Sunetra Pawar

মহারাষ্ট্র প্রথম মহিলা উপমুখ্যমন্ত্রী পেল, এনসিপির দলনেত্রী নির্বাচিত হয়েই শপথ নিলেন সুনেত্রা পওয়ার

শনিবার দুপুরে মহারাষ্ট্রের সদ্যপ্রয়াত উপমুখ্যমন্ত্রী অজিত পওয়ারের স্ত্রী সুনেত্রা এনসিপির পরিষদীয় দলনেত্রী নির্বাচিত হলেন। বিকেলে সে রাজ্যের প্রথম মহিলা উপমুখ্যমন্ত্রী হিসেবে রাজ্যপাল আচার্য দেবব্রতের কাছে মন্ত্রগুপ্তির শপথ নিলেন তিনি।

Advertisement

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ৩১ জানুয়ারি ২০২৬ ১৭:১৩
Share:

সুনেত্রা পওয়ার। ছবি: পিটিআই।

স্বামীর মৃত্যুর তিন দিনের মাথাতেই দলীয় সংগঠন, পরিষদীয় নেতৃত্ব এবং মহারাষ্ট্রের উপমুখ্যমন্ত্রিত্বের গুরুদায়িত্ব এল সুনেত্রা পওয়ারের কাঁধে। এনসিপি নেতৃত্বের তরফে শুক্রবারই বার্তা দেওয়া হয়েছিল। সেই পথে হেঁটেই শনিবার দুপুরে মহারাষ্ট্রের সদ্যপ্রয়াত উপমুখ্যমন্ত্রী অজিত পওয়ারের স্ত্রী সুনেত্রা পরিষদীয় দলনেত্রী নির্বাচিত হলেন। বিকেল ৫টায় সে রাজ্যের প্রথম মহিলা উপমুখ্যমন্ত্রী হিসেবে রাজ্যপাল আচার্য দেবব্রতের কাছে মন্ত্রগুপ্তির শপথ নিলেন তিনি।

Advertisement

সুনেত্রাকে আনুষ্ঠানিক ভাবে নেতা নির্বাচিত করার জন্য শনিবার সকালেই এনসিপি পরিষদয়ীয় দলে বৈঠক ডাকা হয়েছে। বৈঠকে যোগ দিতে মুম্বইয়ে পৌঁছে গিয়েছেন এনসিপির বিধায়ক এবং বিধান পরিষদের সদস্যেরা। বিধানসভা ভবনে আয়োজিত বৈঠকে সর্বসম্মত ভাবে পরিষদীয় দলনেত্রী নির্বাচিত হন তিনি। সুনেত্রা বর্তমানে রাজ্যসভার সাংসদ। ফলে উপমুখ্যমন্ত্রীর দায়িত্ব নেওয়ায় বিধানসভা অথবা বিধান পরিষদের উপনির্বাচনে জিততে হবে। প্রসঙ্গত, বিধানসভার মতোই বিধান পরিষদেও ‘নির্বাচিত’ হতে হয়। কিন্তু সেখানে সাধারণ নাগরিকরা ভোট দেন না। সেখানে প্রাতিষ্ঠানিক ভোট দেন বিভিন্ন ক্ষেত্রভুক্ত পেশার মানুষ এবং পঞ্চায়েত-পুরসভার মতো স্থানীয় প্রশাসনে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিরা। উল্লেখ্য, পশ্চিমবঙ্গেও একটা সময় বিধান পরিষদ ছিল। সত্তরের দশকে যুক্তফ্রন্টের সরকার ক্ষমতায় এসে তার অবলুপ্তি ঘটায়। সারা ভারতে এখনও ৬টি রাজ্যে বিধান পরিষদ আছে। সেগুলি হল মহারাষ্ট্র, বিহার, উত্তরপ্রদেশ, অন্ধ্রপ্রদেশ, তেলঙ্গানা এবং কর্নাটক।

