অস্বীকারের রীতি-ভঙ্গ ইসলামাবাদের

ভারতের জবাবে নিহত ৭ পাক সেনা

নিয়ন্ত্রণরেখার ও-পারে ভারতীয় সেনার সার্জিক্যাল স্ট্রাইকের দাবি আজ পর্যন্ত স্বীকার করেনি ইসলামাবাদ। গত মাসে ভারতীয় সেনার হাতে পাক রেঞ্জারদের মৃত্যুর খবরও নয়াদিল্লির মিথ্যা আস্ফালন বলে উড়িয়ে দিয়েছিল তারা।

Advertisement

সংবাদ সংস্থা

শেষ আপডেট: ১৫ নভেম্বর ২০১৬ ০৩:২৩
Share:

নিয়ন্ত্রণরেখার ও-পারে ভারতীয় সেনার সার্জিক্যাল স্ট্রাইকের দাবি আজ পর্যন্ত স্বীকার করেনি ইসলামাবাদ। গত মাসে ভারতীয় সেনার হাতে পাক রেঞ্জারদের মৃত্যুর খবরও নয়াদিল্লির মিথ্যা আস্ফালন বলে উড়িয়ে দিয়েছিল তারা। সেই পাকিস্তানই কবুল করল, নিয়ন্ত্রণরেখা বরাবর গুলিবর্ষণে মৃত্যু হয়েছে তাদের ৭ সেনার। যে খবরের সূত্রে ভারতকে হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন পাক প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরিফ। বলেছেন, ‘‘আমাদের সেনাও পড়শি দেশকে যোগ্য জবাব দিতে প্রস্তুত।’’

Advertisement

গত কাল গভীর রাতে পাক সেনা তাদের ভিমবের সেক্টর থেকে গোলাগুলি চালাতে শুরু করলে এ পার থেকেও তার জবাব দেওয়া হয়। পাক সেনার অবশ্য দাবি, ভারতই বিনা প্ররোচনায় গুলি চালাতে শুরু করেছিল। যার ফল, ৭ জন পাক সেনার মৃত্যু। এর আগে একাধিক বার পাক রেঞ্জারদের মৃত্যুর দাবি করেছে ভারত। কিন্তু প্রায় চার মাস ধরে চলা দু’দেশের অশান্তি আর নিরন্তর সংঘর্ষবিরতি লঙ্ঘনের মাঝে এক বারের জন্যেও পাকিস্তানের তরফে তা স্বীকার করা হয়নি। সন্ত্রাস-যোগের তথ্য থেকে শুরু করে সংঘর্ষবিরতি লঙ্ঘন— বেকায়দায় ফেলার মতো প্রতিটি অভিযোগ উড়িয়ে দেওয়াটা পাকিস্তানের দীর্ঘদিনের রীতি। আজ সেই রীতি ভাঙল তারা। উল্টে কাল রাতের ঘটনা নিয়ে নয়াদিল্লি এক বারের জন্যও মুখ না খোলায়, তা নিয়েই প্রশ্ন তুলতে শুরু করেছে পাক সংবাদমাধ্যম।

সাউথ ব্লকের একটি সূত্র অবশ্য জানাচ্ছে, পাকিস্তান যেহেতু খবরটা সরকারি ভাবেই মেনে নিয়েছে, তাই দিল্লি আর এ নিয়ে বাড়তি কিছু বলতে চায় না। দেশে ৫০০-১০০০ টাকার নোট বাতিলকে কেন্দ্র করে এমনিতেই দেশ উত্তপ্ত। এর মধ্যে পাক সেনার মৃত্যু নিয়ে পাল্টা মন্তব্য করলে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে বলে মনে করছেন অনেকে। তবে এ নিয়ে কূটনৈতিক মহলে কিন্তু নতুন করে চাপানউতোর শুরু হয়ে গিয়েছে। পাক প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ ও সেনাপ্রধান রাহিল শরিফ ভারতকে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। পাশাপাশি ইসলামাবাদে নিযুক্ত ভারতীয় হাই-কমিশনারকে ডেকে পাঠিয়েও ‘কড়া বার্তা’ দিয়েছেন সে দেশের বিদেশসচিব ইজাজ চৌধুরি।

