Rafale deal: রাফাল: তিরের মুখে পাল্টা কংগ্রেসের

কংগ্রেস মুখপাত্র পবন খেড়ার দাবি, ঠিকঠাক তদন্ত হলে দুর্নীতির সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর যোগসাজশ সামনে আসতে পারে।

Advertisement

নিজস্ব প্রতিবেদন

শেষ আপডেট: ১০ নভেম্বর ২০২১ ০৭:৫৭
Share:

মিডিয়াপার্টের রিপোর্টে বলা হয়েছে, রাফাল বিক্রি করতে ২০০২ থেকে ২০১২ সালের মধ্যে ঘুষ দেওয়া হয়েছে।

রাফাল যুদ্ধবিমান কেনায় ঘুষের অভিযোগ সামনে আসতেই কংগ্রেস ও বিজেপির তরজা শুরু হয়ে গিয়েছে। রাফালের কমিশন ইউপিএ জমানায় দেওয়া হয়েছিল, ফরাসি সংবাদমাধ্যমের এমন রিপোর্টকে উল্লেখ করে কংগ্রেসকে দুর্নীতির আখড়া হিসেবে তুলে ধরে আক্রমণ শানিয়েছে বিজেপি। দলের মুখপাত্র সম্বিৎ পাত্রের মন্তব্য, এখন ইন্ডিয়ান ন্যাশনাল কংগ্রেস বা আইএনসি-র অর্থ দাঁড়িয়েছে ‘আই নিড কমিশন’ পার্টি। অন্যদিকে দুর্নীতির অভিযোগ আসা সত্ত্বেও মোদী সরকার কেন তদন্ত করায়নি তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে কংগ্রেস।

Advertisement

কংগ্রেস মুখপাত্র পবন খেড়ার দাবি, ঠিকঠাক তদন্ত হলে দুর্নীতির সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর যোগসাজশ সামনে আসতে পারে। যৌথ সংসদীয় কমিটি গড়ে গোটা বিষয়টি নিয়ে তদন্ত করার দাবিও তুলেছে কংগ্রেস। তাদের বক্তব্য, বিজেপির দুই প্রাক্তন মন্ত্রী অরুণ শৌরি ও যশবন্ত সিন্‌হা এই সংক্রান্ত একটি ফাইল তৎকালীন সিবিআই অধিকর্তা অলোক বর্মার হাতে তুলে দিয়েছিলেন। তার সাত দিন পরে মরিশাসের অ্যাটর্নি জেনারেল ভারতীয় দালাল সুষেণ গুপ্ত সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য ভারত সরকারকে জানিয়েছিলেন। কিন্তু তা সত্ত্বেও কোনও তদন্ত শুরু হয়নি। খেড়ার দাবি, ঠিক ভাবে তদন্ত হলে দুর্নীতি যুক্ত থাকার প্রমাণ প্রধানমন্ত্রীর বাড়ির দিকে ইশারা করত। কিন্তু তা না করে সিবিআই প্রধানকে মাঝরাতে আচমকা পদ থেকে সরিয়ে দিয়ে প্রমাণ লোপাটের জন্য তাঁর দফতরে তল্লাশি চালানো হয়।

রাফাল বিক্রি নিয়ে এতটা দীর্ঘ সময় ধরে ঘুষের অভিযোগ সামনে আসায় এনডিএ ও ইউপিএ— দু’টি সরকারের নামই জড়িয়ে গিয়েছে। প্রশ্ন উঠেছে মোদী সরকারের ভূমিকা নিয়েও। ফলে রাজনৈতিক দলগুলি অভিযোগের তির থেকে নিজেদের বাঁচাতে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকেই সরাসরি নিশানা করেছে। বিজেপি মুখপাত্র সম্বিৎ পাত্র দুর্নীতির পিছনে গাঁধী পরিবারকেই দায়ী করেছেন। তাঁর কথায়, দুর্নীতির ঠিকানা হল সনিয়া গাঁধীর বাসভবন ১০ জনপথ। পাত্রের দাবি, বিজেপি কেন্দ্রে ক্ষমতায় আসার পর থেকে দুর্নীতি ঘর হারিয়েছে। রাফাল কেনা নিয়ে শুরু থেকেই মোদী সরকারের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ তুলে আসছিলেন রাহুল গাঁধী। আজ তাঁকেও নিশানা করেছেন সম্বিৎ। বিজেপি মুখপাত্র বলেন, ‘‘রাফাল নিয়ে অনেক অসত্য বলেছেন রাহুল গাঁধী। ভুল তথ্য ছড়িয়েছেন তিনি। তবে এখন ফরাসি সংবাদমাধ্যম বলছে, রাফাল কিনতে ঘুষ দেওয়া হয়েছিল ২০০৭ থেকে ২০১২ সালের মধ্যে। এ নিয়ে রাহুল কোনও কথা বলছেন না কেন?’’ বিজেপি নেতার কথায়, ‘‘সনিয়া গাঁধী, রাহুল গাঁধী, প্রিয়ঙ্কা গাঁধী বঢরা, রবার্ট বঢরা— সবারই একটাই বক্তব্য...কমিশন চাই।’’

