— প্রতীকী চিত্র।
আইপিএল ম্যাচ দেখে বাইকে বাড়ি ফিরছিল। বাবার সঙ্গে কথা বলছিল ফোনে। বলেছিল, “খুব মজা হয়েছে। আধ ঘণ্টার মধ্যেই বাড়ি চলে আসছি।” তার কিছু ক্ষণ পরেই জোরে শব্দ এবং পর ক্ষণেই সব শান্ত। ফোনের অপর প্রান্ত থেকে বেশ কয়েক বার ‘হ্যালো’, ‘হ্যালো’ করলেও ১৪ বছর বয়সি অভব ভাটিয়ার কোনও উত্তর পাননি তাঁর বাবা। পরে জানতে পারেন, দুর্ঘটনায় মৃত্যু হয় তাঁর পুত্রের।
সোমবার দিল্লি ক্যাপিটাল্স এবং রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরুর ম্যাচ ছিল। তুতো দাদা যজ্ঞের (২০) সঙ্গে ওই ম্যাচ দেখতে গিয়েছিল অভব। খেলা দেখে বাইকে চেপে ফিরছিল দু’জনে। যজ্ঞ বাইক চালাচ্ছিলেন, পিছনের আসনে বসে ছিল অভব। ছেলে কত ক্ষণে বাড়ি ফিরবে, তা জানতে রাত সাড়ে ১০টা নাগাদ অভবকে ফোন করেছিলেন তাঁর বাবা সুমিত ভাটিয়া। ফোনে কথা বলার সময়ে অভব তাঁকে জানায়, দারুণ সময় কেটেছে। খুব মজা হয়েছে তাদের। আধ ঘণ্টার মধ্যেই বাড়ি ফিরে আসবে, সে কথাও জানায়। ছেলেকে ফোন না কাটার জন্য বলেছিলেন সুমিত। অভবও তা-ই করে।
ম্যাচ দেখার অভিজ্ঞতার কথা বাবাকে বলছিল অভব। সুমিতও মন দিয়ে শুনছিলেন ছেলের কথা। হঠাৎই একটি বিকট শব্দ, আর তারপরেই সব শান্ত হয়ে যায়। সুমিত ফোনের ও পার থেকে বেশ কয়েক বার অভবের নাম ধরে ডাকেন। কিন্তু কোনও সাড়াশব্দ পাননি। কয়েক মিনিট পর, অভবের বদলে এক অপরিচিত কণ্ঠ ভেসে সুমিতের ফোনে। তিনিই সুমিতকে জানান, তাঁর ছেলে দুর্ঘটনার শিকার হয়েছে। মধ্য দিল্লির অশোক রোডে একটি ট্রাকের চাকায় পিষে মৃত্যু হয় অভব এবং তাঁর তুতো দাদা যজ্ঞের। পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছোনোর আগে পর্যন্ত দু’জনের দেহ রাস্তাতেই পড়ে ছিল।
পুলিশ ইতিমধ্যে ঘাতক ট্রাকটিকে আটক করেছে। তবে ট্রাকের চালক এখনও পলাতক। তাঁর খোঁজ চালাচ্ছেন তদন্তকারীরা।