ছবি: সংগৃহীত।
ভারত এবং কানাডার মধ্যে ইউরেনিয়াম সরবরাহ এবং পরমাণু প্রযুক্তি সহযোগিতা চুক্তি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করল পাকিস্তান। বৃহস্পতিবার পাক বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র তাহির আন্দ্রাবি বলেন, ‘‘এর ফলে ভারত পরমাণু অস্ত্রের সম্প্রসারণ ঘটাতে সক্রিয় হবে এবং পরমাণু অস্ত্র প্রসাররোধের আন্তর্জাতিক উদ্যোগ ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।’’
অন্য দিকে, পাক উপপ্রধানমন্ত্রী তথা বিদেশমন্ত্রী মহম্মদ ইশাক দার বৃহস্পতিবার টেলিফোনে কানাডার বিদেশমন্ত্রী অনিতা আনন্দের সঙ্গে কথা বলেছেন। পাক সরকারের দাবি, কৃষি, দূষণমুক্ত জ্বালানি , বিরল খনিজ-সহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে অর্থনৈতিক সহযোগিতা আরও বৃদ্ধি করার পাশাপাশি দু’পক্ষের জনগণের সম্পর্ক নিবিড় করার বিষয়ে সম্মত হয়েছেন তাঁরা।
দিল্লিতে মঙ্গলবার প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নির বৈঠকের পর সে দেশের সঙ্গে ভারতের ১০ বছর মেয়াদি ‘পরমাণু জ্বালানি চুক্তি’ সই হয়। দীর্ঘমেয়াদী ইউরেনিয়াম সরবরাহ ও ছোট পরমাণু চুল্লি নির্মাণ চুক্তিপত্র, পুনর্নবীকরণযোগ্য শক্তির ব্যবহার বাড়াতে চুক্তি এবং বিরল খনিজ খাতে সহযোগিতার জন্যও দু’টি দেশ চুক্তি সই করেছে। কানাডার বিদেশমন্ত্রী অনিতা আনন্দ ও ভারতের বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্করের উপস্থিতিতে এই চুক্তিগুলি সই হয়। তার পরেই এই বিবৃতি দিয়ে ইসলামাবাদ জানিয়েছে, ‘‘এর ফলে দক্ষিণ এশিয়ায় পরমাণু-ভারসাম্য নষ্ট হবে।’’
এর আগে কানাডা ২০১০ সালে একটি সমঝোতা অনুযায়ী ভারতে ইউরেনিয়াম সরবরাহ করেছে। ২০১৩ সালে সেটি কার্যকর হয়েছিল। পাক বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র তাহিরের অভিযোগ, নতুন চুক্তির ফলে কানাডা তার পূর্বঘোষিত পরমাণু অস্ত্র প্রসাররোধের অবস্থান থেকে সরে এসেছে। তাঁর যুক্তি, আমদানি করা ইউরেনিয়াম ভারত যে পরমাণু অস্ত্র নির্মাণে ব্যবহার করবে না, নতুন চুক্তির খসড়া়য় তার কোনও নিশ্চয়তা নেই। কানাডা থেকে আমদানি করা প্লুটোনিয়াম ব্যবহার করেই পরমাণু বোমা বানিয়ে ১৯৭৪ সালে ভারত প্রথম পরীক্ষা করেছিল বলেও অভিযোগ করেন তিনি। সেই সঙ্গে তিনি বলেন, ‘‘ভারত এখনও তার বেশ কিছু পরমাণু পরিকাঠামো আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থা (আইএইএ)-র নজরদারির বাইরে রেখেছে। এখনও তারা পরমাণু অস্ত্র প্রসাররোধ চুক্তি (এনপিটি)-তে সই করেনি।’’