জ্বালানি তেল। — প্রতীকী চিত্র।
আমেরিকা-ইরান যুদ্ধ পরিস্থিতিতে হরমুজ় প্রণালী প্রায় অবরুদ্ধ হয়ে রয়েছে। এই অবস্থায় দেশে পেট্রোপণ্যের দাম বৃদ্ধি পাবে কি না, তা নিয়ে আশঙ্কা দানা বেঁধেছে অনেকের মনে। তবে সরকারি সূত্রের দাবি, পেট্রল-ডিজ়েলের দাম বাড়বে না। দেশে যথেষ্ট জ্বালানি মজুত রয়েছে বলেই দাবি ওই সূত্রের।
সাধারণত প্রতি মাসের শুরুতে রান্নার গ্যাসের দাম কার্যকর হয়। মার্চেও তা-ই হয়েছিল। তখন বাণিজ্যিক সিলিন্ডারের দাম বৃদ্ধি পেলেও গৃহস্থের ব্যবহারের রান্নার গ্যাসের সিলিন্ডারের দাম অপরিবর্তিত ছিল। কিন্তু শুক্রবার রাতে সংশোধিত দাম ঘোষণা করা হয়। জানানো হয়, শনিবার থেকে গৃহস্থের রান্নার গ্যাসের সিলিন্ডারপিছু দাম ৬০ টাকা করে বাড়বে। এর পরেই সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ দানা বাঁধতে শুরু করে। গ্যাসের দাম বৃদ্ধির পরে পেট্রল-ডিজ়েলেরও দাম বৃদ্ধি পাবে কি না, তা নিয়ে শুরু হয় জল্পনা।
এই অবস্থায় সরকারি সূত্রকে উদ্ধৃত করে সংবাদসংস্থা এএনআই জানায়, “ভারতে জ্বালানি মজুতের পরিমাণ আগের চেয়ে বৃদ্ধি পেয়েছে। পরিস্থিতির উন্নতি হওয়ার আমাদের আত্মবিশ্বাস আরও বৃদ্ধি পেয়েছে।” পেট্রল-ডিজ়েলের দাম বৃদ্ধি পাবে না বলেও দাবি ওই সরকারি সূত্রের। হরমুজ় প্রণালীতে বর্তমানে অনিশ্চয়তা থাকায় বিকল্প ব্যবস্থাও করা হয়েছে বলে জানাচ্ছে ওই সূত্র। দাবি করা হচ্ছে, হরমুজ় প্রণালী বাদে অন্য পথ দিয়ে অপরিশোধিত তেলের আমদানি ১০ শতাংশ বৃদ্ধি করেছে ভারত। আগে হরমুজ় ছাড়া অন্য পথ দিয়ে ৬০ শতাংশ অশোধিত তেল আমদানি করা হত। এখন তা বৃদ্ধি করে ৭০ শতাংশ করা হয়েছে বলে জানাচ্ছে ওই সূত্র।
রান্নার গ্যাসের দাম বৃদ্ধির পরে শনিবারই কেন্দ্রকে নিশানা করেছে কংগ্রেস। কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সভাপতি মল্লিকার্জুন খড়্গে সমাজমাধ্যম পোস্টে জ্বালানি তেলের সঙ্গে রান্নার গ্যাসকে জুড়ে কেন্দ্রকে নিশানা করেন তিনি। তাঁর দাবি, উদ্ভূত পরিস্থিতিতে পর্যাপ্ত তেল-গ্যাস এবং সারের যোগান দিতে পারছে না কেন্দ্র। তবে সরকারি সূত্রের দাবি, ওই অভিযোগও ভিত্তিহীন। রান্নার গ্যাসের সঙ্গে এর কোনও যোগ নেই বলেই দাবি ওই সূত্রের।