শুক্রবার মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রী ফডণবীসের সরকারি বাসভবন বর্ষায় গিয়ে তাঁর সঙ্গে সাক্ষাৎ করছিলেন এনসিপি নেতা ছগন ভুজবল, প্রফুল পটেল, এবং সুনীল তটকরে। ফডণবীস মন্ত্রিসভার উপমুখ্যমন্ত্রী অজিতের হাতে অর্থ, আবগারি, ক্রীড়ার মতো গুরুত্বপূর্ণ দফতর ছিল। সূত্রের খবর, সেগুলি চেয়ে দরবার করেছেন প্রফুলেরা। বৈঠকের পরে ছগন বলেন, ‘‘শনিবার (৩১ জানুয়ারি) এনসিপি পরিষদীয় দলের বৈঠকে আনুষ্ঠানিক ভাবে সুনেত্রা পওয়ারকে দলনেত্রী নির্বাচিত করা হবে।’’ মহারাষ্ট্রের প্রাক্তন উপমুখ্যমন্ত্রী ছগনের ঘোষণা, অজিতের স্থানে সুনেত্রাই দলের তরফে উপমুখ্যমন্ত্রীর দায়িত্ব নেবেন। তিনি বলেন, ‘‘মুখ্যমন্ত্রী ফডণবীস আমাদের জানিয়েছেন, শনিবার শপথগ্রহণ হলেও তাঁর কোনও আপত্তি নেই। তবে কবে শপথ হবে সে বিষয়ে শনিবারই এনসিপি পরিষদীয় দল চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে বলে জানিয়েছিলেন ছগন। তাঁর ঘোষণার ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই চলে এল সেই সময়।

Advertisement

অজিত-জায়া সুনেত্রার ভোট-রাজনীতিতে পদার্পণ মাত্র দেড় বছর আগে। ২০২৪ সালে লোকসভা ভোটের সময়। কিন্তু সে বার বারামতী কেন্দ্রে শরদ পওয়ারের কন্যা তথা এনসিপি (শরদ) প্রার্থী সুপ্রিয়া সুলের কাছে হেরে গিয়েছিলেন তিনি। অজিত-পুত্র পার্থ পওয়ারের ভোটে লড়ার অভিজ্ঞতা হয়েছিল সুনেত্রার আগেই। কিন্তু ২০১৯ সালের লোকসভা ভোটে মভল কেন্দ্রে পরাজয়ের পরে আর সক্রিয় রাজনীতিতে দেখা যায়নি তাঁকে। বুধবার বারামতীতে বিমান দুর্ঘটনায় অজিতের মৃত্যুর পরে তাঁর শূন্যস্থান পূরণ কে করবেন, তা নিয়ে জল্পনা তৈরি হয়েছিল। এনসিপির প্রতিষ্ঠাতা-প্রধান শরদ পওয়ারের নেতৃত্বে দুই গোষ্ঠী আবার এক হতে পারে বলেও রাজনীতির কারবারিদের অনেকে পূর্বাভাস দিয়েছিলেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত আলাদা অস্তিত্ব বজায় রেখেই সুনেত্রাকে দলনেত্রী নির্বাচিত করলেন অজিত অনুগামীরা। এর ফলে এনসিপিতে ‘বিজেপি ঘনিষ্ঠ’ প্রফুলের প্রভাব বাড়বে বলে মনে করছেন অনেকে। ‘তাৎপর্যপূর্ণ’ ভাবে শনিবার এমসিপির প্রতিষ্ঠাতা তথা অজিতের কাকা শরদ বলেছেন, ‘‘ওঁদের দলের কে নেত্রী নির্বাচিত হবেন, তা ওঁরাই ঠিক করবেন। এর সঙ্গে আমাদের কোনও সম্পর্ক নেই।’’ কিন্তু সেই সঙ্গেই সদ্যপ্রয়াত ভাইপোর ‘শেষ ইচ্ছার’ মর্যাদা দেওয়ার কথা বলে দুই এনসিপির পুনর্মিলনের বার্তা দিয়েছেন সুনেত্রা শিবিরকে।

২০২৩ সালের ২ জুলাই এনসিপিতে বিদ্রোহ ঘটিয়ে শরদের অমতেই বিজেপির হাত ধরেছিলেন অজিত। মহারাষ্ট্রে একনাথ শিন্দের শিবসেনা এবং বিজেপির জোট সরকারের শরিক হয়ে উপমুখ্যমন্ত্রী হন। অজিতের বিদ্রোহের পরেই এনসিপির অন্দরের সমীকরণ বদলে গিয়েছিল। অজিত-সহ ন’জন বিদ্রোহী এনসিপি বিধায়কের মন্ত্রিত্ব এবং ভাল দফতর লাভের পরে পরিষদীয় দলের অন্দরে ক্রমশ তাঁর শিবিরের পাল্লা ভারী হতে থাকে। সাংসদদের একাংশও তাঁর দিকে যান। শেষ পর্যন্ত নির্বাচন কমিশনের নির্দেশে এনসিপির নিয়ন্ত্রণ যায় অজিতের হাতেই। দলের নাম, নির্বাচনী প্রতীক ঘড়ি তাঁর গোষ্ঠীর জন্যই বরাদ্দ করা হয়। শরদের নেতৃত্বাধীন এনসিপি পরিচিত হয় এনসিপি (শরদচন্দ্র পওয়ার) নামে। নির্বাচনী প্রতীক হয় ‘তুতারি’ (পশ্চিমি বাদ্যযন্ত্র ট্রাম্পেটের মরাঠি সংস্করণ)।

নাম ও প্রতীক হারিয়েও ২০২৪ সালের লোকসভা ভোটে বাজিমাত করেছিলেন শরদ। জিতেছিলেন আটটি আসনে। অন্য দিকে, চারটিতে লড়ে অজিতের দল জিতেছিল মাত্র একটি আসনে। বারামতী কেন্দ্রে অজিতের স্ত্রী সুনেত্রা পওয়ার হেরে যান শরদ-কন্যা সুপ্রিয়ার কাছে। এর পরে সঙ্ঘ পরিবার এবং বিজেপির অন্দরে অজিতকে নিয়ে প্রশ্ন উঠেছিল। কিন্তু লোকসভা ভোটের ছ’মাসের মাথাতেই মরাঠা রাজনীতিতে চমকপ্রদ প্রত্যাবর্তন ঘটে অজিতের। তাঁর নেতৃত্বাধীন এনসিপি ৫৯টিতে লড়ে জেতে ৪১টিতে। অন্য দিকে, ৮৬টি বিধানসভা আসনে প্রার্থী দিয়ে এনসিপি (শরদ)-র ঝুলিতে ছিল মাত্র ১০! কিন্তু মন্ত্রিত্ব বণ্টন নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফডণবীসের সরকারের সঙ্গে দূরত্ব তৈরি হয় অজিতের। এই পরিস্থিতিতে গত কয়েক মাস ধরে নতুন করে শরদ-অজিত ঐক্য ঘিরে আলোচনা শুরু হয়েছিল। সদ্যসমাপ্ত পুণে এবং পিম্পরি-চিঞ্চওয়াড় পুরভোটে মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফডণবীসের মন্ত্রিসভায় থেকেও বিজেপিকে ঠেকাতে কাকার দলের সঙ্গে সমঝোতা করেছিলেন অজিত। আসন্ন জেলা পরিষদ ভোটেও কাকা-ভাইপোর একজোট হয়ে লড়াই পওয়ার পরিবারের পুনর্মিলনের জল্পনা জোরালো করেছিল। কিন্তু সুনেত্রার পক্ষে আদৌ বিজেপির ‘প্রভাব’ এড়ানো সম্ভব হবে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠে গিয়েছে ইতিমধ্যেই।

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement