ফাইল চিত্র।
এ বারের জনগণনার সঙ্গে জাতিগণনা হবে না। কিন্তু তার পরে আলাদা ভাবে আর্থ-সামাজিক জাতিগণনা করা নিয়ে মোদী সরকার তথা বিজেপির অন্দরমহলে চিন্তাভাবনা শুরু হয়েছে। বিশেষ করে উত্তরপ্রদেশের ভোটের আগে যে ভাবে বিজেপি ও শরিক জেডিইউ-র মধ্যে থেকেই জাতিগণনা বা ওবিসি-দের সংখ্যা যাচাই করার দাবি উঠেছে, তাতে বিজেপি নেতৃত্ব চাপে পড়ে গিয়েছেন। বিজেপি জাতিগণনার বিরুদ্ধে বলে বার্তা গেলে উত্তরপ্রদেশের ভোটে সমাজবাদী পার্টি তার ফায়দা তুলে নিয়ে যাবে বলে বিজেপি মনে করছে।
কেন্দ্রের পাশাপাশি রাজ্য সরকারেরও ওবিসি তালিকা তৈরির ক্ষমতা নিশ্চিত করতে আজ মোদী সরকার লোকসভার পরে রাজ্যসভাতেও সংবিধান সংশোধনী বিল পাশ করিয়েছে। উত্তরপ্রদেশ ভোটের আগে রাজ্যের প্রায় ৪০ শতাংশ ওবিসি-ভোটারকে ইতিবাচক বার্তা দিতে চাইছে বিজেপি। কংগ্রেস, এসপি, তৃণমূল-সহ বিরোধীরা একে সমর্থন করলেও একই সঙ্গে প্রশ্ন তুলেছে, এতে লাভ কী হবে? জাতিগণনা কেন হবে না?
কংগ্রেসের হয়ে অভিষেক মনু সিঙ্ঘভি বলেন, “কোন রাজ্যে কারা অনগ্রসর শ্রেণি, সে তালিকা তৈরির ক্ষমতা রাজ্যের হাতে ছিলই। কিন্তু সেই তালিকা অনুযায়ী তো সংরক্ষণ দিতে হবে। অথচ আসন সংরক্ষণে ৫০ শতাংশের ঊর্ধ্বসীমা রয়েছে। কেন্দ্র কেন তা শিথিল করছে না? জনসংখ্যায় ওবিসি-দের হার কত, তা জানতে হবে। সরকার সে বিষয়ে কেন চুপ?” তৃণমূলের ডেরেক ও’ব্রায়েন বলেন, “কেন জাতিগণনা হবে না, সেটা তো স্বাভাবিক প্রশ্ন।”
তফসিলি জাতি, জনজাতির জন্য ২২.৫ শতাংশ সংরক্ষণের পরে ওবিসি-দের জন্য কেন্দ্রীয় সরকারি চাকরি, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ২৭ শতাংশ আসন সংরক্ষিত থাকে। কিন্তু মহারাষ্ট্রে মরাঠাদের মতো গোটা দেশেই অনেক সম্প্রদায় নিজেদের অনগ্রসর শ্রেণি দাবি করে বাড়তি সংরক্ষণ দাবি করছে। বিরোধীরা আজ ফের আসন সংরক্ষণের ৫০ শতাংশর ঊর্ধ্বসীমা শিথিল করার দাবি তুলেছে। মনু সিঙ্ঘভির প্রশ্ন, “জনসংখ্যায় ওবিসি-দের হার আসলে ৪২ থেকে ৪৫ শতাংশে পৌঁছে গিয়েছে আঁচ করেই কি সরকার ভয় পাচ্ছে?”
২০১১-য় ইউপিএ-সরকার আর্থ-সামাজিক জাতিগণনা (সোশিয়ো-ইকনমিক কাস্ট সেনসাস) করালেও তা প্রকাশ করেনি। লোকসভায় উত্তরপ্রদেশের বিজেপি সাংসদ সঙ্ঘমিত্রা মৌর্যই সেই গণনা প্রকাশের দাবি তুলেছেন। কিন্তু মোদী সরকারের বক্তব্য, সেই গণনায় অনেক ত্রুটি ছিল। তা ছাড়া ওই পরিসংখ্যান পুরনো হয়ে গিয়েছে। বিহারের মুখ্যমন্ত্রী নীতীশ কুমার, এসপি নেতা অখিলেশ যাদব নতুন করে জাতিগণনার দাবি তুলে বলেছেন। তাঁদের দাবি, জাতীয় স্তরে না হলে রাজ্য স্তরেই জাতিগণনা করাতে হবে।
বিজেপি সূত্রের বক্তব্য, আরএসএসের মতাদর্শ অনুযায়ী বিজেপি সব জাতি-সম্প্রদায়কে হিন্দুত্বর বড় ছাতার নীচে নিয়ে আসার কথা বললেও, জাতপাতের সমীকরণ উপেক্ষা করা সম্ভব নয়। আরএসএসের শীর্ষনেতা দত্তাত্রেয় হোসাবলেকেও তাই সংরক্ষণের পক্ষে কথা বলতে হচ্ছে। কিন্তু সরকারের বক্তব্য, ২০২১-এর জনগণনার কাজ ইতিমধ্যেই কোভিডের কারণে পিছিয়ে গিয়েছে। তার সঙ্গে জাতিগণনার কাজ সম্ভব নয়। কেন্দ্র আজ ফের সংসদে জানিয়ে দিয়েছে, এ বারের জনগণনার সময়ে আর জাতপাতের তথ্য নেওয়া হবে না। শুধুমাত্র তফসিলি জাতি, জনজাতির সংখ্যাই গোনা হবে। এর সঙ্গে ওবিসি-দের মাথা গোনা সম্ভব নয়। তবে পরে জাতিগণনা হতে পারে। সে ক্ষেত্রে বিজেপির মধ্যে থেকে প্রস্তাব এসেছে, ওবিসি-দের মধ্যে কোন সম্প্রদায়ের কত জন রয়েছেন, তার হিসেবনিকেশ না করে, সামগ্রিক ভাবে ওবিসি-দের সংখ্যা কত, তা গণনা করা হোক। আজ সংবিধান সংশোধনী বিল পাশের পরে সমাজকল্যাণ মন্ত্রী বীরেন্দ্র কুমার ফের আশ্বাস দেন, “সংরক্ষণের ৫০ শতাংশ ঊর্ধ্বসীমা শিথিল করার দাবি খতিয়ে দেখা হবে।”