Narendra Modi- Rahul Gandhi

নরওয়ে সফরে প্রধানমন্ত্রী, আদানি-খোঁচা রাহুলের

এই দু’টি সংবাদকে পাশাপাশি রেখে আজ রাহুল গান্ধী এই সফরের উদ্দেশ্য নিয়ে প্রশ্ন তুললেন। তাঁর প্রশ্ন, ‘‘মোদীজি, আদানিকে লগ্নির কালো তালিকা থেকে সরাতে আপনার ব্যক্তিগত অনুরোধে নরওয়ে কি রাজি হয়েছে?”

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ২০ মে ২০২৬ ১০:১২
Share:

(বাঁ দিকে) নরেন্দ্র মোদী এবং রাহুল গান্ধী (ডান দিকে)। — ফাইল চিত্র।

গত ২৭ ফেব্রুয়ারি নরওয়ে সরকারের সার্বভৌম পেনশন তহবিল সিদ্ধান্ত নিয়েছিল, শিল্পপতি গৌতম আদানির আদানি গ্রিন এনার্জি সংস্থায় আর লগ্নি করবে না। ‘দুর্নীতি ও আর্থিক অপরাধ’-এর ছাঁকনিতে এই সংস্থাকে বাদ দেয় নরওয়ে। তার ঠিক তিন মাসের মাথায়, ১৮ মে নরওয়ে সফর শুরু করলেন নরেন্দ্র মোদী, যা ৪৩ বছর পরে কোনও ভারতীয় প্রধানমন্ত্রীর সে দেশে সফর।

এই দু’টি সংবাদকে পাশাপাশি রেখে আজ রাহুল গান্ধী এই সফরের উদ্দেশ্য নিয়ে প্রশ্ন তুললেন। তাঁর প্রশ্ন, ‘‘মোদীজি, আদানিকে লগ্নির কালো তালিকা থেকে সরাতে আপনার ব্যক্তিগত অনুরোধে নরওয়ে কি রাজি হয়েছে?” নরওয়ে সরকারের প্রায় ২ লক্ষ কোটি ডলারের পেনশন তহবিল বিশ্বের বৃহত্তম সম্পদ তহবিল। যারা বিশ্বের বিভিন্ন সংস্থায় লগ্নি করে। ফেব্রুয়ারি মাসে এই পেনশন তহবিল পরিচালনা সংস্থা ‘নরজেস ব্যাঙ্ক ইনভেস্টমেন্ট ম্যানেজমেন্ট’ আদানি গ্রিন এনার্জিকে লগ্নির তালিকা থেকে বাদ দেয়। গত বছর পর্যন্তও আদানিদের এই সংস্থায় নরওয়ের প্রায় ৪ কোটি ৩৯ লক্ষ ডলার লগ্নি ছিল। তার আগে ২০২৪-এর মে মাসে নরওয়ের ওই সরকারি তহবিল থেকে আদানি পোর্টস সংস্থায় লগ্নি বন্ধ হয়ে যায়। কংগ্রেস নেতাদের অভিযোগ, এই কারণেই ৪৩ বছর পরে কোনও ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী হিসেবে মোদী নরওয়ে গিয়েছেন। এর আগে রাহুল অভিযোগ তুলেছিলেন, আমেরিকায় আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ থেকে নিজের বন্ধু আদানিকে বাঁচাতে ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে আপস করে বাণিজ্য চুক্তিতে রাজি হয়েছেন মোদী।

সোমবারই ট্রাম্প প্রশাসন গৌতম আদানির বিরুদ্ধে ফৌজদারি প্রতারণার মামলা প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। আদানির একটি সংস্থার বিরুদ্ধে ইরানের উপরে নিষেধাজ্ঞা লঙ্ঘনের অভিযোগও তুলে নিয়েছে। আমেরিকার অভিযোগ ছিল, নরওয়ের পেনশন তহবিল যে আদানি গ্রিন এনার্জি সংস্থায় লগ্নি না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল, সেই সংস্থাই ভারতে সরকারি কর্তাদের ২৬.৫০ কোটি ডলার ঘুষ দিয়ে সৌর বিদ্যুৎ প্রকল্পের বরাত আদায় করেছিল। তার পরে সেই বরাত দেখিয়ে আমেরিকার লগ্নিকারীদের থেকে টাকা তুলেছিল। এই মামলা প্রত্যাহারের আগে আদানি গোষ্ঠী আমেরিকায় ১ হাজার কোটি ডলার লগ্নির সিদ্ধান্ত নিয়েছে। আমেরিকায় ইরানের উপর নিষেধাজ্ঞা লঙ্ঘন করে এলপিজি আমদানির অভিযোগের মুখে পড়েছিল আদানি এন্টারপ্রাইজ়ও। মামলা মেটানোর বিনিময়ে আদানিরা ২৭.৫০ কোটি ডলার দিতে রাজি হয়েছে।

কংগ্রেস নেতা মাণিকম টেগোরের দাবি, ‘‘রাহুল যা বলেছিলেন, সেটাই হল। নরেন্দ্র মোদী বাণিজ্য চুক্তিতে রাজি হওয়ায় আদানিদের বিরুদ্ধে আমেরিকা মামলা তুলে নিল।’’ রাহুল এ দিনও একই অভিযোগ করে সতর্ক করেছেন, পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধ ও জ্বালানির অভাবের ফলে দেশে বিরাট আর্থিক সঙ্কট আসছে। তার ধাক্কা অম্বানী, আদানিদের উপরে পড়বে না। চাষি, শ্রমিক, তরুণ, ছোট ব্যবসায়ীদের এর খেসারত দিতে হবে। আদানিদের বিরুদ্ধে আমেরিকা মামলা প্রত্যাহার করায় বিজেপির শাহনওয়াজ হুসেনের অবশ্য মন্তব্য, ‘‘সত্যের জয় হয়েছে।’’

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন

এটি একটি প্রিমিয়াম খবর…

  • প্রতিদিন ২০০’রও বেশি এমন প্রিমিয়াম খবর

  • সঙ্গে আনন্দবাজার পত্রিকার ই -পেপার পড়ার সুযোগ

  • সময়মতো পড়ুন, ‘সেভ আর্টিকল-এ ক্লিক করে

সাবস্ক্রাইব করুন