Mumbai Family

আড়াই বছর কোমায়, চিকিৎসার খরচ পৌঁছেছে চার কোটিতে, হরীশ রানার মতো সন্তানের নিষ্কৃতিমৃত্যু চায় না মুম্বইয়ের দীক্ষিত পরিবার

বছর পঁয়ত্রিশের যুবক আনন্দ দীক্ষিত। গত আড়াই বছর ধরে তিনি কোমায় আচ্ছন্ন। শয্যাশায়ী। হরীশের মতোই পারসিসটেন্ট ভেজিটেটিভ স্টেট (পিভিএস) বা স্থায়ী অচেতন অবস্থায় রয়েছেন তিনি।

Advertisement

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ১৮ মার্চ ২০২৬ ১৪:১৭
Share:

আনন্দ দীক্ষিত। ২০২৩ সাল থেকে শয্যাশায়ী। ছবি: সংগৃহীত।

গত ১১ মার্চ হরীশ রানার নিষ্কৃতিমৃত্যুতে সায় দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট, যা দেশের মধ্যে প্রথম। হরীশের নিষ্কৃতিমৃত্যু চেয়ে তাঁর পরিবার গত ১৩ বছর ধরে আইনি লড়াই চালিয়ে গিয়েছে। কিন্তু সেই পথে হাঁটল না মুম্বইয়ের দীক্ষিত পরিবার।

Advertisement

বছর পঁয়ত্রিশের যুবক আনন্দ দীক্ষিত। গত আড়াই বছর ধরে তিনি কোমায় আচ্ছন্ন। শয্যাশায়ী। হরীশের মতোই পারসিসটেন্ট ভেজিটেটিভ স্টেট (পিভিএস) বা স্থায়ী অচেতন অবস্থায় রয়েছেন তিনি। ২০২৩ সালে একটি সড়ক দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত হন আনন্দ। নিজের পছন্দের বাইক নিয়ে বেরিয়েছিলেন। তার পরই তিনি দুর্ঘটনার শিকার হন। তার পর থেকেই শয্যাশায়ী মুম্বইয়ের এই যুবক। শ্বাসপ্রশ্বাস চালু রাখতে কৃত্রিম যন্ত্রের ব্যবস্থা করা হয়েছে। টিউবের মাধ্যমে তাঁর শরীরে পুষ্টি প্রবেশ করানো হয়।

দীক্ষিত পরিবার জানিয়েছে, আনন্দ যাতে স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসেন তার জন্য তাঁর বাবা-মা চেষ্টা চালিয়ে গিয়েছেন। চোখের পলক পড়ছে কি না, হাত বা পায়ের আঙুল নড়ছে কি না, দিনভর অপেক্ষা করতেন সেই মুহূর্তের জন্য। কিন্তু আড়াই বছর কেটে গেলেও আনন্দের অবস্থার কোনও উন্নতি হয়নি। জীবনের যা সম্বল সব কিছু দিয়ে আনন্দের চিকিৎসা করাচ্ছেন তাঁরা। ইতিমধ্যেই চার কোটি টাকা চিকিৎসায় খরচ হয়ে গিয়েছে। মাথার উপর ছাদটাও আর নেই দীক্ষিত পরিবারের। সন্তানকে বাঁচানোর জন্য যখন তাঁরা দিনরাত এক করে ছুটে বেড়াচ্ছেন, বৃহন্মুম্বই পুরনিগম থেকে লোকজন এসে ভেঙে দিয়ে যায় তাঁদের বাড়ি। ওই জায়গা নিয়ে দীর্ঘ দিন ধরেই একটা বিতর্ক ছিল বলে জানা গিয়েছে। ফলে একপ্রকার বাধ্য হয়েই ভাড়াবাড়িতে উঠতে হয় দীক্ষিত পরিবারকে।

Advertisement

আনন্দের মা তাঁর ছেলের ঘড়ি এবং ফোনটিকে খুব যত্ন সহকারে তুলে রেখেছেন। যদি কোনও দিন চমৎকার কিছু ঘটে, এই আশায়। ছেলে উঠে ‘মা’, ‘বাবা’ বলে আবার ডাকবে, এই আশাকেই প্রতি মুহূর্তে জিইয়ে রাখছেন দীক্ষিত দম্পতি। হাল ছাড়তে রাজি নন তাঁরা।

প্রসঙ্গত, চণ্ডীগড় বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র ছিলেন হরীশ। ২০১৩ সালে হস্টেলের পাঁচতলা থেকে পড়ে গিয়ে চোট পান তিনি। সেই থেকে সম্পূর্ণ শয্যাশায়ী যুবক। ডাক্তারি পদ্ধতিতে হরীশের নিষ্কৃতিমৃত্যু চেয়ে আদালতের দ্বারস্থ হয়েছিলেন তাঁর বাবা-মা। জানিয়েছিলেন, ২০১৩ সাল থেকে তাঁদের সন্তান শয্যাশায়ী। তাঁর সেরে ওঠার আর কোনও সম্ভাবনা নেই। দিনের পর দিন অসুস্থতা আরও বাড়ছে। এই পরিস্থিতিতে পুত্রের কষ্ট লাঘব করার জন্যই তাঁর মৃত্যু প্রয়োজন। তবে প্রত্যক্ষ নয়, হরীশের জন্য পরোক্ষ মৃত্যুদানের আবেদন জানানো হয়। দীর্ঘ আইনি লড়াইয়ের পর অবশেষে নিষ্কৃতিমৃত্যুতে সায় দেয় সুপ্রিম কোর্ট।

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement