উত্তরপ্রদেশে শিরচ্ছেদ করে হত্যার অভিযোগ। — প্রতীকী চিত্র।
আইসক্রিম বিক্রেতার সঙ্গে বচসা। তার জেরেই আইসক্রিম বিক্রেতার মুণ্ডচ্ছেদ করার অভিযোগ উঠল উত্তরপ্রদেশে। ধারালো অস্ত্রের কোপে ধড় থেকে মাথা আলাদা করে দেন অভিযুক্ত। তার পরে সেই কাটা মুন্ডু নিয়ে চলে যান নিজের বাড়িতে। পুলিশের সন্দেহ, কাটা মুন্ডুটি রান্না করার পরিকল্পনা ছিল অভিযুক্তের। উত্তরপ্রদেশের বারাবাঁকি জেলার ওই ঘটনায় অভিযুক্তকে ইতিমধ্যে গ্রেফতার করেছেন তদন্তকারীরা।
২৫ বছর বয়সি বাবলু প্রায়শই আইসক্রিম বিক্রি করতে বারাবাঁকির পারসওয়াল গ্রামে যান। শনিবারও গিয়েছিলেন। সেখানে আইসক্রিম বিক্রি করার সময়ে শঙ্কর যাদব নামে এক গ্রামবাসীর সঙ্গে বচসায় জড়িয়ে পড়েন তিনি। কথা কাটাকাটি হয় উভয়ের। অভিযোগ, সেই সময়েই বাবলুর গলায় কাস্তের কোপ বসান শঙ্কর। ধড় থেকে মুণ্ড আলাদা করে দেন। প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, খুনের পরে বাবলুর কাটা মুণ্ড নিয়ে নিজের বাড়িতে চলে যান অভিযুক্ত।
ঘটনার আকস্মিকতা কাটিয়ে গ্রামবাসীরাই খবর দেন থানায়। হত্যাকাণ্ডের খবর পেয়ে সঙ্গে সঙ্গে স্থানীয় থানার পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছোয়। পরে জেলার পুলিশ সুপার অর্পিত বিজয়বর্গীয়ের নির্দেশে পুলিশের একটি বড় বাহিনীও মোতায়েন করা হয় গ্রামে। শঙ্করের বাড়ি ঘিরে ফেলেন পুলিশকর্মীরা। এর পরে পুলিশের একটি দল বাড়ির ভিতরে প্রবেশ করে হাতেনাতে পাকড়াও করেন। পুলিশ জানাচ্ছে, ঘরের ভিতরে রান্না করছিলেন শঙ্কর। কাটা মুণ্ডটি রান্নার সরঞ্জামের পাশেই রাখা ছিল। পুলিশের অনুমান, সেটি রান্না করারই পরিকল্পনা ছিল অভিযুক্তের। শঙ্করকে সঙ্গে সঙ্গে গ্রেফতার করে পুলিশ। উদ্ধার করা হয় কাটা মুন্ডুটিও। যে কাস্তে দিয়ে বাবলুকে কোপানো হয়েছে বলে অভিযোগ, সেটিও বাজেয়াপ্ত করেছেন পুলিশকর্মীরা।
কী কারণে বাবলুকে খুন করা হয়েছে, তা এখনও স্পষ্ট নয়। তাঁর কাটামুন্ডু-সহ দেহ ইতিমধ্যে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠিয়েছে পুলিশ। একই সঙ্গে ধৃতকে জেরা করে এ বিষয়ে আরও তথ্য সংগ্রহের চেষ্টা করছে পুলিশ। কোন ঘটনাকে কেন্দ্র করে উভয়ের মধ্যে বচসার সূত্রপাত হয়েছিল, তা জানার চেষ্টা করছেন তদন্তকারীরা।