প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। ছবি: সংগৃহীত।
বিজেপির ৪৭-তম প্রতিষ্ঠা দিবসের ভাষণে দলের কার্যকর্তাদের বার বার প্রশংসা করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। তিনি জানালেন, পশ্চিমবঙ্গ, কেরলে হিংসাকেই ‘রাজনৈতিক সংস্কৃতি’ করা হয়েছে। সেখানেও ভয় পাননি, মাথা নত করেননি বিজেপির কর্মীরা। পাশাপাশি, মোদী জানিয়ে দিলেন, দেশে তাঁর সরকার এখনও পর্যন্ত অনেক কাজ করলেও কিছু অভিযান জারি রয়েছে। তার মধ্যে রয়েছে অভিন্ন দেওয়ানি বিধি, এক দেশ এক ভোটের মতো বিষয়।
সোমবার বিজেপির প্রতিষ্ঠা দিবসে ভিডিয়ো কনফারেন্সের মাধ্যমে নেতা-কর্মীদের বার্তা দেন মোদী। সেখানে তিনি কর্মীদের গত ৪৭ বছরের কৃতিত্ব তুলে ধরেন। জানান, বিজেপি যখন ক্ষমতায় ছিল না, তখনও কাজ করে গিয়েছেন কর্মীরা। তার পরেই তিনি বলেন, ‘‘বাংলা, কেরলে দেখেছি, কী ভাবে হিংসাকে রাজনৈতিক সংস্কৃতি করা হয়েছে। বিজেপি কর্মীরা এই পরিস্থিতিতেও ভয় পাননি। মাথা নত করেননি।’’ এখানেই তিনি থামেননি। আরও বলেন, ‘‘আজও দেশসেবার কাজ করছেন কর্মীরা। সবাইকে প্রণাম জানাচ্ছি।’’ এর পরে কর্মীদের উদ্যমেরও প্রশংসা করেন তিনি।
মোদী বলেন, ‘‘বিজেপি একমাত্র দল, যেখানে আমরা সকলে পার্টিকে মা মনে করি।’’ একে একে তিনি প্রণাম জানান শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়, দীনদয়াল উপাধ্যায় থেকে লালকৃষ্ণ আডবাণী, মুরলী মনোহর জোশীদের। তিনি জানান, বিজেপি যখন ক্ষমতায় ছিল না, তখনও কর্মীরা এ ভাবেই এক শহর থেকে অন্য শহরে ঘুরে কাজ করে যেতেন। তাঁদের ‘এক পা থাকত রেলে, দ্বিতীয় পা জেলে’। তবু তাঁরা নীতির সঙ্গে আপস করেননি। সেই প্রসঙ্গ তুলে তিনি পূর্বতন কংগ্রেস সরকারের দিকে আঙুল তুলেছেন। মোদীর কথায়, ‘‘১৯৮৪ সালের কথা ভুলতে পারি না। কংগ্রেস রেকর্ড আসনে জিতেছিল। কিন্তু দেশের জনতা দেখেছিল, কংগ্রেস কী ভাবে ক্ষমতা পেয়ে বিশ্বাসঘাতকতা করছে।’’ তিনি জানান, এর পর থেকেই বিজেপির উপরে ভরসা বাড়তে থাকে মানুষের।
কংগ্রেস ‘পরিবারতান্ত্রিক রাজনীতি’ করে বলেও আবার খোঁচা দেন মোদী। তিনি বলেন, ‘‘কংগ্রেস এক পরিবার নিয়ে চলেছে। বাকিদের সঙ্গে অন্যায় করেছে। বিজেপি তা করেনি। ভারতের সব মহান সন্তানকে সম্মান দিয়েছে। নেতাজি সুভাষ চন্দ্র বসুর জন্মদিনকে পরাক্রম দিবস ঘোষণা করা হয়েছে। ২৬ জানুয়ারির কুচকাওয়াজে আজাদ হিন্দ ফৌজকে কুর্নিশ জানানো হয়েছে। কংগ্রেস সরকার ভাবতেই পারত না।’’
এর পরেই মোদী জানান, তাঁর সরকার ক্ষমতায় এসে কী কী করেছে। তিনি বলেন, ‘‘শ্যামাপ্রসাদ জম্মু কাশ্মীরের জন্য আত্মবলিদান দেন। একটা সময় সেখানে ৩৭০ ধারা রদ অসম্ভব মনে করা হত। কিন্তু বিজেপির লক্ষ্য ছিল এটা হবে। তা করে দেখিয়েছে।’’ তিনি আরও বলেন, ‘‘ইংরেজের জমানার কালো আইন বন্ধ করেছি, সিএএ আইন, নতুন আইন এনে তিন তালাক বন্ধ, অযোধ্যায় রামমন্দির— অনেক কাজ আমাদের সৎ চেষ্টার ফল।’’ প্রধানমন্ত্রী আরও জানান, ‘অভিযান’ এখনও বন্ধ হয়নি। তাঁর কথায়, ‘‘মিশন জারি। অভিন্ন দেওয়ানি বিধি, এক দেশ এক ভোট— এগুলো নিয়ে দেশে গভীর আলোচনা হচ্ছে।’’ মোদী এ-ও জানান, দেশে ‘জনবিন্যাসের পরিবর্তন’ এখন চ্যালেঞ্জ। সেই চ্যালেঞ্জ থেকে দেশকে মুক্ত করার লক্ষ্যে এগিয়ে যাচ্ছেন তিনি।