Advertisement

গত সপ্তাহে পাক সরকারের তরফে জানানো হয়েছিল, ভারতীয় বাহিনীর আক্রমণে এ পর্যন্ত ২৫ জন সাধারণ নাগরিকের মৃত্যু হয়েছে। আজও ৭ সেনার সঙ্গে ৩ জন সাধারণ নাগরিকের মত্যু হয়েছে বলে দাবি করা হয় সে দেশের সংবাদমাধ্যমে। এর পরই বিষয়টি নিয়ে মুখ খোলেন নওয়াজ। তাঁর বক্তব্য, ‘‘গোটা কাশ্মীরে মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিষয়টি ধামাচাপা দিতেই সীমান্তে গোলাগুলি চালাচ্ছে ভারত।’’ পাক সেনাপ্রধান রাহিল শরিফ আজ রাওয়ালপিন্ডিতে সেনাদের শেষকৃত্যে উপস্থিত ছিলেন। সেখানে তিনি বলেন, ‘‘এই আঘাতের যোগ্য জবাব দেবে পাক সেনা।’’ পাক প্রতিরক্ষামন্ত্রী আর এক ধাপ এগিয়ে বলেন, ‘‘আমাদের বাহিনীর পাল্টা গুলিতে ও দেশেরও অনেক সেনার মারা যাওয়ার কথা। কিন্তু সে খবর বেমালুম চেপে যাচ্ছে ভারত।’’

শুধু বিবৃতি দিয়ে নয়, এ দিন ডেকে পাঠিয়ে সতর্ক করা হয় ভারতীয় হাইকমিশনার গৌতম বাম্বাওয়ালেকে। এক সপ্তাহের মধ্যে এই নিয়ে দু’বার। পাক বিদেশসচিব ইজাজ চৌধুরি আজ তাঁর কাছে ফের সংঘর্ষবিরতি লঙ্ঘনের অভিযোগ করেন ভারতের বিরুদ্ধে। পাক বিদেশসচিবের বক্তব্য, বিনা প্ররোচনায় কখনও গুলি চালায় না পাক সেনা। অথচ সংঘর্ষবিরতি লঙ্ঘন করে সীমান্তের ও-পার থেকে বারবার আক্রমণ শানাচ্ছে ভারত। এ ভাবে চলতে থাকলে দু’দেশের মধ্যে কূটনৈতিক ভারসাম্য রক্ষা সম্ভব হবে না বলেও মন্তব্য করেন পাক বিদেশসচিব। গোটা বিষয়টি রাষ্ট্রপুঞ্জের নিরাপত্তা পরিষদের নজরে আনা হবে বলেও হুঁশিয়ারি দিয়েছে পাক বিদেশ মন্ত্রক। যদিও ভারতের সার্জিক্যাল স্ট্রাইকের পর থেকে পাক সেনাই ২৮৬ বারের বেশি সংঘর্ষবিরতি লঙ্ঘন করেছে। সেনা-মৃত্যুর বদলা নিতে এ দিনও গোলাবর্ষণ করেছে পাক বাহিনী। এতে আহত হয়েছেন দু’জন ভারতীয়। এক জন সেনা জওয়ান, অপর জন স্থানীয় বাসিন্দা।

সেনার এক মুখপাত্রের দাবি, পাকিস্তান আজও বিনা প্ররোচনায় নিয়ন্ত্রণরেখা ও সীমান্ত লাগোয়া ৪টি সেক্টরে সংঘর্ষবিরতি লঙ্ঘন করেছে। রাজৌরি জেলার সুন্দরবানি ও নৌশেরা সেক্টর, পুঞ্চের খাদি সেক্টর এবং জম্মুর পাল্লানওয়ালা সেক্টরে আজ দুপুর দু’টোর পর থেকে গোলাবর্ষণ শুরু হয় ও-পার থেকে। জম্মুর ডেপুটি কমিশনার সিমরনদীপ সিংহ জানান, পাল্লানওয়ালার বাসিন্দা, ৬৭ বছরের মঙ্গত রাম এতে আহত হয়েছেন। এক জওয়ান আহত হয়েছেন খাদি সেক্টরে।

গত সপ্তাহে পাক গোলাবর্ষণে ৮ জনেরও বেশি ভারতীয় জওয়ান মারা গিয়েছেন বলে দাবি করেছিল সেনা। আজ তাদের দাবি, জুতসই জবাবই দেওয়া হচ্ছে পাকিস্তানকে। তফাৎ শুধু এটাই, পাল্টা মার খাওয়ার কথা এত দিন ওরা চেপে যাচ্ছিল। এ বার কবুল করতে হচ্ছে।

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement