Nude Gang Panic in Uttar Pradesh

একা মহিলা দেখলেই টেনে নিয়ে যাচ্ছে জঙ্গলে! ‘ন্যুড গ্যাং’ দমনে উত্তরপ্রদেশ পুলিশকে চিঠি দিল উদ্বিগ্ন মহিলা কমিশন

গত কয়েক দিন ধরেই মেরঠের দাউরালা গ্রামে ‘ন্যুড গ্যাং’ তাণ্ডব চালাচ্ছে বলে দাবি স্থানীয় লোকজনের। গ্রামের মহিলাদের দাবি, বিবস্ত্র অবস্থায় আসছেন ওই গ্যাংয়ের সদস্যেরা।

Advertisement

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৫ ১৮:০০
Share:

ন্যুড গ্যাংয়ের তাণ্ডবে ত্রস্ত মহিলারা। —প্রতীকী চিত্র।

একা মহিলা দেখলেই জঙ্গল থেকে বেরিয়ে আসছে তারা। কারও গায়ে এক টুকরো কাপড়ও নেই। বিবস্ত্র অবস্থাতেই ঝোপ থেকে বেরিয়ে এসে একলা মহিলাকে টেনে নিয়ে যাচ্ছে জঙ্গলে! এ রকম একের পর এক ঘটনায় ‘ন্যুড গ্যাং’-এর আতঙ্কে ত্রস্ত উত্তরপ্রদেশের মেরঠ। বিষয়টি প্রকাশ্যে আসতেই এ বার এ বিষয়ে উত্তরপ্রদেশ পুলিশকে চিঠি দিল জাতীয় মহিলা কমিশন।

Advertisement

কমিশনের চেয়ারপার্সন বিজয়া রাহাতকর উত্তরপ্রদেশের ডিজিকে চিঠিতে জানিয়েছেন, মেরঠে যা ঘটছে, তা মহিলাদের মর্যাদা এবং নিরাপত্তার উপর আঘাত। এ বিষয়ে তিন দিনের মধ্যে বিস্তারিত রিপোর্ট চেয়েছেন কমিশনের চেয়ারপার্সন। পাশাপাশি পুলিশকে ওই এলাকায় নজরদারি বাড়ানোর কথাও বলেছেন তিনি। অভিযুক্তদের যাতে দ্রুত চিহ্নিত করে পদক্ষেপ করা হয়, সে কথাও চিঠিতে বলা হয়েছে।

প্রসঙ্গত, গত কয়েক দিন ধরেই মেরঠের দাউরালা গ্রামে ‘ন্যুড গ্যাং’ তাণ্ডব চালাচ্ছে বলে দাবি স্থানীয় লোকজনের। গ্রামের মহিলাদের দাবি, বিবস্ত্র অবস্থায় আসছেন ওই গ্যাংয়ের সদস্যেরা। তার পর মহিলাদের তুলে নিয়ে যাচ্ছেন। একটি নয়, এ রকম পর পর কয়েকটি ঘটনা ঘটেছে বলে দাবি গ্রামবাসীদের। আর পর পর একই রকম ঘটনা ঘটতে থাকায় গ্রামবাসীরা আতঙ্কিত হয়ে পড়েছেন। মহিলারা বাড়ির বাইরে বেরোতে সাহস পাচ্ছেন না। একেবারে ঘরবন্দি হয়ে কাটাতে হচ্ছে তাঁদের।

Advertisement

পুলিশ জানিয়েছে, সম্প্রতি তাদের কাছে অভিযোগ আসে, এক মহিলা দাউরালার পাশের গ্রামে কাজে যাচ্ছিলেন। একাই ছিলেন তিনি। হঠাৎ জঙ্গলের ভিতর থেকে কয়েক জন এসে তাঁকে টেনে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। ওই মহিলার দাবি, যাঁরা তাঁকে টেনে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছিলেন তাঁদের কারও পরনে পোশাক ছিল না। মহিলা চিৎকার শুরু করতেই স্থানীয়েরা ছুটে আসেন। তখন তিনি তাঁদের বিষয়টি জানান। আশপাশের জঙ্গলে তল্লাশি চালানো হয়। কিন্তু কাউকেই খুঁজে পাওয়া যায়নি।

গ্রামবাসীদের দাবি, এর আগেও তিনটি এমন ঘটনা ঘটেছে। কিন্তু লোকলজ্জার ভয়ে বিষয়টি প্রকাশ্যে আনা হয়নি। কিন্তু পর পর একই রকম ঘটনায় আতঙ্ক বেড়েছে। তার পরই তাঁরা পুলিশের দ্বারস্থ হন। দারাউলা গ্রামের প্রধান রাজেন্দ্র কুমার বলেন, ‘‘গ্রামবাসীরা প্রথমে বিষয়টিতে খুব একটা গুরুত্ব দিচ্ছিলেন না। কিন্তু এখন গোটা গ্রাম ভয়ে কাঁপছে। ওই দলটি শুধুমাত্র মহিলাদেরই নিশানা করছে।’’ বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা শুরু করেছে পুলিশও। শনিবার থেকে শুরু হয়েছে তল্লাশি। কয়েকটি দল গঠন করে তল্লাশি চালানোর পাশাপাশি ড্রোন দিয়েও নজরদারি চালানো হচ্ছে। মহিলাদের নিরাপত্তার জন্য গ্রামে মহিলা পুলিশও মোতায়েন করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন পুলিশ সুপার বিপিন টাড়া। তবে প্রাথমিক ভাবে পুলিশের অনুমান, স্থানীয় কেউ এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত। অনেকে আবার এটিকে গুজব বলেই মনে করছেন।

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement