নুন-জলে সব্জি ধোবেন কেন? ছবি: সংগৃহীত।
কীটনাশক থেকে ধুলোময়লা, বাজারের সব্জি মানেই তা অপরিষ্কার। চকচকে টম্যাটো, টাটকা লাউ, গাঢ় সবুজ পালংশাক দেখতে যতই সতেজ হোক, তার গায়ে লেগে থাকতে পারে কীটনাশকের আস্তরণ। চোখে দেখা যায় না, গন্ধও পাওয়া যায় না। কিন্তু শরীরে প্রবেশ করে যেতে পারে ধীরে ধীরে, যা অত্যন্ত ক্ষতিকর। তাই রান্নার আগে সব্জি ঠিক মতো ধোয়া অভ্যাস করতেই হবে। আর সেখানেই গুরুত্বপূর্ণ উপকরণ হিসেবে কাজ করে নুন। নুন মেশানো জল ব্যবহার করে সহজ উপায়ে কীটনাশকের মাত্রা অনেকটাই কমানো যায়। রান্নাঘরেই আছে তার সমাধান। কেবল জানতে হবে সঠিক পন্থা।
নুন-জল দিয়ে সব্জি পরিষ্কার করা কার্যকর কেন?
জলে নুন মিশিয়ে হাইপারটনিক দ্রবণ তৈরি করা যায়, যদি নুনের ঘনত্ব শরীরের কোষের স্বাভাবিক ঘনত্বের চেয়ে বেশি হয়। সব্জির পৃষ্ঠ থেকে ধুলোময়লা, কাদা, মাটি, কীটনাশকের অবশিষ্টাংশ সরানোর জন্য নুন-জল বেশ কার্যকরী। তবে সব্জির ভিতরে রাসায়নিক সারের অবিশিষ্টাংশ থেকে গেলে তা দূর করতে পারে না এই দ্রবণ।
নুন-জল কেন কার্যকরী? ছবি: সংগৃহীত
কী ভাবে নুন-জল দিয়ে সব্জি পরিষ্কার করবেন?
· প্রথমে একটি বড় পাত্রে পরিষ্কার জল নিন। সেই জলে ১-২ চামচ নুন গুলে নিন।
· অন্য দিকে, কলের জল চালিয়ে সব্জিগুলি ধুয়ে নিন। উপরের অংশে থাকা মাটি, কাদা ইত্যাদি উঠে যাবে এই ধাপে।
· তার পর সব্জিগুলি সেই নুন-জলে ডুবিয়ে রাখুন অন্তত ১৫-২০ মিনিট। এই সময়ের মধ্যে নুনজল সব্জির গায়ে থাকা রাসায়নিকের স্তর আলগা করতে সাহায্য করে।
· ভিজিয়ে রাখার পর প্রতিটি সব্জি আলাদা করে পরিষ্কার জলে ভাল করে ধুয়ে নিন। হাতের আলতো চাপে ঘষে ধুয়ে নিন। বিশেষ করে ফুলকপি, বাঁধাকপি বা পাতাযুক্ত সব্জির ক্ষেত্রে পাতার ফাঁকে ফাঁকে জল ঢুকছে কি না, তা খেয়াল রাখা দরকার।
· সবার শেষে প্রত্যেকটি সব্জিকে ভাল করে শুকিয়ে নিতে হবে। আপনি রান্না করুন বা সংরক্ষণ, উভয় ক্ষেত্রেই এই ধাপটি গুরুত্বপূর্ণ।