পর্নোতে উলট-পুরাণ!
সরকারের পক্ষে সকলের শোওয়ার ঘরে উপস্থিত থাকা সম্ভব নয়। পর্নোগ্রাফি দেখায় বিধিনিষেধ জারি করতে গিয়ে সমালোচনার মুখে পড়ে এমনই অবস্থান নিল নরেন্দ্র মোদী সরকার।
আজ সুপ্রিম কোর্টে কেন্দ্রীয় সরকারের অ্যাটর্নি জেনারেল মুকুল রোহতগি যুক্তি দেখিয়েছেন, পর্নোগ্রাফির উপর নিষেধাজ্ঞার বিষয়টি নিয়ে বৃহত্তর বিতর্ক প্রয়োজন। তা সে সামাজিক স্তরেই হোক বা সংসদেই হোক। তাঁর বক্তব্য, ‘‘শিশু পর্নোগ্রাফির উপর অবশ্যই নিষেধাজ্ঞা জারি করতে হবে। কিন্তু আমরা সর্বগ্রাসী রাষ্ট্র হয়ে উঠতে পারি না।’’
গত সপ্তাহেই ৮৫৭টি ওয়েবসাইট বন্ধ করে দিয়েছিল নরেন্দ্র মোদী সরকার। কারণ ওই সব ওয়েবসাইটে পর্নোগ্রাফি রয়েছে। যা অশ্লীল এবং তা দেখাও অনৈতিক। সঙ্গে সঙ্গে শুরু হয়ে যায় প্রবল সমালোচনা। প্রশ্ন ওঠে, সরকার কেন মানুষের ব্যক্তিগত জীবনে ছড়ি ঘোরাবে? কেউ যদি নিজের ঘরে বসে পর্নোগ্রাফি দেখে, তবে তাতে সরকার কখনওই নাক গলাতে পারে না।
সমালোচনার মুখে পড়ে নরেন্দ্র মোদী সরকার সেই নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয়। যে সব ওয়েবসাইটে শিশু পর্নোগ্রাফি রয়েছে, শুধু সেগুলোর উপরেই নিষেধাজ্ঞা বহাল রাখা হয়। কিন্তু ইন্টারনেট পরিষেবা প্রদানকারী সংস্থাগুলোর দাবি, এ ভাবে ওয়েবসাইট বন্ধ করা সম্ভব নয়। কোন কোন ওয়েবসাইটে পর্নোগ্রাফি রয়েছে, কোথায় কোথায় অশ্লীল ছবি রয়েছে, তা বুঝতে গেলে প্রতিটি ওয়েবসাইটে নজরদারি করতে হবে। কিন্তু তা কার্যত অসম্ভব। এ বিষয়ে সরকারি নির্দেশও যথেষ্ট অস্পষ্ট।
আজ সুপ্রিম কোর্টে আগের অবস্থান থেকে সরে এসেছে নরেনেদের মোদী সরকার। অ্যাটর্নি জেনারেল রোহতগি প্রধান বিচারপতি এইচ এল দাত্তূর বেঞ্চকে জানান, সরকার নীতি পুলিশের ভূমিকা নেওয়ার পক্ষে নয়। রোহতগির বক্তব্য, ‘‘যদি কেউ নিজের শোওয়ার ঘরে নিজের ব্যক্তিগত পরিসরে পর্নো দেখতে চায়, তা আমরা কী ভাবে বন্ধ করব? আমরা কি নীতি পুলিশ হিসেবে কাজ করতে পারি? এর সঙ্গে সংবিধানের ১৯(১) অনুচ্ছেদের বাক্স্বাধীনতার প্রশ্ন জড়িত।’’
কেন্দ্রীয় সরকারের আজকের এই অবস্থান দেখে স্বাভাবিক ভাবেই প্রশ্ন উঠেছে, এক সপ্তাহ আগেই সরকার সাড়ে আটশোর বেশি ওয়েবসাইট বন্ধ করতে গিয়েছিল কেন? সুপ্রিম কোর্টে এর জবাব দিতে গিয়ে রোহতগি পুরো দোষটাই চাপিয়েছেন টেলিযোগাযোগ মন্ত্রকের ঘাড়ে। তাঁর যুক্তি, পর্নোগ্রাফি বন্ধ করার জন্য জনস্বার্থ মামলাকারী কমলেশ ভাসবানি যে পর্নোগ্রাফি ওয়েবসাইটের তালিকা দিয়েছেন, সেগুলোই বন্ধ করে দেয় টেলিযোগাযোগ মন্ত্রক।
শিশু পর্নোগ্রাফির ওয়েবসাইট বন্ধ করে দেওয়ার জন্য সুপ্রিম কোর্টই কেন্দ্রীয় সরকারকে নির্দেশ দিয়েছিল। আজ রোহতগিও বলেছেন, সরকার শিশু পর্নোগ্রাফির ওয়েবসাইট বন্ধ করতে চায়। কিন্তু এ ভাবে সব ওয়েবসাইটের উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করা যে প্রায় অসম্ভব, সে কথাও বলেছেন রোহতগি। তাঁর ব্যাখ্যা, ‘‘পুরনো দিনে শুধু পত্রপত্রিকা ছিল। শুধু পত্রিকার বিলিবণ্টন বন্ধ করে দিলেই হতো। এখন কী ভাবে কাউকে নিজেদের মোবাইলে পর্নোগ্রাফি দেখতে বাধা দিতে পারি আমরা?’’
সুপ্রিম কোর্টে প্রশ্ন উঠেছে, তা হলে পর্নোগ্রাফি বন্ধ হবে কী ভাবে? অ্যাটর্নি জেনারেলের যুক্তি, ‘‘ছাঁকনির কাজটা সরকারি স্তরে নয়, বাড়ির মধ্যে করতে হবে। যদি দু’জন পরিণত বয়স্ক মনে করেন, এটা বিনোদন, তা হলে কিছু করার নেই। কিছুটা আত্মনিয়ন্ত্রণ দরকার।’’ রোহতগির দাবি, ‘‘অধিকাংশ উন্নত দেশে এ ভাবেই পর্নোগ্রাফির উপর নিয়ন্ত্রণ করা হয়। না হলে রাষ্ট্র সর্বগ্রাসী হয়ে উঠবে।’’ সুপ্রিম কোর্ট অবশ্য আজ কোনও নির্দেশ জারি করেনি। জানিয়েছে, এ বিষয়ে পরে সবিস্তার শুনানি হবে।