্য ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের সংখ্যা গত বছরের সেপ্টেম্বরে ছিল ৭৬ শতাংশ। এখন তা নেমে এসেছে ৪৬ শতাংশে। জন ধন যোজনায় খোলা অ্যাকাউন্টে ২০ হাজার কোটি টাকার বেশি টাকা জমা পড়েছে। এই প্রকল্পে ভর করেই প্রধানমন্ত্রী জীবন জ্যোতি বিমা যোজনা, সুরক্ষা বিমা যোজনা এবং অটল পেনশন যোজনা চালু করেছে মোদী সরকার। প্রতিটি ক্ষেত্রেই ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে বিমা চালু করার জন্য টাকা মিটিয়ে দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে।

তবে কৃষি বিমা যোজনায় কত টাকার বিনিময়ে কী পরিমাণ বিমা মিলবে, তা এখনও স্পষ্ট নয়। কত দিনের মধ্যে গোটা দেশের সব কৃষককে এই বিমার আওতায় নিয়ে আসা হবে, তা নিয়েও অর্থ মন্ত্রকের কর্তারা মুখ খুলতে চাইছেন না। কৃষি মন্ত্রকের কর্তাদের যুক্তি, ফসল নষ্ট হলে আর্থিক ক্ষতির ভয় না-থাকায় কৃষকরা নানা রকম শস্যের চাষে উৎসাহিত হবেন। ফলে খাদ্য সুরক্ষার দিকটিও নিশ্চিত হবে।

এখন ফসলের বিমার ক্ষেত্রে শুধুমাত্র বীজ বা সারের খরচ বা কৃষকদের ঋণ মিটিয়ে দেওয়া হয়। কিন্তু সে ক্ষেত্রেও দেশের মাত্র ২০ শতাংশ কৃষক ফসলের বিমার আওতায় আসেন। বাকিদের জন্য কোনও সুরক্ষার বন্দোবস্ত নেই। ভাগ্যের উপরেই তাঁদের নির্ভর করতে হয়। বিশেষ করে ভাগচাষি বা ক্ষেতমজুরদের আরও সমস্যা। কারণ মহাজনদের থেকে টাকা ধার করেই তারা চাষ করেন। নতুন বিমা প্রকল্পের আওতায় ভাগচাষি বা ক্ষেতমজুররা আসবে কি?

অর্থ মন্ত্রকের কর্তারা বলছেন, আগে সরকারি ঘোষণা হোক। তার পরেই সব কিছু খোলসা করা হবে।

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement