বুধবার মহারাষ্ট্রের বারামতী বিমানবন্দরে রানওয়ের ধারে ভেঙে পড়ে বিমান। ছবি: পিটিআই।
বারামতীতে আছড়ে পড়ার আগে ঠিক কী ঘটেছিল মহারাষ্ট্রের উপমুখ্যমন্ত্রী অজিত পওয়ারের বিমানে? সেই তথ্য এ বার প্রকাশ্যে আনল কেন্দ্র। প্রকাশ করা হয়েছে কিছু কথোপকথনও। সেখানে পাইলটের সঙ্গে ‘এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোল’ (এটিসি)-র শেষ মুহূর্তের কথোপকথন প্রকাশ্যে এসেছে। ককপিট থেকে এটিসি-কে বলা হয়, তাঁরা রানওয়ে দেখতে পাচ্ছেন না। পরে অবশ্য পাইলটেরা জানান, রানওয়ে দেখা গিয়েছে। তবে শেষে ভেঙে পড়ে বিমানটি।
শেষ মুহূর্তে কী ঘটেছিল, তা এটিসি-র কাছ থেকে জানতে পারে কেন্দ্র। সেই তথ্য ইতিমধ্যে প্রকাশ করেছে কেন্দ্রীয় অসামরিক বিমান পরিবহণ মন্ত্রক। তাতে বলা হচ্ছে, সকাল ৮টা ১৮ মিনিটে বিমানটি প্রথম যোগাযোগ করে বারামতীতে। দ্বিতীয় বার যোগাযোগ করে বারামতী থেকে ৩০ নটিক্যাল মাইল দূরে। তখন পাইলটকে বলা হয়েছিল বিমানের ‘ভিজ়্যুয়াল মিটিওরজিক্যাল কন্ডিশন’ বিবেচনা করে নীচের দিকে নামার জন্য। ‘ভিজ়্যুয়াল মিটিওরজিক্যাল কন্ডিশন’ বলতে বোঝায়, শুধুমাত্র যন্ত্রের উপর নির্ভর না করে পাইলট নিজে বিমানের বাইরে তাকিয়ে দৃশ্যমানতা এবং মেঘমুক্ত পরিস্থিতি বুঝে নেওয়া।
তখন পাইলট জানতে চান বাইরে হাওয়ার গতিবেগ কেমন রয়েছে। দৃশ্যমানতা কেমন রয়েছে, তা-ও জানতে চান তিনি। তাঁকে বলা হয়, বাতাস স্বাভাবিকই রয়েছে। দৃশ্যমানতাও প্রায় তিন হাজার মিটার বলে জানানো হয়। কেন্দ্র জানিয়েছে, এর পরে বারামতী বিমানবন্দরের ১১ নম্বর রানওয়েতে অবতরণ করার চেষ্টা করে বিমানটি। কিন্তু পাইলটেরা রানওয়ে দেখতে পাচ্ছিলেন না। সেই কারণে তাঁরা বিমানটিকে আকাশেই একটি চক্কর কাটান।
তার পর আবার নামার চেষ্টা করেন ১১ নম্বর রানওয়েতে। পাইলটেরা রানওয়ে দেখতে পাচ্ছেন কি না, তা জানতে চাওয়া হয়। ককপিট থেকে উত্তর যায়, “রানওয়ে দেখা যাচ্ছে না। রানওয়ে দেখতে পেলে জানাচ্ছি।” এর কয়েক সেকেন্ড পরেই ককপিট থেকে জানানো হয়, তাঁরা রানওয়ে দেখতে পেয়েছেন। কিন্তু ককপিট থেকে কোন পাইলট কথা বলছিলেন তা উল্লেখ নেই কেন্দ্রের প্রকাশিত তথ্যে।
কেন্দ্রীয় অসামরিক বিমান পরিবহণ মন্ত্রক জানাচ্ছে, সকাল ৮টা ৪৩ মিনিটে বিমানটিকে ১১ নম্বর রানওয়েতে অবতরণের অনুমতি দেওয়া হয়। কিন্তু ওই ছাড়পত্রের কোনও উত্তর দেয়নি ককপিট। পর ক্ষণেই ৮টা ৪৪ মিনিটে ১১ নম্বর রানওয়ের ধারে আগুন দেখা যায়। রানওয়ে ধারে ভেঙে পড়ে বিমানটি। পরে কেন্দ্রীয় বিমানমন্ত্রী রামমোহন নায়ডু বলেন, বিমানটি যে সময়ে অবতরণের চেষ্টা করছিল, হয়তো তখন দৃশ্যমানতা কম ছিল।”
বিমানটির ককপিটে দু’জন পাইলট ছিলেন। তাঁদের নাম কেন্দ্রের বিবৃতিতে প্রকাশ করা হয়নি। তবে জানা যাচ্ছে, বিমানটির ক্যাপ্টেন (পাইলট-ইন-কমান্ড) ছিলেন সুমিত কুমার এবং ফার্স্ট অফিসার ছিলেন (সহ-পাইলট) শম্ভবী পাঠক। সুমিতের ১৫ হাজার ঘণ্টা উড়ানের অভিজ্ঞতা ছিল। শম্ভবীরও ১৫০০ ঘণ্টা উড়ানের অভিজ্ঞতা রয়েছে।