Narendra Modi

প্রবাসীদের জীবন বিপন্ন করছে কংগ্রেস, কেরলে দাবি মোদীর

মোদীর অভিযোগ, কংগ্রেসের তরফে এমন নানা রাজনৈতিক মন্তব্য করা হচ্ছে, যার ফলে পশ্চিম এশিয়ায় বসবাসকারী ভারতীয়দের জীবনের ঝুঁকি বাড়ছে। যদিও কী ভাবে, তা তিনি স্পষ্ট করেননি।

সংবাদ সংস্থা

শেষ আপডেট: ৩০ মার্চ ২০২৬ ০৮:৫৩
Share:

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। — ফাইল চিত্র।

পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধের ফলে সেখানে আটকে রয়েছেন বিপুল সংখ্যক ভারতীয়। দেশেও যুদ্ধের প্রভাব পড়েছে। বিশেষ করে রান্নার গ্যাসের সঙ্কট ধাক্কা দিয়েছে মধ্যবিত্তের হেঁশেলে। এলপিজি-নির্ভর অন্য বহু ক্ষেত্রও বিপুল চাপে। এই অবস্থায় কেরলে ভোটের প্রচারে গিয়ে লোকসভার প্রধান বিরোধী দল কংগ্রেসকে নিশানা করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী।

রবিবার কেরলে এক সভায় তাঁর অভিযোগ, যুদ্ধের ফলে গোটা দেশ যখন সমস্যার মুখে, তখন বিষয়টি নিয়ে কংগ্রেস রাজনীতি করছে। কেরলের বিপুল সংখ্যক মানুষ পশ্চিম এশিয়ার দেশগুলিতে কর্মরত। তাঁদের নিরাপত্তার প্রসঙ্গটি কৌশলে টেনে মোদীর অভিযোগ, কংগ্রেসের তরফে এমন নানা রাজনৈতিক মন্তব্য করা হচ্ছে, যার ফলে পশ্চিম এশিয়ায় বসবাসকারী ভারতীয়দের জীবনের ঝুঁকি বাড়ছে। যদিও কী ভাবে, তা তিনি স্পষ্ট করেননি।

রবিবার পালাক্কাড়ে এক নির্বাচনী সমাবেশে মোদী জানান, কেন্দ্র সরকার চেষ্টা করছে যাতে চলমান সংঘাতের প্রভাব ভারতের উপরে, বিশেষ করে ওই অঞ্চলে বসবাসরত বিপুল সংখ্যক প্রবাসীদের উপর যতটা সম্ভব কম পড়ে। তিনি বলেন, “এই মুহূর্তে সবার নজর পশ্চিম এশিয়ায় চলা যুদ্ধের দিকে। আমাদের সরকার নিরন্তর কাজ করছে, যাতে এর প্রভাব ভারতের উপর যতটা সম্ভব কম পড়ে।’’ তিনি জানান, ওই সব দেশে ভারতীয় দূতাবাসগুলো দিনরাত কাজ করছে, যাতে ভারতীয়েরা কোনও সমস্যায় না পড়েন।

এর পরেই কংগ্রেসকে নিশানা করে তিনি বলেন, ‘‘এই সংবেদনশীল বিষয় নিয়ে কংগ্রেস যে ধরনের মন্তব্য করছে, সেগুলো বিপজ্জনক। রাজনৈতিক সুবিধা পাওয়ার জন্য তারা উপসাগরীয় দেশগুলোয় বসবাসরত প্রায় এক কোটি ভারতীয়ের জীবন ঝুঁকির মধ্যে ফেলতে চায়।’’

এ দিন কেরলে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের সূত্র ধরে পাল্টা আক্রমণে ব্যক্তি নরেন্দ্র মোদী ও তাঁর সরকারের বিদেশনীতির সমালোচনায় সরব হন কংগ্রেস সাংসদ জয়রাম রমেশ। তাঁর কথায়, ‘‘প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী যিনি নিজেকে ট্রাম্পের বন্ধু বলে দাবি করে,ন তিনি আমেরিকার চোখে একজন দুর্বল ব্যক্তি ছাড়া কিছু নন!’’

বিদেশনীতিতে ‘বিশ্বগুরু’ এখন ‘বিশ্বভণ্ড’য় পরিণত হয়েছেন বলে দাবি করেছেন জয়রাম। তাঁর যুক্তি, ব্যক্তিকেন্দ্রিক বিদেশনীতিই এর জন্য দায়ী। জঙ্গিদের স্বর্গরাজ্য, চিন, সৌদি আরবের অর্থে বেঁচে থাকা পাকিস্তানের পশ্চিম এশিয়া সংঘাতকালে নতুন করে গ্রহণযোগ্যতা বাড়া বিদেশনীতির ব্যর্থতাকেই তুলে ধরেছে।

প্রসঙ্গত, গত মাসের শেষে মোদীর ইজ়রায়েল সফরের ঠিক পরপরই ইজ়রায়েল এবং আমেরিকা যৌথ ভাবে ইরানের উপর হামলা চালায়। যুদ্ধের প্রথম দিনই ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতোল্লা খামেনেইয়ের মৃত্যু হয়। পাশাপাশি মিনাবের একটি শিশুদের স্কুলে আমেরিকার ক্ষেপণাস্ত্র হানায় ১৭০ জনেরও বেশি স্কুলপড়ুয়া শিশুর মৃত্যু হয়। জবাবে ইরান খনিজ তেল পরিবহণের গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ় প্রণালী বন্ধ করে দেয় এবং ইজ়রায়েলের পাশাপাশি পশ্চিম এশিয়ায় আমেরিকার ঘাঁটিগুলিতে হামলা চালায়। ইরানের অবরোধের ফলে বিশ্ববাজারে তেল-গ্যাসের দাম হুহু করে বাড়ছে।

পাশাপাশি তারা আমেরিকার সেনা ঘাঁটি রয়েছে, যেমন সৌদি আরব, কাতার, কুয়েত, বাহরাইনের বিভিন্ন পরিকাঠামোয় হামলা করেছে। এই যুদ্ধের ফলে পশ্চিম এশিয়ায় বসবাসকারী প্রায় এক কোটি ভারতীয় সমস্যায় পড়েছেন। গত এক মাস ধরে প্রায় চার লক্ষ ভারতীয়কে বিভিন্ন ভাবে দেশে ফেরানো গেলেও অনেকেই এখনও আটকে রয়েছেন। ইতিমধ্যেই যুদ্ধের ফলে মৃত্যু হয়েছে অন্তত ৭জন ভারতীয়ের।

সভায় মোদীর আরও দাবি, কেরলে এ বারে বিজেপিই ক্ষমতায় আসছে। কংগ্রেস এবং সিপিএম— দু’দলই সাম্প্রদায়িক এবং দুর্নীতিগ্রস্ত বলে মন্তব্য করে মোদী জানান, তাঁরা ক্ষমতায় এলে সব দুর্নীতিরঅবসান হবে।

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন

এটি একটি প্রিমিয়াম খবর…

  • প্রতিদিন ২০০’রও বেশি এমন প্রিমিয়াম খবর

  • সঙ্গে আনন্দবাজার পত্রিকার ই -পেপার পড়ার সুযোগ

  • সময়মতো পড়ুন, ‘সেভ আর্টিকল-এ ক্লিক করে

সাবস্ক্রাইব করুন