Women Reservation Bill

মহিলা সংরক্ষণ বিল: সব দলের সমর্থন চান মোদী

এখনও পশ্চিমবঙ্গ ও তামিলনাড়ুতে ভোট বাকি। বিরোধীদের মতে, মহিলা ক্ষমতায়নের উদ্দেশ্যে বিল আনার কথা সরকার মুখে বললেও, আসলে মহিলাদের ভোট যাতে বিজেপির বাক্সে যায় তা নিশ্চিত করতেই দু’রাজ্যে ভোটের আগে ওই বিল আনা হয়েছে।

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ১৩ এপ্রিল ২০২৬ ০৮:৫৬
Share:

নরেন্দ্র মোদী। — ফাইল চিত্র।

আগামী ১৬ এপ্রিল থেকে তিন দিনের জন্য সংসদে শুরু হচ্ছে সংশোধিত মহিলা সংরক্ষণ বিল নিয়ে আলোচনা। তার আগে আজ সংসদের সব দলের দলনেতাকে চিঠি লিখে ওই বিলকে সমর্থন ও পাশ করানোর জন্য আহ্বান জানালেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। এ দিকে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে নির্বাচনের মধ্যেই ওই বিল আনার প্রকৃত উদ্দেশ্য নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খড়্গে।

এখনও পশ্চিমবঙ্গ ও তামিলনাড়ুতে ভোট বাকি। বিরোধীদের মতে, মহিলা ক্ষমতায়নের উদ্দেশ্যে বিল আনার কথা সরকার মুখে বললেও, আসলে মহিলাদের ভোট যাতে বিজেপির বাক্সে যায় তা নিশ্চিত করতেই দু’রাজ্যে ভোটের আগে ওই বিল আনা হয়েছে। বিরোধীরা এ নিয়ে সর্বদলীয় বৈঠকের দাবিও করলেও আলোচনা এড়িয়ে গিয়েছে সরকার। তবে আগামিকাল নারী শক্তি বন্দন সম্মেলনে বক্তৃতা দেবেন প্রধানমন্ত্রী।

সংশোধিত মহিলা সংরক্ষণ বিলটি সংবিধান সংশোধনী বিল, তাই পাশ করাতে বিরোধীদের সমর্থন প্রয়োজন। আজ বিজেপি দলীয় সাংসদদের উদ্দেশে হুইপ জারি করে ওই তিন দিন সংসদে উপস্থিত থাকার নির্দেশ দিয়েছে। পাশাপাশি বিরোধীদের পাশে পেতে চিঠি দেন মোদী। তিনি লিখেছেন, ‘‘আগামী ১৬ এপ্রিল থেকে দেশের সংসদে মহিলা সংরক্ষণ বিল নিয়ে ঐতিহাসিক আলোচনা হতে চলেছে।...দেশের সংসদ ও বিধানসভাগুলিতে গত কয়েক দশক ধরে নারী সংরক্ষণ নিয়ে আলোচনা হচ্ছিল। ২০২৩ সালে মহিলা সংরক্ষণ আইনকে সমর্থনের উদ্দেশ্যে সব দলের সাংসদেরা একত্রিত হয়েছিলেন। ..সংসদে সে সময়ের আলোচনায় আইনের বাস্তবায়নের দিকটি নিয়েও মত বিনিময় হয়েছিল। তখন সব দলই সর্বসম্মত ভাবে ওই আইন দ্রুত বাস্তবায়নের পক্ষে মত দিয়েছিলেন। গত কয়েক দিন ধরে সংবিধান বিশেষজ্ঞ ও রাজনৈতিক দলগুলির সঙ্গে আলোচনা করে সরকার মনে করেছে, ওই আইন বাস্তবায়নের সময় এসে গিয়েছে। সরকার স্থির করেছে, নারী সংরক্ষণ আইন বাস্তবায়িত হবে ২০২৯ সালের লোকসভা ও বিধানসভা নির্বাচন থেকেই।’’

খড়্গে তাঁর চিঠিতে লিখেছেন, ‘‘২০২৩ সালে কংগ্রেস ওই আইন সে সময়েই বাস্তবায়নের দাবি তুলেছিল। কিন্তু এখন ভোটের মাঝে সংশোধনী বিল আনার প্রশ্নে সরকার যে তাড়াহুড়ো করছে তা দেখে আমাদের মনে হচ্ছে মহিলাদের ক্ষমতায়নের চেয়ে রাজনৈতিক ফায়দা তোলাই আপনার সরকারের লক্ষ্য।’’ ওই আইন কার্যকর করতে গেলে লোকসভা ও বিধানসভাগুলির ২০১১ সালের জনসংখ্যার ভিত্তিতে এলাকা পুনর্বিন্যাস করতে হবে। কিন্তু কী ভাবে কোনও পুনর্বিন্যাস হবে সে বিষয়ে বিরোধীরা অন্ধকারে।’’

খড়্গে লিখেছেন, ‘‘আপনি চিঠিতে রাজনৈতিক দলগুলির সঙ্গে আলোচনার কথা উল্লেখ করেছেন। কিন্তু দুঃখের সঙ্গে জানাচ্ছি ওই দাবি সঠিক নয়। কারণ সব বিরোধী দলই সরকারকে এ নিয়ে ২৯ এপ্রিল ভোট শেষ হওয়ার পরে সর্বদলীয় বৈঠক ডাকার জন্য অনুরোধ জানিয়েছিল। সব রাজ্য ও দলের বক্তব্যশোনা উচিত ছিল।’’

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন

এটি একটি প্রিমিয়াম খবর…

  • প্রতিদিন ২০০’রও বেশি এমন প্রিমিয়াম খবর

  • সঙ্গে আনন্দবাজার পত্রিকার ই -পেপার পড়ার সুযোগ

  • সময়মতো পড়ুন, ‘সেভ আর্টিকল-এ ক্লিক করে

সাবস্ক্রাইব করুন