কাল থেকে সংসদ, যে যার হিসেবে ছক সাজাচ্ছেন মোদী থেকে সনিয়া

লোকসভা ভোটের দিকে তাকিয়ে কাল সোমবার থেকে শুরু হওয়া সংসদের অধিবেশনে কক্ষ সমন্বয়ের মাধ্যমে নরেন্দ্র মোদীর বিজেপিকে একঘরে করার মহড়াটি সেরে নিতে চাইছেন সনিয়া গাঁধী।

Advertisement

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ১৭ জুলাই ২০১৬ ১৯:১৪
Share:

লোকসভা ভোটের দিকে তাকিয়ে কাল সোমবার থেকে শুরু হওয়া সংসদের অধিবেশনে কক্ষ সমন্বয়ের মাধ্যমে নরেন্দ্র মোদীর বিজেপিকে একঘরে করার মহড়াটি সেরে নিতে চাইছেন সনিয়া গাঁধী।

Advertisement

কংগ্রেসের সেই প্রচেষ্টা ভেস্তে দিতে অবশ্য সক্রিয় রয়েছেন নরেন্দ্র মোদীও। আজ সর্বদল বৈঠকে তাই পণ্য ও পরিষেবা-সহ বাকি বিলগুলি পাশে বিরোধীদের সহযোগিতা চেয়ে মোদী বলেন, কৃতিত্ব কার তা না ভেবে দেশের স্বার্থে রাজনীতির ঊর্ধ্বে উঠে কাজ করা উচিত। প্রয়োজনে বাড়ানো যেতে পারে সংসদের অধিবেশনও।

এ বারের অধিবেশনের আগে থেকেই পণ্য ও পরিষেবা কর (জিএসটি) বিলটি পাশ করানো নিয়ে ধীরে ধীরে সিংহভাগ রাজনৈতিক দলের সমর্থন হাসিল করে কংগ্রেসকে একঘরে করার চেষ্টা করেছেন বিজেপি নেতৃত্ব। যে কারণে এ বারের ইফতার পার্টিও বাতিল করতে হয়েছে সনিয়াকে। কিন্তু লোকসভার আগে রাহুলকে সামনে রেখে আঞ্চলিক দলগুলির মাথা হয়ে ওঠাই সনিয়ার লক্ষ্য। সংসদের অধিবেশনের মঞ্চটিকে তাই কাজে লাগিয়ে এ বারে বিজেপিকে একঘরে করার কাজে নামতে চাইছেন দলের সভানেত্রী। আগেই মুদ্রাস্ফীতি, সাম্প্রদায়িকতার মতো এমন ইস্যু নিয়ে আলোচনার দাবি তুলেছিলেন, যাতে মোদী সরকারের বিরুদ্ধে গোটা বিরোধী জোটকে এক ছাতার তলায় নিয়ে আসতে পারেন সনিয়া। আর অরুণাচল নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের সাম্প্রতিক রায় আর তার পর সেখানে বিজেপির গ্রাস কেড়ে কংগ্রেসের সরকার গড়ার পর তাতে আরও উৎসাহ যুগিয়েছে। আজ অনেক বিরোধী দলই কংগ্রেসের সুরে সুর মিলিয়ে উত্তরাখণ্ড ও অরুণাচলে রাজ্যপালের ভূমিকা নিয়ে সংসদে আলোচনা চেয়েছে।

Advertisement

আরও পড়ুন: মোদীর সঙ্গে নরমে-গরমে সম্পর্ক রাখতে চান মমতা, সে পথেই এগোচ্ছে দল

আজ অবশ্য সর্বদল বৈঠকে কংগ্রেসের পক্ষ থেকে গুলাম নবি আজাদরা বলে এসেছেন, তাঁরা সংসদ চলতে দেবেন। কিন্তু দলের সূত্রেরই খবর, এমন কিছু ইস্যু যদি চলে আসে, যা সরকার না মানলে সংসদে অস্থিরতা তৈরি হতেই পারে। সর্বদল বৈঠকেই আজ লোকসভায় কংগ্রেসের নেতা মল্লিকার্জুন খড়গে শুনিয়ে এসেছেন, রাজ্যসভায় সংখ্যা নেই বলে সরকার এত ‘গিভ অ্যান্ড টেক’ নীতি নিয়ে চলে, লোকসভায় সংখ্যাগরিষ্ঠতা আছে বলে গা-জোয়ারি করবে, সেটি চলতে পারে না। বিজেপির এক নেতার কথায়, অধিবেশন শুরুর আগে সব সময়ই বিরোধীরা সংসদ চালানোর কথা বলে। কিন্তু অধিবেশন শুরু হলে কোনও না কোনও ছুতোয় ফের হট্টগোল শুরু করে।

