রাহুল গান্ধী। —ফাইল চিত্র।
ভারত-আমেরিকা বাণিজ্য চুক্তি করে মোদী সরকার ‘ভারতমাতা’-কে বেচে দিয়েছে এবং কৃষকদের পিঠে ছুরি মেরেছে বলে অভিযোগ তোলার পরে রাহুল গান্ধী এ বার এ নিয়ে রাস্তায় নামতে চাইছেন।
আজ রাহুল দিল্লিতে বিভিন্ন কৃষক সংগঠনের ১৭ জন নেতার সঙ্গে বৈঠক করেছেন। সেখানে কৃষক নেতারাও মতামত দিয়েছেন, ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে মোদী সরকারের এই অন্তর্বর্তী বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে জাতীয় স্তরে বড় মাপের আন্দোলন গড়ে তোলা প্রয়োজন। এই চুক্তিতে সে দেশের কৃষি পণ্যের জন্য ভারতের বাজারের দরজা কিছুটা হলেও মোদী সরকারকে খুলতে হয়েছে। বিশেষ করে সয়াবিন তেল ও সয়াবিন থেকে তৈরি পশুখাদ্যের বাজার খোলায় মধ্যপ্রদেশ, মহারাষ্ট্রের সয়াবিন চাষিদের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি হয়েছে। তার সঙ্গে ভুট্টা, তুলো, ফল ও বাদাম আমদানির অনুমতি দেওয়ায়রাহুল অভিযোগ তুলেছেন, ভবিষ্যতে আরও কৃষিপণ্যের দরজা খোলা হবে। দেশের চাষিরা আমেরিকার ধনী চাষিদের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় মার খাবেন।
বৃহস্পতিবার রাহুল গ্রেসের সংসদীয় দলের বৈঠকেও সাংসদদের এ নিয়ে প্রচারে নামার নির্দেশ দিয়েছিলেন। এর পরে শুক্রবার তিনি সংসদ ভবনে লোকসভার বিরোধী দলনেতার অফিসে কৃষক নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করায় মোদী সরকারও চিন্তায় পড়েছে। মোদী সরকারের তরফে বাণিজ্যমন্ত্রী পীযূষ গয়াল ও কৃষিমন্ত্রী শিবরাজ সিংহ চৌহান পাল্টা বিবৃতিতে দাবি করেছেন, রাহুল অপপ্রচার করছেন। কৃষকদের স্বার্থ রক্ষা করেই বাণিজ্য চুক্তি হয়েছে।
বিরোধী শিবিরের অভিযোগ, মোদী সরকার বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে প্রশ্নের ভয়ে সংসদে বাণিজ্য মন্ত্রক ও বিদেশ মন্ত্রকের কাজকর্ম নিয়ে আলোচনায় রাজি হচ্ছে না। বাজেট অধিবেশনের দ্বিতীয় পর্বে বিরোধীদের দাবি ছিল, বিদেশ মন্ত্রক ও বাণিজ্য মন্ত্রকের ব্যয়বরাদ্দ নিয়ে আলোচনা হোক। কংগ্রেস, তৃণমূল-সহ ১৭টি বিরোধী দল এই দাবি তুললেও সরকার তাতে রাজি হয়নি। মোদী সরকার শুধু গ্রামোন্নয়ন ও পরিবেশ মন্ত্রকের বরাদ্দ নিয়ে আলোচনায় রাজি হয়েছে। রাজ্যসভায় তৃণমূলের দলনেতা ডেরেক ও’ব্রায়েন বলেন, ‘‘আমেরিকার সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে প্রশ্ন উঠবে বলে ভয়ের চোটেই সরকার বিদেশ ও বাণিজ্য মন্ত্রক নিয়ে আলোচনায় যেতে চাইছে না।’’
লোকসভায় রাহুল বলেছিলেন, ট্রাম্প-প্রশাসনের চাপের মুখে প্রধানমন্ত্রী এই চুক্তিতে রাজি হয়েছেন। এরপরে বিজেপি লোকসভা থেকে তাঁকে অপসারণের দাবিতে প্রস্তাব এনেছে। রাহুলের বক্তব্যের বিতর্কিত অংশ সংসদের রেকর্ড থেকে মুছে দেওয়া হয়েছে। একই ভাবে রাজ্যসভাতেও বিরোধী দলনেতা তথা কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খড়্গের বক্তব্যের অনেক অংশ মুছে দেওয়া হয়েছে।
প্রতিদিন ২০০’রও বেশি এমন প্রিমিয়াম খবর
সঙ্গে আনন্দবাজার পত্রিকার ই -পেপার পড়ার সুযোগ
সময়মতো পড়ুন, ‘সেভ আর্টিকল-এ ক্লিক করে