গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম।
‘শ্রীরাম জন্মভূমি তীর্থক্ষেত্র ট্রাস্ট’-এর সাধারণ সম্পাদকপদ থেকে চম্পত রায় এবং ট্রাস্টিপদ থেকে অনিল মিশ্রের দেওয়া ইস্তফাপত্র হাতে এসেছে, শনিবার এমনটাই জানানো হয়েছে ট্রাস্টের তরফে। তারা আরও জানিয়েছে, পরবর্তী বৈঠকে এই ইস্তফার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। মন্দিরে জমা পড়া প্রণামী নিয়ে অনিয়মের অভিযোগ ওঠার পরে প্রথম বার বিবৃতি দিয়ে ট্রাস্ট জানাল, স্বচ্ছ তদন্ত যাতে হয়, তা নিশ্চিত করতে বদ্ধপরিকর তারা। ভক্তদের আস্থা পুনরুদ্ধার করা হবে। ভক্তেরা প্রণামী বাবদ যে গয়নাগাটি, রুপোর ইট দিয়েছিলেন, তা ‘সুরক্ষিত’ বলেও বিবৃতিতে জানিয়েছে ট্রাস্ট।
ট্রাস্টের তরফে প্রকাশিত বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘‘অযোধ্যার রামমন্দিরে যে ঘটনা সম্প্রতি প্রকাশ্যে এল, তা নিয়ে আমরা স্তম্ভিত, গভীর ভাবে ব্যথিত। রামভক্ত এবং সেবকদের প্রতিনিধি হিসাবে আমরা বদ্ধপরিকর, যে এই ঘটনায় স্বচ্ছ তদন্ত হবে। ভক্তদের আস্থা ফেরানো হবে।’’ বিবৃতিতে এ-ও জানানো হয়েছে যে, চম্পত এবং অনিলের ইস্তফাপত্র তারা পেয়েছে। পরবর্তী বৈঠকে সেই নিয়ে আলোচনা হবে।
ভক্তদের দেওয়া প্রণামী সুরক্ষিত রয়েছে বলেও জানিয়েছে তারা। বিবৃতিতে আরও বলেছে, ‘‘ভক্তেরা ব্যক্তিগত ভাবে যে রুপোর ইট, গয়না, অন্য জিনিস প্রণামী হিসাবে আধিকারিকদের দিয়েছেন, সেগুলি সুরক্ষিত রয়েছে। ট্রাস্ট তা নিশ্চিত করছে।’’ উত্তরপ্রদেশ সরকারের গঠিত সিট-এর (বিশেষ তদন্তকারী দল) রিপোর্টের ভিত্তিতে এফআইআর করা হয়েছে। আইনি প্রক্রিয়া চলছে বলে জানিয়েছে ট্রাস্ট।
রামমন্দিরে জমা পড়া প্রণামী নিয়ে অনিয়মের অভিযোগের তদন্তে দায়িত্বপ্রাপ্ত সিট মঙ্গলবার এ সংক্রান্ত প্রাথমিক রিপোর্ট জমা দিয়েছিল। তার পরে ‘সিট’-এর সুপারিশ মেনে বৃহস্পতিবার ‘শ্রীরাম জন্মভূমি তীর্থক্ষেত্র ট্রাস্ট’-এর তরফে পুলিশের কাছে আনুষ্ঠানিক ভাবে আট জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করেন অন্যতম ট্রাস্টি কৃষ্ণ মোহন। তার ভিত্তিতে এফআইআর দায়ের করে রাতেই আট অভিযুক্তকে গ্রেফতার করে পুলিশ। এঁদের মধ্যে রয়েছেন, রামশঙ্কর যাদব ওরফে টিন্নু, লবকুশ মিশ্র, অনুকল্প মিশ্র, অবিনাশ শুক্ল, মণীশকুমার যাদব, করুণেশ পাণ্ডে, রমাশঙ্কর মিশ্র এবং সুভাষ শ্রীবাস্তব। তাঁদের কয়েক জনের ঠিকানা থেকে ‘হিসাব-বহির্ভূত’ ৮০ লক্ষ টাকা উদ্ধার করা হয়। ঘটনাচক্রে, ধৃতদের একাংশের সঙ্গে চম্পত, অনিল, দু’জনেরই ‘যোগাযোগ’ সম্পর্কিত তথ্য মিলেছে।