Advertisement

পাশাপাশি, রাফাল নিয়ে আজ মোদী সরকারকে নিশানা করতে নেমে পড়েছেন রাহুল গাঁধীও। কংগ্রেস কর্মীদের উদ্দেশে টুইটারে তিনি লিখেছেন, ‘‘প্রতি পদক্ষেপে সত্য যখন আপনাদের সঙ্গে তখন চিন্তা কোথায়? কংগ্রেসের সহকর্মীরা, দুর্নীতিগ্রস্ত কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে লড়াই চালিয়ে যান আপনারা। থামবেন না, ক্লান্ত হবেন না, ভয় পাবেন না।’’

মিডিয়াপার্টের রিপোর্টে বলা হয়েছে, রাফাল বিক্রি করতে ২০০২ থেকে ২০১২ সালের মধ্যে ঘুষ দেওয়া হয়েছে। ২০০২ থেকে ২০০৬ সালের মধ্যে ঘুষ দেওয়া হয়েছে ৯১৪,৪৮৮ ইউরো। ২০০৭ থেকে ২০১২ পর্যন্ত দেওয়া হয়েছে সাড়ে সাত মিলিয়ন ইউরো। এই সময়ে কেন্দ্রে অটলবিহারী বাজপেয়ী ও মনমোহন সিংহের সরকার ক্ষমতায় ছিল। ফরাসি পোর্টালটির দাবি, ভারতে রাফাল বিক্রির জন্য দালালের মাধ্যমে দাসো অ্যাভিয়েশন প্রায় ১১০ কোটি টাকা ঘুষ দিয়েছে। তবে এই ধরনের কেলেঙ্কারির অভিযোগ জানার পরেও ভারতীয় তদন্তকারী সংস্থাগুলি কোনওরকম ব্যবস্থা নেয়নি। মিডিয়াপার্টের দাবি, রাফাল যুদ্ধবিমান কিনতে ভারতীয় দালাল সুষেণ গুপ্তকে যে অর্থ সরবরাহ করা হয়েছে, ২০১৮ সালের অক্টোবর থেকেই তার প্রমাণ সিবিআই ও ইডির কাছে ছিল। ভিভিআইপিদের জন্য অগুস্তা ওয়েস্টল্যান্ড হেলিকপ্টার কেনা নিয়ে দুর্নীতির যে তদন্ত চলছিল, তার মধ্যেই রাফাল নিয়ে এই সব তথ্য সামনে আসে। সিবিআই ও ইডি জানতে পারে, সুষেণ গুপ্তের শেল কোম্পানি দাসোর থেকে অর্থ পেয়ে আসছে ২০০২ সাল থেকেই। অগুস্তা দুর্নীতিতেও সুষেণের নাম জড়িয়েছিল। তদন্তে সহযোগিতা করতে মরিশাসের কর্তৃপক্ষও ভারতীয় তদন্তকারী সংস্থাকে ওই কোম্পানি সম্পর্কে তথ্য দিতে রাজি হয়েছিল। সিবিআইয়ের কাছে ২০১৮ সালের ১১ অক্টোবর তথ্য পৌঁছয়। রাফাল নিয়ে ততক্ষণে দুর্নীতির অভিযোগ পৌঁছে গিয়েছে সিবিআইয়ের দরজায়। তা সত্ত্বেও তদন্ত শুরু করেনি সিবিআই।

কংগ্রেস নেতা কপিল সিব্বল আজ টুইটে দাবি করেন, এক দিকে যখন এ সব চলছে তখনই বিজেপির কর্মসমিতি ভারতকে দুর্নীতিমুক্ত দেশ হিসেবে তুলে ধরতে প্রচারে নেমে পড়েছে।

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement