—প্রতিনিধিত্বমূলক ছবি।
ভাজা ও মশলাদার খাবারে আকর্ষণ বাড়ছে শিশুদের। বড়দেরও। আর কঠিন পেশাদার জীবনের ফাঁকে সন্তানকে ‘ব্যস্ত’ রাখতে হাতে মোবাইল ফোন ধরিয়ে দিচ্ছেন মা-বাবা। এই জোড়া বদভ্যাসের জেরে শিশু-কিশোর-সহ সামগ্রিক ভাবেই নাগরিকদের মধ্যে বাড়ছে স্থূলতা, অসুস্থতা। উড়ছে ঘুম, কমছে স্মরণশক্তি ও দক্ষতা। দেশ এবং তার অর্থনীতির উপরে সামগ্রিক ভাবে তার বিরূপ প্রভাব পড়ছে। বৃহস্পতিবার সংসদে আর্থিক সমীক্ষায় এ ব্যাপারে আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে।
সমীক্ষায় জানানো হয়েছে, অতি প্রক্রিয়াজাত-সহ যাবতীয় অস্বাস্থ্যকর খাবার, জীবনযাপনের পরিবর্তন, সক্রিয়তা কমা এবং আবহাওয়া সংক্রান্ত কারণে সমস্ত বয়সি মানুষের স্থূলতা এবং অতিরিক্ত ওজনের সমস্যা বাড়ছে। তার ফলে বাড়ছে ডায়াবেটিস, হৃদরোগ এবং হাপানি। একটি সমীক্ষার কথা উল্লেখ করে জানানো হয়েছে, ২০২০ সালের ভারতে স্থূলতায় আক্রান্ত শিশুর সংখ্যা ছিল ৩.৩ কোটি। ২০৩৫ সালে তা ৮.৩ কোটিতে পৌঁছতে পারে। রিপোর্টে আরও বক্তব্য, ভারত অতি প্রক্রিয়াজাত খাবারের বৃহত্তম ও দ্রুততম বৃদ্ধির বাজারগুলির অন্যতম। ২০০৯ সালে ভারতে এই বাজারের আয়তন ছিল ৯০ লক্ষ ডলার। ২০২৩ সালে তা ৩৮০০ কোটি ডলারে ঠেকেছে। ঘটনাচক্রে ঠিক এই সময়ের মধ্যেই দেশে স্থূল পুরুষ ও মহিলার সংখ্যা বেড়ে হয়েছে দ্বিগুণ। এর প্রভাবে স্বাস্থ্য খাতের খরচ বৃদ্ধি এবং মানুষের কাজের উৎপাদনশীলতা কমার ফলে অর্থনীতির উপরে এর দীর্ঘমেয়াদি বিরূপ প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
কেন্দ্রের মুখ্য আর্থিক উপদেষ্টা ভি অনন্ত নাগেশ্বরনের সুপারিশ, এই ধরনের খাবারের দিবারাত্র বিজ্ঞাপন নিষিদ্ধ করা, শিশুদের দুধ ও পানীয়ের বাজারিকরণের উপরে নিয়ন্ত্রণ, খাবারের মোড়কে তার কাঁচামাল ও পুষ্টি সংক্রান্ত তথ্য বাধ্যতামূলক করা উচিত। নিতে হবে স্বাস্থ্যের উন্নতি সংক্রান্ত কর্মসূচি। পোষণ অভিযান, ফিট ইন্ডিয়া, খেলো ইন্ডিয়ার মতো পদক্ষেপ ইতিমধ্যেই করেছে সরকার।
ডিজিটাল আসক্তি এবং তার ফলে মানসিক স্থাস্থ্যের অবনতি নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে সমীক্ষায়। বলা হয়েছে স্মার্টফোন, সমাজমাধ্যম, গেমিং, অনলাইন প্ল্যাটফর্মের অতিব্যবহারের বিরূপ প্রভাব পড়ছে স্বাস্থ্য, স্মৃতিশক্তি এবং অর্থনীতিতে। কমছে ঘুম, পড়াশোনায় একাগ্রতা। আগামী দিনে কর্মক্ষেত্রের দক্ষতায় তার প্রভাব পড়তে বাধ্য। আর এমন হলে তার মূল্য চোকাতে হবে দেশকে। এই অবস্থা থেকে বার হয়ে আসার জন্য ছোটদের মোবাইল ফোন দেখার সময় (স্ক্রিনটাইম) নিয়ন্ত্রণ করা যায় কি না, সে ব্যাপারে ভাবনাচিন্তা করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে সরকারকে।
প্রতিদিন ২০০’রও বেশি এমন প্রিমিয়াম খবর
সঙ্গে আনন্দবাজার পত্রিকার ই -পেপার পড়ার সুযোগ
সময়মতো পড়ুন, ‘সেভ আর্টিকল-এ ক্লিক করে