কিন্তু জাতীয় রাজনীতিতে মোদী-বিরোধিতার হোতা কে হবে, তা নিয়ে কংগ্রেসের সঙ্গে আঞ্চলিক দলগুলিরও বিবাদ আছে। লোকসভা নির্বাচন থেকেই কংগ্রেস যে ভাবে দুর্বল হচ্ছে, আর রাহুল গাঁধীর নেতৃত্ব নিয়ে খোদ কংগ্রেসের মধ্যেই যখন বিতর্ক রয়েছে, সেই পরিস্থিতিতে কংগ্রেসকে এই বিরোধী জোটের রাশ তুলে দিতে নারাজ অনেক আঞ্চলিক দলই। বরং নীতীশ কুমারদের মতো নেতারা এখন থেকেই এই জোটের মুখ হওয়ার দৌড়ে নিজেদের এগিয়ে রাখতে চাইছেন। সমাজবাদী পার্টির এক নেতা আজ সর্বদল বৈঠকের পর বলেন, ‘‘দিল্লিতে এসে তো শুনছি, বিজেপি ও কংগ্রেসের মধ্যে গড়াপেটা হয়েছে। কংগ্রেসের হাতে অরুণাচল দিয়ে বিজেপি আসলে জিএসটি পাশ করিয়ে নিতে চায়।’’ পশ্চিমবঙ্গে ‘জোট’ গড়ে ভোটে লড়লেও আজ সীতারাম ইয়েচুরি অনেকটা একই ধাঁচে বলেন, ‘‘সরকার জিএসটি নিয়ে শুধু কংগ্রেসের সঙ্গে কথা বলছে। উভয়ের মধ্যে এটি ম্যাচ গড়াপেটা। সরকার সর্বদল বৈঠক ডাকুক।’’

বৈঠকে অর্থমন্ত্রী অরুণ জেটলি অবশ্য আশ্বাস দিয়েছেন, একবার সব দলের সঙ্গে আলোচনার পর বিল পেশের আগে সর্বদল বৈঠক করা হবে। তবে বিজেপি নেতৃত্বের এখন সবথেকে বড় লক্ষ্য হল, কংগ্রেসকে যে ভাবে অনেকটা কোণঠাসা করে দেওয়া হয়েছে, সেখান থেকে যাতে আর ঘুরে দাঁড়াতে না পারে। তবে দলের এক নেতা বলেন, আসল সমস্যা হল রাজ্যসভা। যেখানে সদ্য হওয়া রাজ্যসভা নির্বাচনে বিজেপির শক্তি বাড়লেও এখনও কংগ্রেসের মুখাপেক্ষী হয়েই থাকতে হয়। যে কারণে বেঙ্কাইয়া নায়ডু, রাজীব প্রতাপ রুডির মতো নেতাদের সংসদীয় মন্ত্রক থেকে সরিয়ে অনন্ত কুমার, সুরিন্দর সিংহ অহলুওয়ালিয়ার মতো মুখকে আনা হয়েছে। যাতে বিভিন্ন দলের সঙ্গে আরও নিবিড় সম্পর্ক স্থাপন করা যায়। দলের এই নেতার মতে, ‘‘ভুলে গেলে চলবে না, অরুণাচলে আসল গোলামাল ছিল কংগ্রেসের ভিতরেই। তাদের দলই ভেঙ্গে এসেছে। এখন তাদের সরকার হয়েছে তাদেরই মুখ্যমন্ত্রীকে সরিয়ে। এখানে বিজেপি বা কেন্দ্রীয় সরকারের কোনও ভূমিকা নেই।’’

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement