—প্রতিনিধিত্বমূলক ছবি।
বিরোধীরাই চেয়েছিলেন মহিলা সংরক্ষণ বিলের দ্রুত বাস্তবায়ন। বিরোধীদের দাবিকে মর্যাদা দিতে এবং আইনের বাস্তবায়ন যাতে ২০২৯ সালের লোকসভা নির্বাচনে হয়, তা নিশ্চিত করতেই বিশেষ অধিবেশন ডেকে সংশোধিত মহিলা সংরক্ষণ বিলটি আনা হচ্ছে বলে আজ দাবি করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। প্রধানমন্ত্রীর ওই দাবি হাস্যকর বলে মন্তব্য করেছেন বিরোধীদের একাংশ। কংগ্রেস নেত্রী সনিয়া গান্ধীর মতে, জাতিগত জনগণনার প্রভাব যাতে আসন পুনর্বিন্যাসে না পড়ে, তা নিশ্চিত করতেই তড়িঘড়ি বিলটিআনা হচ্ছে।
আগামী ১৬-১৮ এপ্রিল সংসদের দু’টি কক্ষেই সংশোধিত মহিলা সংরক্ষণ বিল নিয়ে আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে। মূলত ২০২৯ সালের লোকসভা ও পরবর্তী সময়ে বিধানসভা নির্বাচনগুলিতে মোট আসনের ৩৩ শতাংশ আসন যাতে মহিলাদের জন্য সংরক্ষিত রাখতেই সংশোধনীটি আনতে চলেছে সরকার। এর ফলে প্রতিটি রাজ্যের লোকসভা ও বিধানসভার আসন পঞ্চাশ শতাংশ করে বাড়তে চলেছে। কিন্তু যখন পশ্চিমবঙ্গ ও তামিলনাড়ুর নির্বাচন বাকি, তখন তাড়াহুড়ো করে কেন বিলটি আনা হচ্ছে তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন সনিয়া গাঁধী। একটি উত্তর-সম্পাদকীয়তে সনিয়া লিখেছেন, ‘‘২০২৩ সালে বিলটি সংসদে পাশ হয়েছিল। কংগ্রেস চেয়েছিল ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে ওই নিয়ম কার্যকর হোক। কেন্দ্র রাজি হয়নি। এখন দুই রাজ্যে যখন জোরকদমে ভোটের প্রচার চলছে, সেই সময়ে কেন তাড়াহুড়ো করে বিল পাশ করাতে চাইছে কেন্দ্র?’’ কেন বাদল অধিবেশন পর্যন্ত সরকার অপেক্ষা করতে পারল না, তা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তিনি। কংগ্রেসের কথায়, এই তাড়াহুড়ো দেখে মনে হচ্ছে মহিলাদের ক্ষমতায়নের চেয়ে ভোটের বাক্সে ফায়দা তোলাই বিজেপির আসল লক্ষ্য।
এর জবাবে সংশোধনী এনে আসলে বিরোধীদের দাবিকেই মর্যাদা দেওয়া হয়েছে বলে আজ যুক্তি দিয়েছেন মোদী। আজ বিজ্ঞান ভবনে হওয়া নারীশক্তি বন্দন সম্মেলনে বক্তব্য রাখতে গিয়ে মোদী বলেন, ‘‘২০২৩ সালে সকলের ঐকমত্যের ভিত্তিতে বিলটি যখন পাশ হয়েছিল, তখন সকলে, বিশেষ করে বিরোধী সতীর্থরা ২০২৯ সাল থেকে আইনের বাস্তবায়ন করার পক্ষপাতী ছিলেন। আমরা সেই সময়সীমাকে মাথায় রেখেছি। দল সর্বদাই বিরোধীদের দাবিকে গুরুত্ব দিয়ে এসেছে।’’ মোদী বোঝাতে চেয়েছেন, মূলত বিরোধীদের ইচ্ছাপূরণ করার লক্ষ্যেই বিলটি এখন আনছে সরকার। বিরোধীদের কটাক্ষ, তা হলে নোটবন্দি, জিএসটি, জনগণনা— কোনও ক্ষেত্রেই বিরোধীদের বক্তব্যের মর্যাদা কেন দেয়নি সরকার!
সংসদের বিশেষ অধিবেশ বসতে দু’দিনও বাকি নেই। কিন্তু এখনও কোনও সাংসদের কাছে সংশোধিত বিল পাঠানো হয়নি বলে সরব হয়েছেন সনিয়া। তাঁর বক্তব্য, ‘‘সরকার অধিবেশনে কোন বিষয়গুলি বিবেচনার জন্য আনতে চলেছে তা এখনও অস্পষ্ট। বোঝা যাচ্ছে নির্দিষ্ট রূপরেখার ভিত্তিতে আসন পুনর্বিন্যাসের প্রস্তাব আনতে চলেছে সরকার। অতীতের মতো জনগণনার পরেই আসনের পুনর্বিন্যাসহওয়া উচিত।’’
গোড়ায় ২০২৭ সালের জনগণনার ভিত্তিতে আসন পুনর্বিন্যাস করে ২০৩৪ সালের লোকসভা নির্বাচন থেকে মহিলা সংরক্ষণ আইন বাস্তবায়নের পরিকল্পনা নিয়েছিল মোদী সরকার। এখন তাড়াহুড়ো করে সংশোধনী এনে সরকার ২০২৭ সালের জনগণনার তথ্য এড়িয়ে ২০১১ সালের জনগণনার তথ্যের ভিত্তিতে আসন পুনর্বিন্যাস সেরে ফেলার কৌশল নিয়েছে বলে মনে করছেন সনিয়া। তাঁর কথায়, ‘‘২০২৭ সালের জাতগণনার প্রভাব যাতে আসন পুনর্বিন্যাসে না পড়ে, তাই এই তাড়াহুড়ো।’’ সনিয়ার আশঙ্কা এ ভাবে একতরফা প্রতিটিরাজ্যের আসন সংখ্যা পঞ্চাশ শতাংশ বাড়িয়ে দিলে একাধিক রাজ্য, বিশেষ করে ছোট রাজ্যগুলির গুরুত্ব হ্রাস পাবে। সনিয়ার মতে, কোনও রাজ্যের আসন পুনর্বিন্যাসকে গাণিতিক দৃষ্টিকোণের পরিবর্তে রাজনৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকে দেখা প্রয়োজন। যে সব রাজ্য পরিবারপরিকল্পনার ক্ষেত্রে অগ্রণী ভূমিকা নিয়েছে বা ছোট রাজ্যগুলিকে (যাদের আসন কম) যাতে প্রতিকূলতায় পড়তে না হয় তার উপরে জোর দিয়েছেন তিনি।
প্রতিদিন ২০০’রও বেশি এমন প্রিমিয়াম খবর
সঙ্গে আনন্দবাজার পত্রিকার ই -পেপার পড়ার সুযোগ
সময়মতো পড়ুন, ‘সেভ আর্টিকল-এ ক্লিক করে